ইমেইল থেকে
অনিরুদ্ধ সূত্রধর
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৫ পিএম
বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে বাল্যবিবাহ এখনও একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হলে তাদের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে দেয়। অল্প বয়সে গর্ভধারণ মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি, মানসিক চাপ, পারিবারিক সহিংসতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। এই সমস্যাগুলো শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাল্যবিবাহের পেছনে দরিদ্রতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা বড় ভূমিকা রাখে। অনেক পরিবার মনে করে মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দিলে দায়িত্ব কমে যাবে, যা একটি ভুল ধারণা। বরং শিক্ষিত ও সচেতন নারীই পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকে একসাথে কাজ করতে হবে। মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং কুসংস্কার দূর করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হলে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। একটি সচেতন সমাজই পারে নারীর অধিকার রক্ষা করতে এবং একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।
অনিরুদ্ধ সূত্রধর
নরসিংদী সরকারি কলেজ, নরসিংদী