× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অনিশ্চিত প্রকল্পে অপরিণামদর্শী ব্যয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৫ পিএম

অনিশ্চিত প্রকল্পে অপরিণামদর্শী ব্যয়

ভবিষ্যৎ চিন্তা না করে অপরিমেয় ব্যয় করাকে বোঝাতে বাংলা ভাষায় প্রচলিত প্রবচনে বলা হয় ‘ঋণ করে ঘি খাওয়া’। এ প্রবচনের উৎস প্রাচীন ভারতের চার্বাক দর্শনের ‘ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ’ তত্ত্ব। যদিও এ তত্ত্বে মানুষকে ঋণ করে ঘি খেতে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে ঋণ করে ঘি খাওয়াকে অপরিণামদর্শিতা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কেননা, নিজের সক্ষমতার পরিমাপ না করে যারা ঋণের ওপর নির্ভর করে বিলাস-ব্যসনে লিপ্ত হয়, পরিণামে তাদের জন্য অপেক্ষা করে চরম দুর্ভোগ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রবর্তিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম এখন তেমনি একটি উদ্যোগ হিসেবে পরিগণিত। গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থবির হয়ে পড়া ওই প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের জন্য প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ নিতে যাচ্ছে সরকার। খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ‘স্ট্রেনদেনিং ইউনিভার্সাল পেনশন সিস্টেম’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী এ অর্থ ব্যয় করা হবে ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ৩৬ দশমিক ৩২ শতাংশ জমিতে নতুন অফিস ভবন নির্মাণ এবং একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থিক বিশ্লেষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও পেনশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করার কাজে।

যে পেনশন স্কিমের জন্য বিদেশি ঋণনির্ভর এই বিশালাকৃতির প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে তার প্রকৃত পরিস্থিতি মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়। 

প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গৃহীত এ প্রকল্পটি জনসাধারণের ভেতরে তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। যে কারণে ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই পেনশন স্কিমে এ পর্যন্ত জমা পড়েছে মাত্র ২৪২ কোটি টাকা। জনসাধারণের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় এর ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর প্রথম দশ মাসে তিন লাখের বেশি মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী ২০ মাসে নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে মাত্র ৩৮ হাজার ৩৪ জন। পেনশন স্কিমে জনসাধারণের আগ্রহে এই ভাটা প্রকল্পটির অপমৃত্যুরই ইঙ্গিত বহন করে। কেননা, যাদের জন্য এবং যাদের অংশগ্রহণে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে, তারাই যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তা বেশিদূর এগোতে পারার কথা নয়। 

এহেন একটি প্রায় চলৎশক্তিহীন প্রকল্পের দালানকোঠা নির্মাণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের নামে বিদেশি ঋণ নিয়ে অর্থনীতির ওপর নতুন বোঝা চাপানোর কসরত কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১০ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে দেবে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত হলে মোট ২৫ কোটি ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে। পেনশন স্কিমটির প্রতি মানুষের অনাগ্রহের কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদগণ আস্থার সংকটকে চিহ্নিত করেছেন। পেনশন তহবিলে জমা টাকার বিপরীতে রিটার্ন প্রাপ্তি, জমাকৃত অর্থের নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। সহজ করে বলা যায়, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে টাকা জমা দিলে লাভসহ সে অর্থ গ্রাহক ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। এর কারণ অবশ্য কারোরই অবিদিত নয়। বিগত আমলে যেভাবে ব্যাংক-বীমা ও শেয়ার মার্কেটে লুটপাট হয়েছে, তাতে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হয়েছে। আর জনসাধারণের বিনিয়োগকৃত অর্থের এক বড় অংশ পাচার হয়েছে দেশের বাইরে। ফলে জনসাধারণের কাছে সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো পরিচিতি লাভ করেছে অর্থ বিসর্জনের অগ্নিকুণ্ড হিসেবে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মুখ থুবড়ে পড়ার মূল কারণ এখানেই নিহিত। 

প্রশ্ন ওঠা সঙ্গত, তাহলে এ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের এ উদ্যোগের পেছনে রহস্য কী? বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা কেনাকাটা সবকিছুর সঙ্গেই নগদ অর্থ জড়িত। আর যেখানে নগদ অর্থব্যয় জড়িত, সেখানে থাকে হরিলুটের সুযোগ। আর সেজন্যই এ ধরনের প্রকল্পের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের আগ্রহ থাকে বেশি। তার ওপর রয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপচয়ের সুযোগ। ইতঃপূর্বে পুকুর কাটা, ঘাস চাষ, শিশুদের জন্য স্কুল টিফিনের খিচুড়ি রান্না শিখতে উচ্চপদস্থ আমলাদের বিদেশ ভ্রমণের নজির রয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান আহরণের নামে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের বিদেশে রিলাক্স ট্যুরের সুযোগ সৃষ্টিও এই ঋণগ্রহণ প্রস্তাবনার পেছনে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে থাকতে পারে। 

বর্তমানে বাংলাদেশের ঋণে জর্জরিত থাকার বিষয়টি কারও অজানা নয়। বিগত সরকারটি উন্নয়নের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশকে ঋণের বেড়াজালে আটকে দিয়ে গেছে। সেসব ঋণের সুদ ও আসল মেটাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। এহেন নাজুক পরিস্থিতিতে একটি নতুন করে ঋণের বোঝা বৃদ্ধি তাই জাতির ঘাড়ে বোঝার ওপর শাকের আঁটি ছাড়া আর কী হতে পারে?

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা