ইমেইল থেকে
হুমাইরা সুলতানা মল্লিক
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১১ পিএম
প্রকৃতির অদৃশ্য ভাষা শব্দ, যা একদিকে সুরের মাধুর্য, অন্যদিকে শব্দদূষণের চ্যালেঞ্জ।
বাতাসের মৃদু শোঁ শোঁ শব্দ, পাখিদের কলতান কিংবা নদীর কলকল ধ্বনিÑ সবই প্রকৃতির এক অদৃশ্য ভাষা। আমরা এই ভাষাকে চোখে দেখতে না পারলেও অনুভব করতে পারি। আমাদের চারপাশে অসংখ্য শব্দের উৎস রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত উৎস হলো মানুষের কণ্ঠ। আমাদের কণ্ঠনালিতে থাকা ভোকাল কর্ড দিয়ে যখন বাতাস বের হয়, তখন সেখানে কম্পন সৃষ্টি হয় এবং সেই কম্পন থেকেই শব্দের জন্ম হয়। আমরা কথা বলার সময় গলায় হাত রাখলে সেই কম্পন সহজেই অনুভব করতে পারি।
বিজ্ঞান অনুযায়ী শব্দের উৎপত্তি হয় কম্পন থেকে। পরীক্ষাগারে সুর শলাকার সাহায্যে নির্দিষ্ট কম্পনের মাধ্যমে শব্দ সৃষ্টি করা যায়। শব্দ আসলে এক ধরনের যান্ত্রিক তরঙ্গ, যার চলাচলের জন্য বায়ু, পানি বা কঠিন পদার্থের মতো কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয়। তাই শূন্য স্থানে শব্দের অস্তিত্ব নেই।
শব্দ তরঙ্গকে এমন এক পর্যাবৃত্ত আন্দোলন বলা যায়, যা কোনো জড় মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করে না। শব্দ তরঙ্গের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছেÑ যেমন কম্পাঙ্ক, বিস্তার এবং বেগ। কম্পাঙ্ক নির্ধারণ করে শব্দ কতটা তীক্ষ্ণ বা গভীর হবে, আর বিস্তার নির্ধারণ করে শব্দের তীব্রতা।
শব্দ যেমন আমাদের জীবনে সুর ও সৌন্দর্য নিয়ে আসেÑ গানের সুর, গিটারের মধুর ধ্বনি আমাদের মনকে প্রশান্ত করে তেমনি অতিরিক্ত শব্দ বা শব্দদূষণ আজ বড় একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। যানবাহনের শব্দ, শিল্পকারখানার কোলাহল এবং নগরজীবনের নানা আওয়াজ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে মানুষ মানসিক চাপ, মাথাব্যথা ও অনিদ্রার মতো সমস্যায় ভুগছে। তবে শব্দের সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবসভ্যতার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যোগাযোগ, চিকিৎসা এবং প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে শব্দের সঠিক প্রয়োগ আমাদের জীবনকে আরও সহজ ও উন্নত করতে পারে।
হুমাইরা সুলতানা মল্লিক
মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১ম বর্ষ রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী