× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুঃসহ গরমে লোডশেডিং অসহনীয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১০ পিএম

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৪ পিএম

ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র চলছে তাপপ্রবাহ। তীব্র গরমে অস্থির হয়ে পড়ছে জনজীবন। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র চলছে তাপপ্রবাহ। তীব্র গরমে অস্থির হয়ে পড়ছে জনজীবন। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র চলছে তাপপ্রবাহ। তীব্র গরমে অস্থির হয়ে পড়ছে জনজীবন। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের সংকটে বিদ্যুতের উৎপাদন কমে গেছে। যদিও সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, লোডশেডিং জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। শহর থেকে গ্রামÑ কোথাও যেন বিদ্যুতের স্থিতিশীল সরবরাহ নেই। দিন-রাত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে শিল্পোৎপাদন। বিদ্যুৎ-ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের কৃষি খাতেও। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ থাকছে না দীর্ঘ সময় ধরে। কোনো কোনো স্থানে লোডশেডিং হচ্ছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত। এ পরিস্থিতিতে কৃষকরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। মাথায় হাত পড়েছে শিল্পোদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে, চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে সবচেয়ে বেশি বিপদে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য বলছে, মঙ্গলবার শুরুর প্রথম ঘণ্টায় অর্থাৎ রাত ১টায় সারা দেশে ১ হাজার ৮৫৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। এই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৪৫৭ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুর ১২টায় ১৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৬৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ তখনও ১ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। ফলে এই মুহূর্তে জ্বালানি ও গ্যাস নিয়ে চাপে থাকা বিদ্যুৎ খাত চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, বিদ্যুৎ খাতে এত বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা সত্ত্বেও কেন এই সংকট?

জানা গেছে, দেশে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার ২৬৯ মেগাওয়াট। তবে তত্ত্বাবধানের অভাবসহ নানা কারণে বছরের পুরো সময় এ সক্ষমতার অর্ধেক অলস বসে থাকে। এই মুহূর্তে বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা অথবা সক্ষমতার চেয়ে কম উৎপাদন করায় সরবরাহের ঘাটতি আরও বেড়েছে। এতে সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত হয়ে গেছে। 

জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৮টি কেন্দ্র ও প্রধান ইউনিটের মধ্যে ৯টিই বন্ধ। খুলনায় ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বর্তমানে বন্ধ। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিলেটে তিনটি কেন্দ্রে উৎপাদন হচ্ছে না। এসব কারণে উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণেই এই কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লোডশেডিংয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু সেই চাহিদা মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতির অভাবই বারবার সংকটকে প্রকট করে তোলে। তীব্র দাবদাহে একটু স্বস্তির আশায় মানুষ যখন বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখনই লোডশেডিং চরম ভোগান্তি ডেকে আনে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার হচ্ছেন। শিক্ষাকার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছেÑ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছে না। 

অন্যদিকে, শিল্প খাতের ক্ষতির পরিমাণ আরও উদ্বেগজনক। উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তেমনি রপ্তানি খাতেও সৃষ্টি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। ফলে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মুখে বহু কারখানা বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে বাজারমূল্যে। সেচনির্ভর চলমান বোরো মৌসুমে লোডশেডিংয়ের কারণে সেচকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফসলের ফলন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

আসলে বিগত কয়েক বছর ধরেই গরমে লোডশেডিং বাড়ছে। এর পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক কারণ। গ্যাস সংকট, জ্বালানি আমদানির সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী পূর্ণ উৎপাদন না হওয়া এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবÑ সব মিলিয়ে এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে অনিয়ম ও অপচয় কমানো যায়। তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে বিকল্প উৎস তৈরি করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান দিতে পারে।

বিদ্যুতের ঘাটতি বর্তমান সময়ে কীভাবে মেটানো যায়, কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা যায়Ñ সরকারকে সেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আমরা মনে করি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুটি সমাধানের ওপর সরকারের সফলতা ও জনপ্রিয়তার মানদণ্ড নির্ভর করছে। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে গভীরভাবে ভাবতে হবে। এই সংকট নিরসনে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। বিদ্যুৎ শুধু একটি সেবা নয়Ñ এটি আধুনিক জীবনের মৌলিক উপকরণ। তাই দেশবাসীকে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা