× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সড়ক দুর্ঘটনা

দায় নিতে হবে এ ধারাবাহিক মৃত্যুর

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬ ১২:১৩ পিএম

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৯ পিএম

এবার ঈদে একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যান, চালকের অদক্ষতা ও আইনের প্রয়োগের অভাব। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

এবার ঈদে একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যান, চালকের অদক্ষতা ও আইনের প্রয়োগের অভাব। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঈদযাত্রায় গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ ক’টি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ, বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ, দ্রুতগতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এসব ঘটনাই ছিল বেশি। তবে বুধবার রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়ায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে বাসডুবি, কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতসহ বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রতিদিন ঝরছে অগণিত প্রাণ, বাড়ছে পঙ্গুত্ব এবং পারিবারিক বিপর্যয়। 

একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যান, চালকের অদক্ষতা ও আইনের প্রয়োগের অভাব। বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক হিসাবে ঈদকেন্দ্রিক ৮ দিনে ২৬৮ সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছে। আহত ছয় শতাধিক। সংস্থাটির মতে, এই সংখ্যা প্রাথমিক। পরে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। বলা বাহুল্য, বেসরকারি সংস্থাগুলো সাধারণত ঈদের আগে সাত দিন, পরের সাত দিন এবং ঈদের দিনসহ মোট ১৫ দিনকে ঈদযাত্রা হিসেবে গণ্য করে। এবার ঈদের ছুটি শুরু হয় ১৭ মার্চ। সাত দিনের ছুটি চলে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানায় এখনও চলছে ঈদের ছুটি। এ হিসেবে ঈদযাত্রা এখনও চলমান। 

বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হতে পারে। এবার ট্রেনে দুর্ঘটনা অতীতের তুলনায় বেশি। জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার না কমলে, দুর্ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেত। অধিকাংশ দুর্ঘটনায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ যানবাহনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তারা বলছেন, অনেক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর পর আরও অনেক তথ্য আসবে। তবে যে আভাস মিলছে, তাতে প্রাণহানির রেকর্ড হতে পারে এবারের ঈদযাত্রায়। খোদ সরকারি হিসাবে সারা দেশে গত কয়েক দিনের পরিসংখ্যান ১৭ মার্চ ১২ জন, ১৮ মার্চ ১৩ জন, ১৯ মার্চ আটজন, ২০ মার্চ আটজন, ২১ মার্চ ১৫ জন, ২২ মার্চ ৩২ জন, ২৩ মার্চ ৯ জন নিহত হয়েছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে গত বছরের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৫ দিনে সড়ক-মহাসড়কে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হয়। 

সড়ক যেন এখন মৃত্যুফাঁদ এ কথাটি আর নতুন নয়, কিন্তু গত কয়েক দিনে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৪ জন মানুষের প্রাণহানি আমাদের বিবেককে নতুন করে নাড়া দিয়েছে। মনে রাখতে হবে প্রতিটি সংখ্যা একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি ভবিষ্যৎ। এই নির্মম বাস্তবতা প্রমাণ করে, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দায়িত্বশীলদের কথার চেয়ে কাজের ঘাটতিই বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে স্মরণকালের নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রার দাবি করা হলেও, প্রাণহানির সংখ্যা অতীতের যেকোনো ঈদের ছুটির তুলনায় বেশি। বস্তুত, সড়ক দুর্ঘটনা এমন রূপ নিয়েছেÑ বহু মানুষ হতাহত হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন আছে। প্রয়োগ নেই। প্রয়োগের জন্য চাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণেই আইন যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। ধেয়ে আসছে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। সড়কে নিরাপদে চলাচল বিষয়ে অজ্ঞতা, অবহেলা এবং ট্রাফিক আইনের প্রয়োগহীনতাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে যতগুলো কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তার প্রতিটির রক্ষার দায়িত্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনার। কিন্তু এই ব্যবস্থাপনা এতটাই দুর্বল যে, কোনোভাবেই তা সামাল দিতে পারছে না। বিস্ময়কর সত্য হচ্ছে, ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। বিশেষ করে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দিকে। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় দুর্ঘটনার মাত্রা বাড়ছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চাই সময়োপযোগী সুষ্ঠু পরিকল্পনা। দরকার একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ধারাবাহিক এতো প্রাণহানিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মেনে নেওয়া যায় না কিছুতেই। এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে এবং করতে হবে এর প্রতিকার ও প্রতিবিধান।

আমরা মনে করি, সড়ক-মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনা সরাতে হলে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে। বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবহন মালিক-শ্রমিক-যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে। গণপরিবহনে চাঁদাবাজি নির্মূল করতে হবে। রেল ও নৌপথ সংস্কার করে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে হবে। এই ক্ষেত্রে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব বাস্তবায়ন করা গেলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। অন্যথায় সংকট যে তিমিরে আছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা খুবই কঠিন।

সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। চালক, যাত্রী, পথচারীÑ সবাইকে সচেতন হতে হবে। সড়কে একটু অসতর্কতা মানেই একটি জীবনের অবসানÑ এই সত্যটি অনুধাবন করতে হবে। আট দিনে ২০৪ প্রাণহানি কোনো পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে এই মৃত্যুমিছিল থামবে না। নিরাপদ সড়ক কেবল একটি দাবি নয়Ñ এটি আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা