× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জ্বালানি সাশ্রয়

কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪১ এএম

মধ্যপ্রাচ্য-যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত থাকতে পারছে না। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্য-যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত থাকতে পারছে না। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্য-যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত থাকতে পারছে না। বৈশ্বিক এ সংকটের উত্তাপ আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনকে ভয়াবহতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। ফলে এ সংকট উত্তরণে করণীয় সম্পর্কে শুরু থেকেই নানা সতর্কতামূলক পরামর্শ সরকারকে দিয়ে আসছেন অভিজ্ঞজনরা। তন্মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয় অন্যতম। উদ্ভূত পরিস্থিতি জ্বালানি ব্যয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার যে বিকল্প নেই এ কথা না বললেও চলে। সরকারও বিষয়টি সম্যক উপলব্ধি করে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইনে ক্লাস চালু, সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি ও অফিসের কর্মঘণ্টা কমানো, ইত্যাদি। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও গ্রহণ করা হয়নি। আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। 

উল্লিখিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানির মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন। এর মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজহার ৯৩৯ টন ডিজেল, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, বর্তমান মজুদ দিয়ে আগামী ১৫-১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এদিকে জ্বালনি তেলের মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে গত সোম ও মঙ্গলবার এলপিজিসহ বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি নিয়ে ৪টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। উদ্ভূত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের আন্তরিকতা বা উদ্যোগের ঘাটতি আছে বলা যাবে না। যানবাহনের জন্য ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কঠোর নজরদারি এবং জ্বালানি কার্ড চালুসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। জ্বালানি সরবরাহের অভাবে দেশের অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলোতে তেল আছে, সেগুলোয় প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা লেগে থাকছে লম্বা লাইন।

অপরদিকে আমাদের দেশের ‘ঐতিহ্য’ অনুযায়ী কতিপয় অসৎ ব্যবসায়ী এ সংকটকে পুঁজি করে মজুদদারিতে লিপ্ত রয়েছে। তারা জ্বালানির গোপন ও অবৈধ মজুদ গড়ে তুলে বিদ্যমান সংকটকে তীব্র করে অনৈতিক ফায়দা লুটতে তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রায় তিন লাখ টন জ্বালানি উদ্ধার করেছে। 

জ্বালানি এমন একটি নিত্যপণ্য, যার সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখা অত্যাবশ্যক। নাহলে সংকট তীব্র রূপ ধারণ করতে পারে। বর্তমান সময়ে জ্বালানিকে বলা হয় বিশ্বের চালিকাশক্তি। যানবাহন চলাচল, শিল্প-উৎপাদনসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর প্রভাব অনস্বীকার্য। গ্লোবাল ভিলেজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যেহেতু উদ্ভূত সংকটের বাইরে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই সঠিক কৌশল প্রয়োগ করে সংকট মোকাবিলাই শ্রেয়। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে অধিক পরিমাণে জ্বালানি আমদানি হতে পারে অন্যতম উপায়। 

সংকট উত্তরণে অবশ্যই যুৎসই পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। তবে সে পরিকল্পনা যাতে নতুন সংকটের উদ্ভব না ঘটায় সে কথা সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখা আবশ্যক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শারীরিক উপস্থিতি কমিয়ে দিলেই জ্বালানি সাশ্রয়ে বিরাট পদক্ষেপ হবেÑ এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া অনলাইনে ক্লাস নিতে গেলে শিক্ষার্থীদের হাতে সেলফোনসহ নানা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস তুলে দিতে হবে, যা তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেননা এর ফলে পাঠ্যপুস্তকের চেয়ে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন-কম্পিউটারের প্রতি আরও বেশি আসক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবস্থাটা দাঁড়াতে পারে ‘কুইনাইন জ্বর সারাবে, কিন্তু কুইনাইন সারাবে কে’ উক্তির মতো। সরকারি কর্মচারীদের ছুটি বৃদ্ধিও যৌক্তিক মনে করার কারণ নেই। এমনিতেই আমাদের সরকারি অফিস-আদালতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অলসতা প্রবাদতুল্য। তার ওপর এখন যদি সাপ্তাহিক ছুটি বাড়িয়ে বা কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সরকারি অফিসে কাজের গতি আরও স্থবির হয়ে পড়বে। 

এটা অবশ্যই বিবেচনায় রাখা আবশ্যক যে, আমাদের দেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়, তার একটি অতি ক্ষুদ্রাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়িত হয়। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বা পাঠদান কমিয়ে দিয়ে খুব একটা সাশ্রয় হবে না। বরং গাড়ি ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে, সরকারি কর্মকর্তাদের পৃথক গাড়ির পরিবর্তে একই গাড়িতে অধিকজনের অফিসে যাতায়াতের নির্দেশ জারি করলে তা অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। 

সংকট সৃষ্টি হওয়াটা অভিনব কিছু নয়। বরং পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে নানারকম সংকটের উদ্ভব হয়েছে, আবার তার সমাধানও হয়েছে। সংকট সে প্রাকৃতিক হোক কিংবা মানুষের সৃষ্ট হোক, তা মোকাবিলা করতে হয় মানুষকেই। এ ক্ষেত্রে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। সাশ্রয়নীতি অবলম্বন করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার বাস্তবায়নে জনসাধারণের সর্বাত্মক সহযোগিতার বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিতে চাই। কেননা, জনগণের সহযোগিতা ব্যতিরেকে সরকারের সফলতা সম্ভব নয়। তবে সরকারের সে সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ হতে হবে বাস্তবানুগ। হঠকারী কিংবা অবিমৃশ্যকারী অবশ্যই নয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা