× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিন্ডিকেটের বেড়াজাল ভাঙতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২০ পিএম

সিন্ডিকেটের বেড়াজাল ভাঙতে হবে

দেশের নদীমাতৃক পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ’ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ব্রিজ ক্লিয়ারেন্স (এনওসি) প্রদান প্রক্রিয়া একটি চক্রের হাতে বন্দি হয়ে আছে। সংস্থাটি ঘিরে অনিয়ম, হয়রানি ও আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে নৌপথ ব্যবহার, জেটি নির্মাণ, ড্রেজিং কিংবা যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এনওসি অপরিহার্য হলেওÑ এসবের অনুমোদন ও সহযোগিতা পেতে উদ্যোক্তা-নাগরিকদের নানামুখী বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। বলা যায়, এই প্রক্রিয়া ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও দালাল চক্র মিলে এনওসি প্রাপ্তিকে একটি ‘বাণিজ্যে’ রূপ দিয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হন এই সিন্ডিকেটের শরণাপন্ন হতে। অনৈতিকভাবে দ্রুত এনওসি পাইয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সরকারি এই সেবা-প্রক্রিয়াকে আগের মতোই নিয়ন্ত্রণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এর নেপথ্যে রয়েছে সংস্থাটির নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম। এসব অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রণালয় থেকে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও উচ্চপর্যায়ের যোগসাজশের কারণে ‘শর্ষের ভেতর ভূত’ লুকিয়ে আছে। যাদের বিরুদ্ধে সন্দেহের তীর, তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা আজ প্রশ্নের মুখে।


গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘এখনও সিন্ডিকেটের দাপট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যথাÑ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, রেলওয়ে বা বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংস্থা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএর অনাপত্তিপত্রের দরকার হয়। সংশ্লিষ্টদের অনৈতিক আর্থিক সুবিধা না দিলে আবেদন ‘রিভিউ’ বা ‘পেন্ডিং’ দেখিয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব করা বা আটকে রাখা হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে এবং সরকারি ব্যয় বাড়ে। এমন অভিযোগও রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শনের নামে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ভ্রমণ ব্যয়, থাকা-খাওয়ার সুবিধা আদায় করেন।


ঘুষের বিনিময়ে প্রায়ই নদীর শ্রেণিবিন্যাস ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করে সেতুর উচ্চতা কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয় ও জীবনযাত্রার মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর শ্রেণিবিন্যাসে ভুল হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিআইডব্লিউটিএ দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাই এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও জন-আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং নৌপথ ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।


বিআইডব্লিউটিএ-এর এসব দীর্ঘসূত্রতা যেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। একটি ফাইল মাসের পর মাস এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরে বেড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে, বাড়ে ব্যয়, আর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। উন্নয়নবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এই ধরনের আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থাপনা মোটেই কাম্য নয়।


আমরা মনে করি, স্বচ্ছতার অভাব এই ধরনের সংস্থার কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলবে। কোনো আবেদন কেন আটকে আছে, কী কারণে বাতিল হচ্ছে বা কতদিনে নিষ্পত্তি হবেÑ এসব বিষয়ে আবেদনকারীদের কোনো পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয় না। আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার যুগে এমন অস্বচ্ছতা সত্যিই হতাশাজনক। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন জাগেÑ কার স্বার্থে এই জটিলতা? উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত করে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে কারা লাভবান হচ্ছে? উত্তরটি সহজÑ দুর্নীতিগ্রস্ত একটি চক্র, যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পুরো ব্যবস্থাকে জিম্মি করে রেখেছে।


এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমরা জরুরি কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করছিÑ প্রথমত, এনওসি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, দালাল চক্র নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। আমরা মনে করি, সরকার যদি সত্যিই এ ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে এই দুর্নীতির লাগাম টানতেই হবে। ভেঙে দিতে হবে সব ধরনের সিন্ডিকেটের বেড়াজাল।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা