অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৭ এএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৮ এএম
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি এড়াদে টিকা কার্যক্রম এখন থেকে আরও জোরদার করতে হবে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, বাচ্চারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক রোগী মারা গেছে। হাসপাতাল রোগীতে সয়লাব। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতালে এত রোগী যে, কোনো কোনো হাসপাতালে একটা বেডে তিন-চারজন করে রোগী থাকতে বাধ্য হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছিÑ কোনো কোনো হাসপাতালের ফ্লোরে জায়গা নাই, বারান্দায়ও জায়গা নাই। এটা একটা সমস্যা। এই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেÑ হামে আক্রান্ত একই সঙ্গে অনেক বাচ্চার শারীরিক পরিস্থিতি খুব জটিল হয়ে গেলে আইসিইউর প্রয়োজন হয়। আমাদের আইসিইউর সুবিধা সীমিত। অনেকে আইসিইউ পাওয়ার পরেও মারা গেছে।
সুতরাং এ বিষয়ে সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা স্বাস্থ্য প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ রোগটা ভাইরাসজনিত রোগ। এটা আগেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে। তবে রোগটা কিন্তু সহজে প্রতিরোধযোগ্য। প্রতিকারের মূল হলোÑ সময়মতো টিকা দেওয়া।
হঠাৎ হামের প্রকোপ বাড়ছে। তার কারণ হলো গত দুই বছর টিকার কার্যক্রম বলতে গেলে কিছু ছিল না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা, দূরদর্শিতার অভাব বা খামখেয়ালিপনা এই ত্রুটির জন্য দায়ী। এজন্য প্রশাসনকে আরও তৎপর থাকতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে না হয়, তার জন্য টিকা কার্যক্রম এখন থেকে আরও জোরদার করতে হবে।
অনেকের মধ্যে কুসংস্কার আছে, সেটা যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট হলো জনগণের দায়িত্ব, বিশেষ করে ছোট বাচ্চার বাবা মা বা অভিভাবক বা আত্মীয়দের এ বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। সেজন্য গ্রামগঞ্জে, জেলা-উপজেলায় সর্বস্তরের জনগণকে এখানে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষকদেরও প্রচার চালাতে হবে। এমনকি গণ্যমান্য ব্যক্তি যেমনÑ মসজিদের ইমাম তাদেরকে এ কাজে যুক্ত হতে হবে। জনগণ, প্রশাসন সবাই মিলে যদি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে এই ঝুঁকি থেকে দেশের মানুষকে, আমাদের বাচ্চাদের বাঁচাতে পারব।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়