× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভোজ্য তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫০ পিএম

সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের তালিকায় সয়াবিন তেল এক অপরিহার্য উপাদান। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের তালিকায় সয়াবিন তেল এক অপরিহার্য উপাদান। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

হঠাৎ করে বাজার থেকে ভোজ্য তেল উধাও হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। এটা যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির আলামত তা সহজেই বুঝা যায়। বলা যায়, আবারও ভোজ্য তেলের বাজার অস্থির করার পাঁয়তারা করছে সিন্ডিকেট। সংবাদটি এমন এক সময় প্রকাশিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ডামাডোলে জ্বালানি তেল নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে চরম জনদুর্ভোগ চলছে। অবশেষে সরকার দাম বাড়িয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে ভোজ্য তেল নিয়ে কারসাজি। জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজার থেকে সব কোম্পানির ভোজ্য তেল হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে। খোদ রাজধানীর চিত্রও একই। গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ সরেজমিন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক স্থানে ডিলাররা অর্ডার কেটেও চাহিদামাফিক তেল সরবরাহ করছে না। এমনিতেই সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে নাজেহাল, ঠিক তখনই তেলের মতো অপরিহার্য পণ্যের কৃত্রিম সংকট ভোক্তাসাধারণের বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা জানি, ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার নেপথ্যে বরাবরই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাত থাকে। এটি কেবল সরবরাহ ঘাটতির বিষয় নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত মজুদদারি ও মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা বলেই আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়।

বলা বাহুল্য, সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের তালিকায় সয়াবিন তেল এক অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, দেশের বাজারে এই অত্যাবশ্যকীয় পণ্যটি নিয়ে কারসাজি যেন এক অন্তহীন নাটকে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর আবারও সয়াবিন তেল নিয়ে নৈরাজ্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলবে নিঃসন্দেহে। এ কথা সত্য যে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কার্যত তলানিতে নেমে গেছে। চাল, ডাল, পেঁয়াজের সাথে পাল্লা দিয়ে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য অসহনীয় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এখনই এই দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে বাজারের ওপর মানুষের আস্থাহীনতা আরও বাড়বে।

আমাদের দেশে এই সিন্ডিকেট নতুন নয়। অতীতেও আমরা দেখেছি, চিনি, পেঁয়াজ কিংবা ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে একই কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রতিবারই ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আর কিছু ব্যবসায়ী বিপুল মুনাফা অর্জন করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, এই চক্র কি এতটাই শক্তিশালী যে সরকারের নজরদারি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে বারবার একই কাজ করতে পারে? আমরা মনে করি, দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কিছুটা বাড়লেও এমন হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। এটা স্রেফ দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা। 

সরকার প্রায়ই বলে থাকে, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলে। যদি কার্যকর নজরদারি থাকত, তাহলে বাজারে হঠাৎ তেলের এমন সংকট তৈরি হতে পারত না। বলা বাহুল্য, প্রয়োজনীয় নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপের অভাবে অসাধু চক্র বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। এক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতাকে অস্বীকার করা যাবে না। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মজুদদারদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এদর উৎপাত হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কোথাও অযৌক্তিকভাবে পণ্য আটকে রাখা না যায়।

আমরা মনে করি, ভোজ্য তেলের বাজারে এই ধরনের অস্থিরতা বন্ধে টিসিবির মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানো এবং খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও জোরালো করা প্রয়োজন। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সরিষা ও অন্যান্য তৈলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজার তদারকি সংস্থাকে শুধু নামমাত্র অভিযানে সীমাবদ্ধ না থেকে সিন্ডিকেটের মূল উপড়ে ফেলতে হবে। বিশেষ করে যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুদদারি করছে, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। 

তাছাড়া বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। হাতেগোনা কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে ভোজ্যতেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ। আমদানিকারকের সংখ্যা বাড়িয়ে এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করে এই একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে হবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। 

ভোজ্য তেলের এই সংকট আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এখনই যদি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে কার্যকর ও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবেÑ যাতে ভবিষ্যতে কোনো চক্র আর জনসাধারণকে জিম্মি করতে না পারে। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভোজ্য তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা