মো. ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:১৪ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনীতি গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী এখনও দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বাস্তবতায় বসবাস করছে। বিশেষ করে, নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে ক্রমাগত কঠিন করে তুলছে। এই বাস্তবতায় সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে সব সময়েই বিবেচিত হয়ে আসছে।
এ প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যেমনÑ ভিজিএফ কার্ড বিতরণ, বিধবা ভাতা প্রদান, টেস্ট রিলিফসহ ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ব্যবস্থা চালু করা ইত্যাদি।
তবে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র জনগণের জন্য সরকার পরিচালিত খাদ্য-সহায়তা কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম হলো ওপেন মার্কেট সেল বা ওএমএস পদ্ধতি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে চাল ও অন্য খাদ্যসামগ্রী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিক্রি করা হয়। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, এই ব্যবস্থায় বহু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
উপকারভোগীদের তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য এবং পণ্য সরবরাহে অনিয়ম প্রায়শই দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত দরিদ্র মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, আর সুবিধা চলে যায় তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের হাতে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নীতি আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এই কর্মসূচিকে অনেকেই বর্তমান সরকারের একটি ‘ব্রেইন-চাইল্ড’ বা কেন্দ্রীয় সামাজিক নীতি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন, যার মূল লক্ষ্য নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা এবং পরিবার-ভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ফ্যামিলি কার্ড
মূলত একটি ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড, যার মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত
আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সরকার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে
মাসে প্রায় ২৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে এবং এই অর্থ সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং বা
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এই কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ
বৈশিষ্ট্য হলো, কার্ডটি
সাধারণত পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে, যাতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
নিশ্চিত করা যায়।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কর্মসূচি প্রথমে একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে দেশের প্রায় দুই কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা ও জেলার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সীমিত সংখ্যক পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী পাইলট প্রকল্প চার মাস চলবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েক হাজার পরিবার অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা ধাপে ধাপে ২ কোটি পরিবারে সম্প্রসারণ করা হবে।
কার্ডগুলো কিউআর কোড-ভিত্তিক ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড হবে। বর্তমানে এই পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে এবং বাকিটা ব্যবস্থাপনা ও তথ্য সংগ্রহে ব্যয় হবে। এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উপকারভোগী নির্বাচন। এজন্য সরকার একটি ‘পোভার্টি মিন্স টেস্ট’ (পিএমটি) বা দারিদ্র্য সূচক ব্যবহার করছে। যেমন প্রতিটি পরিবারের মাসিক আয়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বাসস্থানের অবস্থা, সম্পদের মালিকানা এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থান অবস্থা। যেসব পরিবার সরকারি চাকরি, ব্যবসা বা উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক তারা এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা
করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক লক্ষ্য রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে
গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রথমত, নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে নগদ অর্থ গেলে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ছোট ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতি কিছুটা চাঙ্গা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক নিরাপত্তা শক্তিশালী হলে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তৃতীয়ত, এটি একটি বড় আকারের ক্যাশ ট্রান্সফার প্রোগ্রাম হওয়ায় সরকারের বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদি ২ কোটি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসে এবং প্রতি পরিবারকে মাসে ২৫০০ টাকা দেওয়া হয়, তবে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমনÑ ১. উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করা। ২. একইভাবে বাজেট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে এই কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হলে একটি স্থায়ী অর্থায়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। এতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। ৩. যেকোনো সামাজিক কর্মসূচির মতো এটিও রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে সঠিকভাবে যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাংলাদেশের
সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হতে পারে নবতর সংযোজন। তবে এই কর্মসূচির সাফল্য অনেকাংশে
নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার
ওপর। যদি কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত
করা যায়, তাহলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা
ব্যবস্থায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এই কর্মসূচিকে অর্থবহ এবং টেকসই করতে হলে ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর একটা রেশনিং ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ইতোপূর্বে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নির্বাচন এবং বিতরণে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মের প্রেক্ষাপটে এর বিকল্প হিসেবে, একসময় ‘ডিজিটাল রেশন কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর একটি ধারণা সামনে আসে। এই ধারণার মূল লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তি-নির্ভর একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা তৈরি করা। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক উপকারভোগীর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি করা। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় স্থাপিত বিতরণ কেন্দ্র থেকে নিয়মিতভাবে নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করা।
ডিজিটাল রেশন কার্ড ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, এতে খাদ্যসামগ্রী সরাসরি দরিদ্র জনগণের কাছে পৌঁছানোর একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা তৈরি করা। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি পরিবারকে মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি এবং আটা সরবরাহ করা। এতে প্রতিটি বিতরণ কেন্দ্রে ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা থাকলে একজন উপকারভোগী একাধিকবার সুবিধা নিতে পারবেন না। ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসতে পারে। তবে এই ব্যবস্থার কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
প্রথমত, একটি কার্যকর রেশন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হলে শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত গুদামজাত সুবিধা এবং দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণে বড় ধরনের লজিস্টিক ব্যয় জড়িত থাকে। তৃতীয়ত, স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি দুর্বল হলে আবারও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে বর্তমানে আলোচনায় থাকা ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা মূলত একটি নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচি। এই ব্যবস্থায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে একটি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে এবং সেই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। এই ব্যবস্থার প্রধান সুবিধা হলোÑ এটি পরিচালনা তুলনামূলকভাবে সহজ। পণ্য ক্রয়, সংরক্ষণ, পরিবহন বা বিতরণের মতো জটিল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন নেই।
মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীর কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমে যায় এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও কম থাকে। তবে নগদ সহায়তা ব্যবস্থারও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নগদ অর্থ হাতে পাওয়ার পর তা খাদ্য ক্রয়ে ব্যয় হবে কি না, তা নিশ্চিত করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো অন্যান্য জরুরি খাতে সেই অর্থ ব্যয় করতে পারে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল লক্ষ্য আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল্যস্ফীতি।
যদি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বাজারে প্রবাহিত হয়, তাহলে খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা বেড়ে গিয়ে
বাজারমূল্য আরও বাড়তে পারে। ফলে যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা মূল্যস্ফীতির চাপে দ্রুতই
অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে সামাজিক
কাঠামো ও পারিবারিক ব্যয়ের ধরন বিবেচনা করলে দেখা যায়, অনেক সময় নগদ সহায়তা পরিবারের
নারী সদস্যদের হাতে না গিয়ে পুরুষ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এতে খাদ্য নিরাপত্তা
নিশ্চিত করার লক্ষ্য দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
এই বাস্তবতায় অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন যে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একক কোনো মডেল পুরোপুরি কার্যকর নাও হতে পারে। বরং একটি সমন্বিত বা হাইব্রিড ব্যবস্থা অধিক কার্যকর হতে পারে। এই ধরনের একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড/ ডিজিটাল রেশন কার্ড ব্যবস্থাকে মূল ভিত্তি হিসেবে রাখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে নগদ সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে, যাতে তারা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করার সুযোগ পায়।
এ ছাড়া প্রযুক্তি-নির্ভর ডেটাবেজ তৈরি করা হলে উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়াও অনেক বেশি স্বচ্ছ করা সম্ভব। জাতীয় পরিচয়পত্র, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডেটাবেজ এবং আয়-সংক্রান্ত তথ্য একত্রিত করে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা গেলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা সহজ হবে। স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডভিত্তিক ডিজিটাল বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করলে খাদ্য-সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে নাগরিক পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতির সুযোগও কমে যাবে।
সবশেষে বলা যায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ফ্যামিলি কার্ড হোক কিংবা ডিজিটাল রেশন কার্ড উভয় ব্যবস্থার লক্ষ্যই সেই দায়িত্ব পালনে সহায়ক হওয়া। তবে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে আবেগ বা রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে প্রযুক্তি-নির্ভর একটি স্বচ্ছ রেশন ব্যবস্থা এবং সীমিত নগদ সহায়তার সমন্বিত প্রয়োগ। এতে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। সঠিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই ধরনের একটি আধুনিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
মো. ইলিয়াস হোসেন
সাবেক সেনা কর্মকর্তা