× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

নীরব ঘাতক, হাইড্রোলিক হর্ন

মুহিবুল হাসান রাফি

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫২ পিএম

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০২ পিএম

পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে শব্দদূষণ একটি। প্রতীকী ছবি

পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে শব্দদূষণ একটি। প্রতীকী ছবি

পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে শব্দদূষণ একটি। ঢাকা শহরের শব্দদূষণ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা খুবই আশঙ্কাজনক। শব্দদূষণকে বলা হয় নীরব ঘাতক। আর ঢাকা শহরের শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাড়ির হর্ন, নির্মাণকাজ, মাইকের ব্যবহার, শিল্পকারখানা কোনো ক্ষেত্রেই শব্দদূষণ বিষয়ে যেসব নিয়ম রয়েছে তা মানা হচ্ছে না। মানুষ সাধারণত একটা নির্দিষ্ট সীমার শব্দ শুনতে পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে বধির করতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ সম্পূর্ণ বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিধিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল এবং দিনের অন্য সময়ে ৫৫ ডেসিবেল অতিক্রম করতে পারবে না। বাণিজ্যিক এলাকায় তা যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ ডেসিবেল। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের আশপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা রয়েছে। সেখানে রাতে ৪০ ও দিনে ৫০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। কিন্তু আদৌ কি আমরা তা অনুসরণ করছি? ইদানীং দেখা যাচ্ছে, শহর-গ্রামে হোন্ডা বা বাইকের ব্যবহার বেড়েছে। 

অন্যদিকে দিন নেই, রাত নেই, রাস্তায় বিকট শব্দে বাইক ছুটিয়ে মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে একশ্রেণির কিশোর-তরুণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, শোরুম থেকে বাইক কিনে নিয়ে আসার পর আসল সাইলেন্সার খুলে বিকট শব্দ হবে এমন সাইলেন্সার লাগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তারা একটুও ভাবছে না যে, বাইকের সাইলেন্সারের বিকট আওয়াজের জেরে চিরকালের মতো শোনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে মানুষ। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, সেই আওয়াজের নেশায় অনেকেই সাইলেন্সার কেটে ভিতর থেকে শব্দ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রটি বের করে নিচ্ছে। ফলে বাইক স্টার্ট করামাত্র বিকট আওয়াজ হচ্ছে। এভাবেই বাইক নিয়ে শহরের রাস্তা দাপাচ্ছে কেউ কেউ। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা সেই আওয়াজে তটস্থ। আবার অনেকে আওয়াজ সহ্য করতে না পেরে হাত দিয়ে কান চেপে ধরছেন। অন্যদিকে ট্রাকের হর্নেও নাকাল নগরবাসী। হাইড্রোলিক শব্দ (হর্ন) বুকে কাঁপুনি দিয়ে ওঠে অধিকাংশের। কিছু চালকের কাছে অকারণে হর্ন বাজানো নেশায় পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ওভারটেকিংয়ের জন্যও হাইড্রোলিক হর্ন যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়। শব্দদূষণ রোধের আইন থাকলেও এর ব্যবহার চোখে পড়ে না। 

আরও এক গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দদূষণের কারণে শহর থেকে উপ-শহরে মানুষ বধিরতা, হার্ট অ্যাটাকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন। বিশেষ করে, শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। তিন বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর কাছাকাছি যদি ১০০ ডেসিবেল শব্দের হর্ন বাজে, তবে শিশুটি শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। উচ্চ শব্দের শারীরিক অন্যান্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, রক্তনালির সংকোচন, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি। শব্দদূষণ ঘুম নষ্ট করে। যদি কেউ হালকা ঘুমান, তবে শব্দ তার জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। অথচ, একটু সচেতনতা অবলম্বন করলেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমরা যদি নিজেদের সম্পর্কে একটু সচেতন হই, তাহলে আমরা ভুক্তভোগী হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি; অপ্রয়োজনে অস্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানোর সময় হর্ন বাজাব না। হোন্ডার সাইলেন্সার কিংবা যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন লাগাব না। ট্রাফিক আইন মেনে চলব। ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি জোরদার করব। প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করব। পরিবেশ বিষয়ক সংস্থাগুলোকে এই ব্যাপারে সচেতনতামূলক ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।


মুহিবুল হাসান রাফি 

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা