ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫১ পিএম
দেশের অন্যতম সেরা এক প্রধানশিক্ষক মরহুম আলহাজ জালাল উদ্দীন আহমদের জীবন ও কালের উপর এই অসাধারণ স্মৃতিকথাটি মুদ্রাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে কিংবদন্তিতুল্য এই শিক্ষকের মৃত্যুর ২৮ বছর পরে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
এ দেশের অন্যতম সেরা এক প্রধানশিক্ষক মরহুম আলহাজ জালাল উদ্দীন আহমদের জীবন ও কালের উপর এই অসাধারণ স্মৃতিকথাটি মুদ্রাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে কিংবদন্তিতুল্য এই শিক্ষকের মৃত্যুর ২৮ বছর পরে। স্মৃতিকথাটির জন্য তাঁর কথোপকথনটি ১৯৮৭ সালে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র ও রোডস স্কলার, ইংরেজি পত্রিকার বিখ্যাত কলাম-লেখক ও মধ্যম-দূরত্বের চ্যাম্পিয়ন দৌড়বিদ ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ (এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটনে থাকেন) ১৯৮৭ সালে টেপ করেছিলেন। কিন্তু ১৯৯২ সালে পিতার মৃত্যুর পর ড. আহমেদ এই আত্মজীবনীমূলক প্রকল্পের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আবারও পুরোনো স্পৃহা ও আগ্রহটি ফিরে পান এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে বইটির জন্য সাত বছর কঠোর পরিশ্রম করেন। ফলে বইটির প্রকাশনা (প্রকাশক: ইউ.পি.এল, ঢাকা, ২০২১, ২০২৩) ছিল একটি হারকিউলীয় প্রয়াস, যা এমন একজন মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিস্বরূপ যিনি ১৯৬৭ সালে পাকিস্তানের ‘শ্রেষ্ঠ প্রধানশিক্ষক’ হিসেবে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার পেয়েছিলেন।
ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতের পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের অন্তর্গত ফেনী জেলার দাগনভূঞা থানার দূরবর্তী গ্রাম জগৎপুরে ১৯০৮ সালে জালাল উদ্দীন আহমদের জন্ম হয়েছিল। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি তাঁর মা’কে হারান। একজন এতিম শিশু হিসেবে অসংখ্য বাধাবিপত্তি ও প্রতিকুলতা অতিক্রম করে তিনি তাঁর গ্রামের প্রথম স্নাতক হতে পেরেছিলেন। মফস্বল এলাকার স্কুল ও কলেজ থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা প্রথম ডিভিশনে পাশ করেছিলেন, যা ছিল সে যুগে এক বিরল ঘটনা। এটা তিনি করেছিলেন সপ্তম শ্রেণি থেকে বৃত্তি, ধার-কর্জ, এবং মানুষের বাসায় জায়গির থেকে। এরপর তিনি ১৯৩১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি, আর পরবর্তীতে ডিস্টিংকশনসহ ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব টিচিং ডিগ্রি অর্জন করেন। দিনাজপুরের পার্সিপাড়া হাই মাদ্রাসা, নোয়াখালীর বসুরহাট হাইস্কুল ও সোনাইমুড়ি হাইস্কুলে গণিতের শিক্ষক হিসেবে কিছুকাল শিক্ষকতা করার পর ১৯৩৯ সালে তাঁকে দাগনভূঞার আতাতুর্ক হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানে তিনি ১৯৫১ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন।
এই স্কুলটির নামকরণ করা হয়েছিল আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতার নামানুসারে। সময়ের সাথে সাথে প্রধানশিক্ষক তাঁর পেশাগত দক্ষতা এবং নিরলস প্রয়াসের মাধ্যমে স্কুলটিকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেছিলেন। তিনি এমন সব ছাত্রের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন যারা পরবর্তীতে শিক্ষাঙ্গন ও ক্রীড়াঙ্গনে দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। তাঁর দুই অসাধারণ ছাত্রের মধ্যে একজন ছিলেন কাজী ফজলুর রহমান, যিনি ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস (সি.এস.এস) পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন; আর অন্যজন ছিলেন নবী চৌধুরী - যিনি ছিলেন একজন ফুটবল কিংবদন্তি এবং ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়ক।
তাঁর এই অসামান্য পেশাগত জীবনের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানশিক্ষক জালাল উদ্দীন আহমদ ফেনী হাইস্কুলে ১৭ বছর যাবত (১৯৫১-৬৮) অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বিমান হামলা এবং ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের সময় দক্ষ হিন্দু শিক্ষকেরা গণহারে ভারতে চলে যাওয়ার দ্বৈত আঘাত সামাল দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম করে তুলেছিলেন। স্কুলটি প্রথমে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে মডেল হাইস্কুলে এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অনুদানপ্রাপ্তির মাধ্যমে একটি সফল পাইলট হাইস্কুলে উন্নীত হয়। এরপর ১৯৬৭ সালে শিক্ষা ও পাঠ্যধারা-বহির্ভূত কার্যক্রমে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়ে উচ্চবিদ্যালয়টি সরকারি হাইস্কুলে রূপান্তরিত হয়।
তাঁর অসামান্য সফরটি ছিল অগুনতি সাফল্যে ভরপুর। আহমদ ১৯৬৮ সালে অবসরগমনের পূর্ব পর্যন্ত তাঁর নিজের, ছাত্রদের ও প্রতিষ্ঠানের জন্য জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার ও স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন। ফেনী হাইস্কুলে অবস্থানকালে তাঁর অসাধারণ ছাত্রদের মধ্যে ছিল পাঁচ পাঁচজন উপাচার্য: প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এএমএম সফিউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী সালেহ আহমেদ, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একে আজাদ চৌধুরী, আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী ও শহীদ উদ্দিন আহমেদ। আরও ছিল প্রাক্তন পিএসপি ও সচিব গোলাম রহমান; প্রাক্তন পিএফএস ও রাষ্ট্রদূত কাজী আফজালুর রহমান ও শফিউল্লাহ; সফল ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও মাহবুবুর রহমান; বিশিষ্ট চিকিৎসক ও শিকাগোভিত্তিক নিউরো-সার্জন ড. নুরুর রহমান (সদন); স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. মশিউর রহমান; এবং বিখ্যাত সাংবাদিক মরহুম গিয়াস কামাল চৌধুর, মরহুম মোয়াজ্জেম হোসেন ও ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
তাঁর সন্তানেরাও কম সাফল্য পাননি। জ্যেষ্ঠপুত্র প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন আহমদ ১৯৫৮ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন, কিন্তু যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় ১৯৬১ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি প্রকৌশলবিদ্যার উপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থান করে দীর্ঘকাল ন্যাশনাল ইন্সটিউট্স অব হেলথে চাকরি করেন। দ্বিতীয় পুত্র ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বাঙালি রোড্স স্কলার (১৯৭০), যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় হতে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করার পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করছেন। তৃতীয় পুত্র ড. এম এ আহাদ একজন বিশিষ্ট সার্জন (এফ.আর.এ.সি.এস) যিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে থাকেন। আর চতুর্থ পুত্র অ্যাডভোকেট রইসউদ্দিন আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এল.এল.এম ডিগ্রি এবং বেলজিয়াম হতে তুলনামূলক আইনের উপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর এখন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। বেঁচে থাকা পাঁচ কন্যাও শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও প্রকৌশলী হিসেবে তাঁদের নিজ নিজ পেশাগত অঙ্গনে যথেষ্ট সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। এঁদের মধ্যে কনিষ্ঠতম তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এবং জ্যেষ্ঠ দুজন ঢাকায় বসবাস করেন।
তাঁর স্মৃতিকথায় প্রধানশিক্ষক জালাল উদ্দীন আহমদ তাঁর শিক্ষণ-দর্শনের কর্মপদ্ধতির উপরও আলোকপাত করেছেন, যেটা প্রয়োগ করার ফলে তাঁর এত সাফল্য ও স্বীকৃতি এসেছে। তাঁর উৎকর্ষের সাধনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল স্কুলের প্রতি সার্বক্ষণিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা; এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল প্রতিদিন ১২-ঘণ্টা স্থায়ী কর্মদিবস, যা শুরু হতো সকাল ৮টায় আর সমাপ্ত হতো রাত ৮টা বা তারও পরে। বাস্তবে তিনি স্কুলের সেবায় দিনে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৭ দিন এবং বছরে ৩৬৫ দিন নিয়োজিত থেকে নিখুঁত নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতেন। তিনি দিনের কাজ দিনেই শেষ করতেন, আর সপ্তাহের কাজ সপ্তাহে। তাঁর হাজারো কাজ থাকলেও তিনি স্কুলের কাজের বিনিময়ে অন্য কোনোকিছু করতেন না। ছাত্রদের ব্যাপারে তিনি নিচের মৌলিক বিষয়গুলোর উপর জোর দিতেন: পর্যাপ্ত আহার, নিদ্রা ও বই পড়ার আবশ্যিকতা মেনে চলা, কারণ এগুলো ছাত্রদের বিকাশের জন্য ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলে ছাত্রদের নিয়মিত উপস্থিতির উপর তিনি জোর দিতেন, কারণ মূলত স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই জ্ঞানের আদান-প্রদান হয়ে থাকে। নিয়মিতভাবে বাড়ির কাজ দেওয়াও ছিল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ছাত্রের অগ্রগতি বোঝার জন্য এটা ছিল অপরিহার্য। পরীক্ষার বেশ আগে সিলেবাস শেষ করলে পরীক্ষায় ছাত্রদের ভালোভাবে লড়াই করার প্রেক্ষাপট তৈরি হতো। আর ছাত্ররা যাতে স্কুলের নিয়ম-কানুন মেনে চলে সেজন্য শারীরিক শাস্তিরও প্রয়োজন ছিল, যাতে করে শাস্তির ভয়ে তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
বইটির সংকলক ও সম্পাদক ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ যেমন বলেছেন: তিনি ছাত্রদের মধ্যে সত্যবাদিতা, কঠোর পরিশ্রম, খেলোয়াড়সুলভ মনোবৃত্তি, এবং উৎকর্ষের প্রয়াসের উপর গুরুত্ব আরোপ করতেন। তিনি উপযুক্ত কোনো কারণ ছাড়া যে-কোনো সময়ে, বিশেষত অন্ধকার নেমে আসার পর ফেনীর রাস্তায় তাঁর ছাত্ররা ঘুরে বেড়াক এটা আশা করতেন না। কারণ তার অর্থ দাঁড়াতো শৃঙ্খলার ব্যত্যয়। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রবল নৈতিক শক্তি এমনকি পথভ্রষ্ট ছাত্রদেরকেও তাদের নিজস্ব গতিপথে থামিয়ে দিতে পারতো।
তাঁর শিক্ষণশৈলীর সবচেয়ে উদ্ভাবনীমূলক কৌশল ছিল রাতে ছাত্রদের গৃহ পরিদর্শন। তাঁর নিজের কথায়, “আমি আমার প্রধানশিক্ষকের চাকরিকে ২৪-ঘণ্টার চাকরি হিসেবে নিতাম। আমি আমার ছাত্রদের মধ্যেও এই অনুভূতি আনার চেষ্টা করতাম যে তাদের কাজও দৈনিক ২৪ ঘণ্টার, এবং নিজগৃহের আরামে থাকা অবস্থায়ও তারা স্কুলের নিয়ম-কানুন, আওতা ও প্রত্যাশা হতে মুক্ত নয়। এ কথা মাথায় রেখে আমি রাতে ছাত্রদের বাসা পরিদর্শনের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলাম। ছাত্ররা যেসব এলাকায় থাকতো সেগুলো আমি ভাগ করে দিয়েছিলাম এবং শিক্ষকদেরকে প্রতিটি এলাকার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তাদের জন্য কাজটি সহজ করার জন্য শিক্ষকেরা কেবল সেসব এলাকায় যেতো যেখানে তারা নিজেরা বসবাস করতো”। ...
“আমি রাত্রিকালীন পরিদর্শনের জন্য কোন এলাকায় গিয়েছি এ খবরটা ছড়িয়ে পড়া মাত্রই সেখানকার ছাত্ররা সঙ্গে সঙ্গে বই পড়ায় নিমজ্জিত হতো; আর অভিভাবকেরা আমার চারদিকে সমবেত হয়ে আমার আগমনকে সাধুবাদ জানাতো। তারা এই সুযোগে তাদের বালকদের শিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়েও আমার সঙ্গে আলাপ করতো। আর আমার পালা এলে আমি বাসার মধ্যে ছাত্রের পাঠাভ্যাস সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতাম। এসব পরিদর্শনের কারণে অনেক ছাত্রের অভিভাবকদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও গড়ে ওঠে। একটি বা দুটি পরিদর্শনই যথেষ্ট ছিল। ছাত্ররা একটি বার্তা পেয়ে যেতো, ফলে তারা সতর্ক হয়ে উঠতো, আর শেখার ক্ষেত্রে কখনোই ঢিলেমি করতো না”।
প্রধানশিক্ষক জালাল উদ্দীন আহমদ তাঁর ঘটনাবহুল জীবনে কায়েমি স্বার্থবাদী ও অন্যান্য শক্তিশালী চক্রের ছুঁড়ে দেওয়া বহু চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা ও অতিক্রম করেছিলেন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল এমনকি স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্তাব্যক্তিরাও। এঁদের অনেকেই নিজেদের অনুকূলে নিয়ম ভাঙতেও চেয়েছিলেন। এসব হয়রানি ও নির্যাতনের ফলে তিনি সাময়িকভাবে বিপদাপন্ন হলেও নিষ্কলুষ নৈতিক অবস্থান, কাজের প্রতি একাগ্রচিত্ততা, এবং বাড়িতে তাঁর মহীয়সী স্ত্রী মোসাম্মাত হুরেন্নেসা বেগমের সুদৃঢ় সমর্থন তাঁকে শেষপর্যন্ত এসব পরীক্ষা ও দুঃখ-কষ্ট পাড়ি দিতে সাহায্য করেছিল।
বাংলাদেশের দরিদ্র ও অভাবী ছাত্রদেরকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে তিনি তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর সমগ্র পেশাগত জীবনেই ছাত্রদের স্বার্থকে তিনি সবার উপরে স্থান দিতেন। ছাত্ররা ছিল তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একজন মহান প্রধানশিক্ষকের জীবন ও কালের উপর খুঁটিনাটি বিবরণে পরিপূর্ণ এই সরল স্মৃতিকথাটি কৌতুহলী পাঠকদের জন্য নিঃসন্দেহে গুপ্তধনের মতো, যার চূড়ান্ত আকার দিয়েছেন পিতৃভক্তিতে অটল এক অসামান্য পুত্র। বাংলাদেশে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক সাহিত্যে এটা নিশ্চিতভাবেই অনন্য হিসেবে বিবেচিত হবে। আর শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যানুরাগী সবার জন্যই গ্রন্থটি একইসঙ্গে মূল্যবান ও উপভোগ্য হবে বলে আশা করা যায়।
লেখক
অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ কোয়ার্টারলি পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক