× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংস্কৃতি

বাংলাদেশের গ্রামীণ মেলা

সঞ্জয় সরকার

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৭ পিএম

বাংলাদেশ ‘মেলার দেশ’ হলেও গ্রামীণ মেলার সেই জৌলুস দিন দিন কমে আসছে। কমছে মেলার সংখ্যাও।  গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ‘মেলার দেশ’ হলেও গ্রামীণ মেলার সেই জৌলুস দিন দিন কমে আসছে। কমছে মেলার সংখ্যাও। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী। কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ’। কবিগুরু যথার্থই বলেছেন। উপলক্ষ যাই থাকুক না কেন, বাঙালির সকল উৎসবের মধ্যে একটা সর্বজনীন রূপ আছে। এতে ধর্ম, সম্প্রদায়, জাত-পাত বা ধনী-দরিদ্রের সামাজিক বিভক্তি কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। বরং সকল শ্রেণির মধ্যে সেতুবন্ধ রচিত হয়। আর এ কারণেই কালের বিবর্তনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতার ধরন পাল্টালেও আবহমান বাংলার সামাজিক উৎসব, পার্বণ বা গণমানুষের মেলবন্ধনের ঐতিহ্য-কৃষ্টিগুলো আজও হারিয়ে যায়নি। ‘মেলা’ তেমনি একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। মেলা মানেই মহামিলন। মানুষের উচ্ছ্বাস-উল্লাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মেলার মধ্য দিয়ে। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে মেলা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলে। গ্রামবাংলার মেলা তাই হাজার বছরের ঐতিহ্যের এক মহাসম্মিলন।

কবে, কোথায়, কখন প্রথম মেলার প্রচলন শুরু হয়েছিলÑ তা জানা না গেলেও এটি যে আবহমান বাংলার এক প্রাচীন ঐতিহ্য, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ধারণা করা হয়, গ্রামীণ হাট থেকেই আসে মেলার ধারণা। আগেকার দিনে রাজা-জমিদাররা মেলার আয়োজন বা পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। ধর্মীয় উপলক্ষ কেন্দ্র করেই মেলার জন্ম। বারো মাসের তেরো পার্বণের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে মেলার ঐতিহ্য। যেমন : বৈশাখের বিঝু মেলা (আদিবাসীদের), মাস পহেলার মেলা, রাজপুণ্যাহ, রথমেলা, অষ্টমী মেলা, বারুণী মেলা, গাজন মেলা, চড়ক পূজার মেলা, শিবচতুর্দশীর মেলা, চৈত্রসংক্রান্তির মেলা, পৌষসংক্রান্তির মেলা, মাঘী পূর্ণিমার মেলা, গঙ্গার আবির্ভাব মেলা, বৌদ্ধমেলা, মহরমের মেলা, মনসার মেলা, মঙ্গলচণ্ডীর মেলা, চিলাইর মেলা, ঝুলনযাত্রার মেলা, কার্তিক ব্রতের সঙ মেলা, বুড়াবুড়ির মেলা। একসময় পীর-ফকির বা সাধু-সন্ন্যাসীদের আস্তানাগুলোও মেলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ধর্মীয় চেতনার বাইরের অন্যান্য সামাজিক বা লৌকিক আচারগুলোও যুক্ত হতে থাকে মেলার সঙ্গে।

বাংলাদেশের এমন কোনো জেলা বা উপজেলা নেই, যেখানে মেলার আয়োজন হয় না। বলা যায়, বাংলাদেশ মানেই ‘মেলার দেশ’। মেলা দেখেননি এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না একজনও। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ মেলার ওপর দেশজুড়ে এক জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১ হাজার ৫টি মেলার সন্ধান পাওয়া যায় ওই জরিপে। জরিপ কার্যক্রমটি আরও পঞ্চাশ-একশ বছর আগে পরিচালিত হলে মেলার সংখ্যাটি যে কয়েকগুণ বেশি হতো, তা বলা যায় সন্দেহাতীতভাবে। বিসিকের প্রাপ্ত সংখ্যার নব্বই ভাগ মেলাই গ্রামীণ। সারা বছরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে এসব মেলা বসে। কখনও বট-পাকুড়ের ছায়ায়, নদীর পাড়ে, আবার কখনও মন্দির-মঠ-তীর্থস্থানে বা সাধু-সন্ন্যাসী-পীর-ফকিরদের আস্তানায় এবং গ্রামের খোলা মাঠে বসে এসব গ্রামীণ মেলা ।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য যেসব মেলার আয়োজন হয় তার মধ্যে রয়েছে : ঢাকার জিঞ্জিরার মেলা, ধামরাইয়ের রথমেলা, মজমপুর মেলা, কায়েতপাড়ার বাউল মেলা, নবাবগঞ্জের ধাইনগর মেলা, চরখাই কাটলা মেলা, চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ মন্দিরের মেলা, মাইজভাণ্ডারীর মেলা, কাট্টালি মেলা, ফতেহাবাদের সূর্যমেলা, পটিয়ার ঠেগড়মুনির মেলা, জব্বারের বলী খেলার মেলা, বগুড়ার মহাস্থানের মেলা, ষোলগড়িয়ার মেলা, ধুনটের বাকচরের মেলা, পোড়াদহের সন্ন্যাস মেলা, ওমরপুরের মেলা, জগদীশ গোসাইর মেলা, গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দির মেলা (মতুয়া মেলা নামেও পরিচিত), উনশিয়ার সিদ্ধান্তবাড়ির মেলা, পাবনার বোঁথরের চড়ক মেলা, হবিগঞ্জের মুড়াবন্দ দরবার শরিফের মেলা, বেলেশ্বরী মেলা, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর মেলা, ফাইলা পাগলার মাজারের মেলা, রাঙামাটির পানছড়ি বৌদ্ধমেলা, ভাইবোন ছড়ার জুরমরং শিবমেলা, দিনাজপুরের নেকমর্দন মেলা, গোরখাই মেলা, ভোলাকালীর মেলা, কুমিল্লার মুরাদনগরের শীতলার মেলা, বাজিতপুর মেলা, জল মহাভারতীর মেলা, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের বারুণী মেলা, সুবর্ণাসারা মেলা, নরসিংদীর মনোহরদীর শাহরানীর মেলা, কালীগঞ্জের বুকশূণ্যার বারুণী মেলা, শরীয়তপুরের নড়িয়ার সুরেশ্বর মেলা, ভোজেশ্বর মেলা, বরগুনার কীর্তনমেলা, রাজশাহীর বারুণী মেলা, মান্দার মেলা, কারবালার মেলা, ললিতনগরের মেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতমোড়ার মেলা, যশোরের সাগরদাঁড়ির মধুমেলা, পঞ্চগড়ের নিরাশির মেলা, ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের কাতিহার মেলা, বরিশালের বিপিনচাঁদ ঠাকুরের মেলা, কালীতলার মেলা, সূর্যমণির মেলা, চাঁদশী মেলা, ফরিদপুরের বুড়াশিব ঠাকুরের মেলা, তাড়াইলের মাঘী পূর্ণিমার মেলা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাতিসার মেলা, মুরাদনগরের শ্রীকাইল মেলা, মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল মেলা, বিক্রমপুরের রামপালের মেলা, সিরাজগঞ্জের রাধাই মেলা, পটুয়াখালীর দশমিনার মেলা, শেরপুরের বারটিয়ার মেলা, সিলেটের শ্রীচৈতন্য মেলা, হারাইটেক মেলা, রংপুরের সিন্দুরমতি মেলা, নেত্রকোণার চণ্ডীগড় মেলা, বড়ান্তরের অষ্টমী মেলা, কলমাকান্দার চেংগ্নী মেলা, মদনপুরের শাহ সুলতান কমরুদ্দিন রুমীর (র.) মাজারের ওরস মেলা, কেন্দুয়ার গোগবাজার ত্রিবেণী ঘাটের অষ্টমী মেলা, মদনের নরুনসর মেলা, পিরোজপুরের খারবাক মেলা, কুড়িগ্রামের কমলদীঘির মেলা, চাঁদপুরের কালীবাড়ির মেলা, খুলনার মোল্লার হাট মেলা, বাগেরহাটের খানজাহান আলীর মেলা, কুষ্টিয়ার মহরম মেলা, ছেঁউড়িয়ার লালন মেলা, লক্ষ্মীপুরের কালীর হাট মেলা, নড়াইলের নিশিনাথ তলার মেলা ও সুলতানের মেলা। এ ছাড়াও সারা দেশে অষ্টমী ও বারুণী উপলক্ষে চৈত্র-বৈশাখ মাসে আরও বেশ কিছু মেলা বসে।

মেলা সামনে রেখে চারু, কারু, দারু ও অন্যান্য কুটিরশিল্পীরা দীর্ঘ সময়ব্যাপী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। কামার, কুমার ও বাঁশ-বেতের শিল্পীরা নিপুণ হাতে তৈরি করে আনেন নানা জিনিসপত্র। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের আকর্ষণ থাকে মেলায়। গ্রামবাংলার অনেকে মেলা থেকেই সারা বছরের ঘর-গেরস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নেন। তাই মেলা উপলক্ষে বিক্রেতাদের পাশাপাশি দর্শক বা ক্রেতাদের প্রস্তুতিও কম থাকে না। অভাব-অনটন যাই থাকুক, মেলার জন্য সকলেরই ছোটখাটো একটা বাজেট থাকে। মেলার আগে বড়রা শিশুদের নগদ টাকা বকশিশ দেন। দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনরাও টাকা পাঠান। কোনো কোনো অঞ্চলে এ ধরনের উপহারকে বলা হয় ‘মেলার পড়বি’।

বাহারি পণ্যের পসরা বসে মেলায়। শিশুদের আনন্দ-বিনোদনের জন্য মেলায় পাওয়া যায় মাটির পুতুল, পালকি, ঘোড়া, ষাঁড়, হরিণ, হরেক রকমের ঘুড়ি, টমটম, লাটিম, গাড়ি, বল, বেলুন, বাঁশিসহ নানান রকমের খেলনা। বহুল প্রচলিত ‘আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি কিনেছি’ গানটি আজও গ্রামবাংলার মেলার সেই ঐতিহ্যকেই ধারণ করে আছে। গাঁয়ের কুলবধূ ও কিশোরীরা মেলা থেকে কিনে আনেন আলতা, স্নো, পাউডার, কাচের চুড়ি, নাকের নোলক, কানের দুল, চুলের ফিতা, খোঁপা, ক্লিপসহ দেহাবরণের জিনিসপত্র। হিন্দু রমণীরা মেলা থেকে ফিরে একজন আরেকজনকে জলেভাসা সাবান ও সিঁদুর উপহার দিয়ে শুভকামনা জানান। এ ছাড়া গেরস্থালির জিনিসপত্র যেমন : দা, কাঁচি, কুড়াল, খুন্তি, রান্নাবান্নার সরঞ্জাম, পাখা, ঢাকি, চালনি, ছিপি, জলচৌকি, পিঁড়ি থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের ছড়ি পর্যন্ত পাওয়া যায় মেলায়। থাকে রসনাতৃপ্তির জিনিসপত্রও। বিশেষ করে মেলায় কেনা জিলাপি, গজা, লবঙ্গ, রসগোল্লা, কদমা, তিলুয়া-বাতাসা, ওখরা, বিন্নি ধানের খৈ ও দই-চিড়ার স্বাদই যেন আলাদা। কাপড়, মনিহরি, প্লাস্টিক পণ্য, পূজার জিনিসপত্র, ধর্মীয় পোস্টার, ছবি, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, তামা-কাঁসা-পিতলের বাসনপত্র প্রভৃতির দোকানও বসে মেলায়।

দর্শকদের তাৎক্ষণিক মনোরঞ্জনের জন্যও থাকে নানা আয়োজন। নাগরদোলা, লাঠিখেলা, কুস্তিখেলা, পুতুল নাচ, যাত্রাগান, কবিগান, বাউল গান, ঘাটুগান, জারি গান, গাজীর গান, পীর-ফকিরদের গান, বায়োস্কোপ, সঙ, সার্কাস, লটারি, পুণ্যস্থানে কীর্তন, গঙ্গাপূজা, শীতলা পূজা, নৌকাবাইচ, ষাঁড়ের লড়াই প্রভৃতি আয়োজন দর্শকদের বাড়তি খোরাক জোগায়Ñ মেলাকে করে তোলে ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ। অষ্টমী, বারুণী বা বিভিন্ন পুণ্যস্থানের মেলাকে বাংলার মানুষ ধর্মীয় উৎসব বলেই মনে করে। প্রসঙ্গত, কোথাও কোথাও মেলার নামে জুয়া-হাউজি-অশ্লীল নৃত্যসহ কিছু অপসাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও চলে। মূলত এর পেছনে থাকে অর্থলিপ্সা। মেলায় হাজারো মানুষের স্রোতকে পুঁজি করে একশ্রেণির লোক এ ধরনের বে-আইনি উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করে। এতে মেলার পরিবেশ শ্রীহীন হয়। তবে সর্বসাধারণ কখনও এ বিষয়গুলোকে মেলার আঙ্গিক হিসেবে মনে করে না। তারা মেলাকে একটি ধর্মীয় উৎসব, লোকাচার, আনন্দ-বিনোদন বা বছরের কোনো একটি বিশেষ দিন হিসেবেই মনে করে ।

বাংলাদেশ ‘মেলার দেশ’ হলেও গ্রামীণ মেলার সেই জৌলুস দিন দিন কমে আসছে। কমছে মেলার সংখ্যাও। আগে গ্রামাঞ্চলে বা বিভিন্ন তীর্থস্থানে আয়োজক কমিটির ব্যবস্থাপনায় যেভাবে মেলার আয়োজন হতো, এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই আগের মতো হয় না। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু দায়িত্ব পালন ছাড়া সরকারিভাবে গ্রামীণ মেলাকে তেমন কোনো পৃষ্ঠপোষকতাও করা হয় না। তবে কিছুটা সুখবর হচ্ছেÑ গ্রামীণ মেলার কনসেপ্টকে ধারণ করে এখন অনেক আধুনিক জিনিসপত্রেরও মেলা বসে। বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের আয়োজনগুলো হয় সাধারণত শহরাঞ্চলে। যেমন : মোবাইল মেলা, কম্পিউটার মেলা, আইটি মেলা, আবাসন মেলা। আবার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাতেও বিজ্ঞানমেলা, বাণিজ্যমেলা, শিল্পমেলা, বইমেলা, কৃষিমেলা, স্বাধীনতা মেলা প্রভৃতি নামের কিছু মেলার আয়োজন করা হয়। আয়োজন যারাই করুক আর যেভাবেই হোক, মেলা যুগ যুগ ধরে মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করে আসছে। নানা ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের মধ্যে রচনা করছে সেতুবন্ধ। তাই মেলা বেঁচে থাকুক চিরদিন। মেলা মিলিয়ে দিক লাখোকোটি মানুষকে। 


সঞ্জয় সরকার

ছড়াকার ও লোকসংস্কৃতি অন্বেষক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা