× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মুক্তিযুদ্ধ রাজনীতিকরণ

আমাদের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করছে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৭ পিএম

আমাদের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘শুধু অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে এক চোখ কানা, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখ অন্ধ। সুতরাং অতীতকে একদমই ভুলে থাকলে যেমন চলবে না, আবার অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে গিয়ে সেটি যেন আমাদের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।’

২৭ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তার এই বক্তব্য আমাদের জাতীয় চেতনার একটি গভীর বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে। ইতিহাস ও বর্তমানের ভারসাম্য রক্ষা করেই একটি জাতি তার ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারেÑ এই মৌলিক সত্যটিই তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা নিয়ে আলোচনা হবে, গবেষণা হবেÑ এটাই স্বাভাবিক। তবে গবেষণা কিংবা বক্তব্য-মন্তব্য এমন হওয়া উচিত নয়, যেটি আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবজনক ইতিহাসের অবমূল্যায়ন করে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র। তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বেড়ে ওঠেননি, তিনি একজন সমরসৈনিক ছিলেন এবং তিনি একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন লালন করতেন। সচেতনভাবেই তিনি স্বাধীনতার চিন্তা-চেতনা ধারণ করতেন। তিনি হঠাৎ করেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননিÑ এর জন্য তার দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছিল।

এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতিষ্ঠা। এই ইতিহাস আমাদের গর্ব, আমাদের শক্তি। কিন্তু এই ইতিহাসকে কেবল স্মৃতিচারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দিলে তা কার্যকর শক্তিতে পরিণত হয় না। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে গঠন করাই সকলের দায়িত্ব।

তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রথম অংশÑ ‘শুধু অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে এক চোখ কানা’Ñ এই সতর্কবার্তা দেয় যে, যদি আমরা শুধু অতীতের গৌরব বা বেদনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি, তাহলে আমরা বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো দেখতে ও মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হব। উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাÑ এসব বিষয়কে উপেক্ষা করে শুধু ইতিহাসের আলোচনা একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে না। বরং এতে স্থবিরতাই তৈরি হয়। অন্যদিকে, ‘অতীত ভুলে গেলে দুই চোখ অন্ধ’Ñ এই অংশটি আরও গভীর তাৎপর্য বহন করে। ইতিহাস ভুলে গেলে একটি জাতি তার শেকড় হারায়। তখন ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, এবং একই ভুল বার বার ঘটতে পারে। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জাতির প্রতিষ্ঠার মূল্যবোধ ভুলে গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিচ্যুতি অনিবার্য হয়ে ওঠে।

আমরা মনে করি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যের দুটি অংশই বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কেননা রাজনৈতিক বিভাজন, ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার রাজনীতিতে অতীতের অপব্যবহারÑ এসব বিষয় আমাদের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করছে। স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে আমাদের উচিত ইতিহাসকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা, কিন্তু তা নিয়ে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য সৃষ্টি করা। এ প্রসঙ্গেও তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের ছিল নাÑ এটি ছিল ‘জনযুদ্ধ’। তিনি উল্লেখ করেন, বছরের পর বছরÑ এমনকি যুগের পর যুগ লড়াই করেও যারা এখনও স্বাধীন হতে পারেননি, একমাত্র তাদের পক্ষেই স্বাধীনতার মূল্য সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব। স্বাধীনতার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারছেন স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনের প্রতিটি মানুষ। তাই আমাদের অঙ্গীকার হোকÑ সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকব।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকে আমরা বলতে চাই, একটি দায়িত্বশীল জাতি হিসেবে আমাদের করণীয় হলো অতীতের শিক্ষা থেকে শক্তি নিয়ে বর্তমানের সমস্যাগুলোর সমাধান খোঁজা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি করা। শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারি।

কারণ স্বাধীনতা দিবস কেবল একটি উদযাপন নয়Ñ এটি আত্মসমালোচনারও দিন। আমরা কোথা থেকে এসেছি, কোথায় আছি এবং কোথায় যেতে চাইÑ এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার দিন। প্রধানমন্ত্রীর উক্তিটি আমাদের সেই পথেই ভাবতে বাধ্য করে। কারণ মুক্তিযুদ্ধ রাজনীতিকরণ আমাদের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করছে। সুতরাং অতীতকে ধারণ করে, বর্তমানকে বুঝে এবং ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রেখে এগিয়ে চলাই হবে আমাদের সঠিক পথ। তাহলেই স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ও মর্যাদা রক্ষা পাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা