× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিটি নির্বাচন

প্রশাসকেই কি চলবে নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা

জাকির হোসেন

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫২ পিএম

প্রশাসকেই কি চলবে নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা

দেশের ১১ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ২৫ ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করছেন। সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের পর তারা মেয়রের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। রাজনৈতিক দলগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

২০২৬ সালের রমজানের পরপরই ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবেÑ এমনটাই জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, আইন সংশোধন ও অধ্যাদেশ জারির পরপরই এই নির্বাচনগুলোর সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। কিন্তু প্রশাসক নিয়োগের ফলে সহসা সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনগুলোতে কাউন্সিল নেই। কাউন্সিলর না থাকায় থমকে আছে অনেক কিছু। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী মন্ত্রী সংসদ সদস্যদের মতো স্থানীয় কাউন্সিলরাও আত্মগোপন করেছেন। পরবর্তীতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হলেও ওয়ার্ডগুলোতে তদারকিতে কাউকে পাওয়া যায়নি। মজার বিষয় হলো আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীর ওয়ার্ডগুলোতে রাস্তার ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির হিড়িক পড়ে। নগরীর অলিগলি শুধু না প্রধান সড়ক থেকেও ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হতে দেখা গেছে। কিন্তু এগুলো তদারকির কেউ ছিল না বলে দীর্ঘদিন নগরবাসীকে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এর কারণে ঘটেছে দুর্ঘটনা। হয়তো কাউন্সিলর থাকলে ঢাকনা চুরি রোধ করার উদ্যোগ নেওয়া যেত কিংবা দ্রুত ঢাকনা লাগানোর ব্যবস্থা করা যেতো। এ ছাড়া করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ঢিলাভাব দেখা গেছে। রাস্তাঘাটে ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে দিনের পর দিন। মশা নিধনে কোনো উদ্যোগ ছিল না বললেই চলে। এ ছাড়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সার্টিফিকেট, বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচি, ট্রেড লাইসেন্সসহ নানা কাজ থমকে থাকে। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলা হলেও নতুন করে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু এতে কি জনগণের ভোগান্তি কমবে?

সিটি করপোরেশনগুলোতে সাধারণত সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মিলে বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি থাকেন। রাজধানীর কথা যদি বলি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৫ জন সাধারণ ও ২৫ জন সংরক্ষিত এবং ঢাকা উত্তরে ৫৪ জন সাধারণ ও ১৮ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রয়েছেন। এসব কাউন্সিলররা সরাসরি ওয়ার্ডের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। মূলত কাউন্সিলররা নিজ নিজ ওয়ার্ডের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ, পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ করেন। তারা ওয়ার্ডের সমস্যা সমাধান, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ প্রদান এবং সিটি মেয়রকে সাধারণ সভায় সহায়তা ও আদেশ পালনের মাধ্যমে কাজ করেন। এছাড়া এলাকায় এডিস মশক নিধন, মশারি বিতরণ, বিভিন্ন টিকা ক্যাম্পেইন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সহায়তা করেন। নগরবাসীর সমস্যা এবং অভিযোগগুলো সিটি করপোরেশনের সাধারণ সভায় উত্থাপন করা এবং সিটি করপোরেশনের সাথে ওয়ার্ডবাসীর মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করেন কাউন্সিলররা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থায় ওয়ার্ডবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার কাজে নিয়োজিত হন কাউন্সিলররা। সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছাড়াও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলররা তিনটি ওয়ার্ডের নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন।

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। স্থানীয় সমস্যার সমাধান, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলে সেগুলোর বাস্তবায়ন। স্থানীয় পর্যায়ে কাউন্সিলরের মাধ্যমে হয়। তিনি কোন এলাকায় রাস্তা হবে, কোথায় ড্রেন হবে, কোথায় স্কুল বা কমিউনিটি সেন্টার প্রয়োজন এসব বিষয়ে সুপারিশ করেন। ফলে একটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন অনেকাংশে কাউন্সিলরের দক্ষতা, সততা ও আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে কাউন্সিলরের ভূমিকা রয়েছে। ওয়ার্ডে কোনো ঝগড়া-বিবাদ, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক সমস্যা বা সামাজিক সমস্যা দেখা দিলে কাউন্সিলর স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসার চেষ্টা করেন। এতে করে অনেক ছোট সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই সমাধান হয়ে যায় এবং সামাজিক শান্তি বজায় থাকে। নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নে কাউন্সিলর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, টিকা কর্মসূচি ইত্যাদিতে জনগণকে সচেতন করেন। একজন সক্রিয় কাউন্সিলর একটি ওয়ার্ডের সামাজিক পরিবেশ পরিবর্তন করতে পারেন।

আসলে আমাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন কাউন্সিলররা। বিগত প্রায় দুই বছর ধরে দেশের সিটি ও পৌর এলাকাগুলোতে কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। এতে জনগণের নিত্যদিনের সংকট মোকাবিলায় বেগ পেতে হচ্ছে। সরকার প্রশাসক নিয়োগ করেছেন যিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু শত শত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের যে দায়িত্বগুলো সেগুলো পালন করবেন কে? সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা যখন দায়িত্ব পালন করেছেন তখন। কাউন্সিলরের অফিসে দেখা যেত দিনভর স্থানীয় লোকজনের ভিড়। লোকজন নানা কারগে কাউন্সিলরের দ্বারস্থ হতেন। সে কাজগুলো থমকে আছে কাউন্সিলর না থাকার কারণে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনও নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন কাউন্সিলর ছাড়া সিটি করপোরেশনের কাজ চালিয়ে নেওয়া কষ্ট হচ্ছে। সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। মেয়রকে সহায়তার জন্য সেখানে ৫৫ জন কাউন্সিলর কাজ করেন। এতে কাউন্সিলর না থাকায় ৫৫ জনের কাজ মেয়রকে একা করা সম্ভব না। তেমনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ সিটিতে কাউন্সিলর আছেন ১০০ জন আর উত্তর সিটিতে আছেন ৭২ জন। ফলে শুধু প্রশাসকের পক্ষে স্থানীয় জনগণের সমস্যা বা প্রয়োজন মেটানো সম্ভব না।

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন। একটি দেশের কেন্দ্রীয় সরকার যত শক্তিশালীই হোক না কেন, যদি স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হয়, তাহলে গণতন্ত্র প্রকৃত অর্থে সুসংহত হয় না। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এই গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয় এবং জনগণকে সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। তাই বলা হয়, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা