× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিক্ষার মানোন্নয়নে সাড়া জাগানো উদ্যোগ

আহসান হাবিব বরুন

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪৫ পিএম

শিক্ষার মানোন্নয়নে সাড়া জাগানো উদ্যোগ

একটি জাতির অগ্রযাত্রার প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে তার শিক্ষাব্যবস্থা। অর্থনীতি, রাজনীতি কিংবা প্রযুক্তিগত উন্নয়Ñ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ। তাই শিক্ষাকে যথার্থই বলা হয় জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু এই মেরুদণ্ড যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন জাতির সামগ্রিক অগ্রগতি শুধু থেমে যায় নাÑ বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাও সংকুচিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাস্তবতায় এই সংকট গভীরভাবে দৃশ্যমান হয়েছে, যা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মান, উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

পতিত স্বৈরাচার আমলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার বিস্তার ঘটেছেÑ নতুন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই পরিমাণগত অগ্রগতি গুণগত উন্নয়নের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করা অনেক শিক্ষার্থীই শুদ্ধভাবে বাংলা বা ইংরেজিতে নিজের ভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে নাÑ এমন বাস্তবতা এখন আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ফলে শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ছে, আর যে মানবসম্পদ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তি হওয়ার কথা, তা অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রের জন্য বোঝায় পরিণত হচ্ছে।

এই অবস্থার পেছনে বহুমাত্রিক কারণ রয়েছে। নকল ও প্রশ্নফাঁসের সংস্কৃতি, মুখস্থনির্ভর শিক্ষা, সৃজনশীলতার অভাব এবং দুর্বল মূল্যায়ন ব্যবস্থাÑ সব মিলিয়ে শিক্ষার ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। শিক্ষার লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল সনদ অর্জন, জ্ঞান অর্জন নয়। এর ফলে শিক্ষার প্রতি একধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে, যা একটি জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের উদ্যোগÑ বিশেষ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শিক্ষা সংস্কারের প্রচেষ্টাÑ একটি নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের নেতৃত্বে ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা’ নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি সাহসী এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটি শুধু প্রশাসনিক কঠোরতা নয়; বরং শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, সততা এবং জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি প্রয়াস।


এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি নীতিমালা ও জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনবে। একই সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতি পুনরায় চালু করা হয়েছেÑ যা পরীক্ষার হলে অসাধু পন্থার বিরুদ্ধে একটি কার্যকর মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে শুধু পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারই যথেষ্ট নয়। সরকার ইতোমধ্যে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তার এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। কারণ বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতা শুধু তথ্য জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং বাস্তবজ্ঞানই একজন শিক্ষার্থীকে এগিয়ে রাখে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা এখন সময়ের দাবি।

তবে এই পরিবর্তনের পথ মোটেই সহজ নয়। গ্রাম ও শহরের মধ্যে শিক্ষার বৈষম্য এখনও প্রকট, অনেক এলাকায় শিক্ষক সংকট রয়েছে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বড় বাধা। এসব সমস্যা সমাধান ছাড়া কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

শিক্ষা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সমষ্টিগত সামাজিক প্রক্রিয়া। অভিভাবকদের সচেতনতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়Ñ এই তিনের সমন্বয় ছাড়া একটি কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বিশেষ করে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের মতো মূল্যবোধ শিক্ষার মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত না হলে একটি পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি হয় না।

পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ একটি ইতিবাচক সূচনা মাত্র। এই উদ্যোগকে টেকসই করতে হলে ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নকলমুক্ত পরীক্ষা, নিয়ন্ত্রিত ও মানসম্মত শিক্ষা কাঠামো এবং কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়াÑ এসব পদক্ষেপ যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একদিন সত্যিই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে।

এতে আমার ন্যূনতম সন্দেহ নেই। আর সে দিনই হয়তো গড়ে উঠবে একটি দক্ষ, সৃজনশীল, নৈতিক ও দায়িত্বশীল প্রজন্মÑ যারা শুধু নিজেদের নয়, বরং পুরো জাতির অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসে।


 আহসান হাবিব বরুন   

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা