ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৪ পিএম
মধ্যেপ্রাচ্যেরর যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অনেক দেশই জ্বালানি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশ সবচেয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন এবং নগরজীবনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভর করেই এগিয়ে চলছে শিল্পকারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জ্বালানি খাতে যে অস্থিরতা ও ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা ক্রমেই জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়ন ধারার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা, শিল্প খাতে গ্যাস সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সব মিলিয়ে জ্বালানি খাত এখন এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রশ্ন উঠেছে এই সংকট কি সত্যিই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতার ফল, নাকি দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, পরিকল্পনার ঘাটতি ও সমন্বয়ের অভাবের প্রতিফলন? বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুযোগ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং আমদানি-নির্ভরতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সাময়িক সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং এর পেছনের কাঠামোগত কারণ, পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নগুলো নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। তাই প্রশ্নটি এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট কি প্রকৃতপক্ষে সম্পদের অভাবের ফল, নাকি এটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতিরই প্রতিফলন? বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটকে কেবল সম্পদের ঘাটতি হিসেবে ব্যাখ্যা করলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়ে না। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে দীর্ঘদিনের সুচিন্তিত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবই বেশি দায়ী। পর্যাপ্ত দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার না হওয়ায় ধীরে ধীরে আমদানি-নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সরাসরি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। যদিও সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছে, তবু বাস্তবতা বলছে জ্বালানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় জ্বালানি খাত ক্রমেই আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর বাড়তি নির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। দেশীয় খনি অনুসন্ধানে ধীরগতি এবং নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে সীমিত অগ্রগতির কারণে এই নির্ভরতা ক্রমেই বেড়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা বা সরবরাহ সংকট দেখা দিলেই দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে এলএনজি আমদানিও অনেক সময় সীমিত করতে হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে। গ্যাসের ঘাটতির কারণে অনেক শিল্পকারখানাকে উৎপাদন কমাতে হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে অর্থনীতির সামগ্রিক কার্যক্রমও চাপে পড়ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির দীর্ঘদিনের কিছু কৌশলগত সীমাবদ্ধতা।
এ ছাড়া দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে দীর্ঘদিনের স্থবিরতাও সংকটকে আরও জটিল করেছে। বাংলাদেশে সম্ভাব্য গ্যাসসম্পদ থাকার কথা বহুবার আলোচিত হলেও সেগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ ও বিনিয়োগ সব সময় দেখা যায়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের উদ্যোগ আগে থেকেই জোরদার করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন হতে পারত। এর সঙ্গে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তেজনা বা যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করে, যার প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর ওপর দ্রুত পড়ে।
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের লক্ষ্য অনেক উচ্চাভিলাষী হলেও বাস্তব অগ্রগতি এখনও প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারেনি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৪১ সালের মধ্যে মোট জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য উৎসের উল্লেখযোগ্য অংশ নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নীতি নির্ধারণে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে এই খাত এখনও পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছতে পারেনি। বেসরকারি খাতকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ফলে পরিকল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ফাঁক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা, বিনিয়োগ ঝুঁকি এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও এই ধীরগতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি দেশের শিল্প ও কৃষি খাতেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সবকিছু মিলিয়ে বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মূলত সম্পদের একেবারে অনুপস্থিতির কারণে নয়; বরং নীতি নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের ঘাটতি, দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধানে ধীরগতি এবং আমদানি-নির্ভর জ্বালানি কাঠামোর ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও জ্বালানি খাতের বর্তমান বাস্তবতা ভবিষ্যতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে, আমদানি-নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে দেশের অর্থনীতি এখন আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। বিশ্ববাজারে এলএনজি ও কয়লার দাম বেড়ে গেলে দেশের জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে দাম সমন্বয়ের চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি শিল্প উৎপাদন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে গ্যাস ও তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতও ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক শিল্পকারখানা ইতোমধ্যে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া বা বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মিততার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। জ্বালানির সরবরাহে সামান্য অস্থিরতাও শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতাও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশ এখন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই বৈশ্বিক পরিস্থিতির এমন পরিবর্তন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয়কে এখনই অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। দেশীয় গ্যাস ও অন্যান্য সম্ভাব্য জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণ করা এবং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা অতীব জরুরি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হলে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা স্পষ্ট করে যে কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী নীতি, সমন্বিত পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর বিনিয়োগের মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে আরও টেকসই ও স্বনির্ভর করে তোলা। অন্যথায় জ্বালানি খাতের এই কাঠামোগত দুর্বলতা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট কেবল সম্পদের অভাবের ফল নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ঘাটতি, দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধানে ধীরগতি এবং আমদানি-নির্ভর নীতির প্রভাব এতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও ডলার সংকট এই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
তাই ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি এবং সমন্বিত পরিকল্পনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আমরা মনে করি, সঠিক নীতি ও কার্যকর উদ্যোগই পারে জ্বালানি খাতকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে। বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সৌর, বায়ু) এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ অনুসন্ধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য। উচ্চ ব্যয় ও বৈশ্বিক বাজারের ঝুঁকি এড়াতে টেকসই নীতি, স্বচ্ছতা এবং উৎপাদনশীল খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা জরুরি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল দিকসমূহ : নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করা, যা সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের মতো বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব উৎসের ব্যবহার বাড়াতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমদানি-নির্ভরতা কমাবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ অনুসন্ধান : প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে, যাতে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে। আমদানি-নির্ভরতা কমানো : বর্তমানে প্রায় ৯২% জ্বালানি আমদানি-নির্ভর, যা বৈশ্বিক সংকটে অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলে। নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার : কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বদলে দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনা : অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি বণ্টন এবং শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা।
ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম
সাবেক কর কমিশনার ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল এফএফ ফাউন্ডেশন