× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এলপিজির দাম

সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না— এমন সিদ্ধান্ত চাই

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪২ পিএম

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৩ পিএম

বাজারে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি এলপিজির দাম বাড়ার কারণে পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের হিসাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

বাজারে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি এলপিজির দাম বাড়ার কারণে পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের হিসাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

বাজারে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি এলপিজির দাম বাড়ার কারণে পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের হিসাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দাম বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ব্যয়চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে আয় স্থির থাকলেও খরচ বাড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর। গৃহস্থালির রান্নায় যাদের প্রধান ভরসা এলপিজি, দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবারগুলোর জন্য দুঃসহ বোঝা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শহর ও শহরতলির মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, যারা প্রাকৃতিক গ্যাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি যেন এক ধরনের দুর্বহ সংকট।

৩ এপ্রিল প্রতিদিনের বাংলাদেশে ‘এলপিজির দাম বৃদ্ধিতে চাপে পড়বে মধ্যবিত্ত’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতায় এলপিজির দাম এক ধাক্কায় বাড়ল কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এপ্রিল মাসের জন্য এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ইতোমধ্যে কার্যকরও হয়েছে। বলা বাহুল্য, সিলিন্ডার গ্যাসের দাম একবারে এত বড় আকারে বাড়ানোর ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জীবনযাত্রার এই ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে আয় না বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জীবনযাপন আরও কঠিন হবে। উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরে তিতাস গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় গৃহস্থালির প্রতিদিনের রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসই অনেকের জন্য একমাত্র ভরসা। এই গ্যাসের দাম কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে।

সেই ধারাবাহিকতায় খুচরা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সংযোজন কর (মূসক)সহ প্রতি কেজির দাম মার্চে ১১১ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এপ্রিলের জন্য ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে এক মাসে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। মার্চে ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৩৯৭ টাকা; এপ্রিলে বেড়ে হয়েছে ১,৮০১ টাকা। একইভাবে ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬১৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯২ টাকা হয়েছে। বড় সিলিন্ডারগুলোর দামও একই হারে বেড়েছে। একইভাবে গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা; যা আগের তুলনায় প্রায় ১৮ টাকা বেশি।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, এলপিজির দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছেÑ গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা, ডলারের বিপরীতে টাকার মান হ্রাস এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি। প্রেক্ষাপট সত্য হলেও প্রশ্নÑ এই চাপ কি কেবল ভোক্তাদের ওপরই বর্তাবে? মধ্যবিত্তের আয় তো সেই হারে বাড়েনি বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের জীবনযাত্রা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। একটি সাধারণ পরিবারে মাসে এক বা দুটি গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি মাসে অতিরিক্ত কয়েকশ টাকা খরচ যোগ হচ্ছে, যা তাদের সামগ্রিক বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ, খাদ্যপণ্য ও পরিবহন খরচের ঊর্ধ্বগতি। ফলে মধ্যবিত্ত এখন চরম আর্থিক চাপে দিন কাটাবে বৈকি।

আমরা মনে করি, এলপিজির দাম বৃদ্ধি শুধু অর্থনৈতিক চাপই সৃষ্টি করছে না, এর সামাজিক প্রভাবও রয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে রান্নার খরচ কমাতে বা বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কেউ কেউ আবার খরচ বাঁচাতে খাবারের মান ও পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে; যা দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব হলো বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এলপিজি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট বা অযৌক্তিক মুনাফা রোধ করা এবং প্রয়োজনে ভর্তুকি প্রদান করা জরুরি। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে, যাতে তারা এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা কিছুটা সামাল দিতে পারে।

আমরা বলতে চাই, এলপিজির দাম বৃদ্ধি বাস্তবতা হলেও এর প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে না তোলে। মনে রাখা দরকার, মধ্যবিত্ত শ্রেণি একটি দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তাদের স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে। কোনো পণ্যের সংকট দেখা দিলে কেবল দাম বাড়িয়ে তার মোকাবিলা খুবই স্থূল ও সস্তা একটা সিদ্ধান্ত। আমাদের বাস্তবতায় প্রয়োজন সৃজনশীল ও বাস্তবসম্মত এমন সিদ্ধান্ত, যাতে সাপও মরে আবার লাঠিও না ভাঙে। তাই এখনই বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা