× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পেশাজীবীদের প্রয়োজন অবসর পরিকল্পনা

নিরঞ্জন রায়

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬ ১২:০১ পিএম

নিরঞ্জন রায়, সার্টিফায়েড অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং স্পেশালিস্ট ও ব্যাংকার, টরন্টো, কানাডা

নিরঞ্জন রায়, সার্টিফায়েড অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং স্পেশালিস্ট ও ব্যাংকার, টরন্টো, কানাডা

মাঝেমধ্যেই পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হতে দেখা যায় যে, কোনো সাংস্কৃতিক কর্মী, সংবাদিক, শিক্ষক অথবা অন্য কোনো পেশার মানুষ মারাত্মক আর্থিক কষ্টে আছেন, অথবা অর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। কোনো খবর বেশি আলোচনার সৃষ্টি করলে, সেই অসহায় ব্যক্তির পেশার মানুষ, অথবা তার একসময়ের সহকর্মীরা এগিয়ে আসেন সহযোগিতার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসে এবং সেখান থেকে সহযোগিতা করা হয়। যেমন প্রয়াত স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন আর্থিক সংকটের কারণে যখন চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না, তখন প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলেন উন্নত চিকিৎসার জন্য। যদিও তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে পারেননি, কিন্তু জীবদ্দশায় দেখে যেতে পেরেছেন যে অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা ব্যাহত হয়নি এবং সরকার তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। আমজাদ হোসেন বা এরকম দুয়েকজন সৌভাগ্যবানের কথা বাদ দিলে অধিকাংশ পেশাজীবীরা অবসর জীবনে এসে আর্থিক সংকটে পড়েন।

অবসর পরিকল্পনা হচ্ছে মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যার সিদ্ধান্ত নিতে হয় জীবনের শুরুতে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ


আমাদের দেশে সরকারি চাকরি এবং সামান্য কিছু বৃহৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোথাও চাকরির ক্ষেত্রে অবসর ভাতার সুযোগ নেই। কিন্তু সরকারি সংস্থা এবং অবসর সুবিধা আছে এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ খুবই সীমিত। অধিকাংশ মানুষ এমনসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন যেখানে কোনোরকম অবসর সুবিধা নেই। তা ছাড়া মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশ আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত, যাদের কোনোরকম অবসর পরিকল্পনা থাকে না। এই আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের মধ্যে ভালো একটি অংশ আছেন, যারা মানসম্পন্ন কাজ করেন এবং এজন্য বিশেষ দক্ষতা থাকতে হয়। যেমন, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংবাদ কর্মী, বেসরকারি শিক্ষক, আইনজীবী, খেলোয়াড় এবং এরকম আরও অনেক পেশা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত, যেখানে ভালো একটি অংশ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এসব পেশায় যারা নিয়োজিত, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো অবসর সুযোগ থাকে না। এসব পেশাজীবী যদি নিজে থেকে অবসর পরিকল্পনা না করেন, তাহলে তাদের অবসর জীবনে আর্থিক কষ্ট দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। 

এসব পেশায় আবার উপার্জনের কোনো সামঞ্জস্য বা ধারাবাহিকতা নেই। বলা চলে, যার দক্ষতা এবং জনপ্রিয়তা যেমন, সে সেভাবেই উপার্জন করে থাকে। আবার উপার্জনের পরিমাণ যেরকমই হোক না কেন, এই ধরনের পেশায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভালো অঙ্কের অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকে, যা সেই নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আর অব্যাহত রাখা যায় না। একজন ভালো মানের ক্রিকেটার বা ফুটবলার যা উপার্জন করার, তা পঁয়ত্রিশ বছরের মধ্যেই করে ফেলে। এই বয়সের পর আর উপার্জনের সুযোগ সেভাবে থাকে না। একইভাবে একজন অভিনেতাকে জনপ্রিয়তা থাকতে থাকতেই যা উপার্জন করার, তা করে নিতে হয়। জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপার্জনও কমতে থাকে এবং এক পর্যায়ে উপার্জনের সুযোগই থাকে না। একই অবস্থা একজন বেসরকারি শিক্ষকের বেলায়। আয়-উপার্জনের এই বৈশিষ্ট্য সব পেশাতেই কমবেশি একই রকম। আমাদের দেশের পেশাজীবীদের অবস্থা এমন যে ক্যারিয়ারের নির্দিষ্ট একটি সময়, যা মোটেও দীর্ঘ নয়, সেই সময়ে উপার্জন করে সারা জীবন কাটাতে হয়, যা বেশ কঠিন এবং অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই দেখা যায় যে, অনেক পেশাজীবীই অবসর জীবনে এসে আর্থিক কষ্টে পড়েন। অথচ এটা মোটেই হওয়ার কথা নয়। পেশাজীবীদের সঠিক অবসর পরিকল্পনা না থাকার কারণে এই আর্থিক সংকটের সৃষ্টি হয়। একজন খেলোয়াড় যদি জীবনে দুই কোটি বা তার অধিক অর্থ উপার্জন করে, তাহলে তাকে কেন আর্থিক কষ্টে পড়তে হবে। একইভাবে একজন নায়ক-নায়িকা বা অভিনেতা যদি তার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সময় তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা উপার্জন করে থাকেন, তাহলে তাকে কেন জীবনের কোনো একসময় আর্থিক কষ্টে পড়তে হবে। এরকম উল্লেখযোগ্য উপার্জন থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটে পড়তে হবে তখনই, যখন সঠিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অবসর পরিকল্পনা থাকে না। এই সমস্যা আমাদের দেশের অধিকাংশ পেশাজীবী এবং আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের।

যে সকল পেশাজীবী শুরু থেকেই খুব সামান্য উপার্জন করেন, তারা হয়তো প্রথম থেকে সেভাবে অবসর পরিকল্পনা করতে নাও পারেন। কিন্তু যারা শুরু থেকেই ভালো অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন, তারা তো অনায়াসেই শুরু থেকে ভালো মানের অবসর পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারেন। একজন পেশাজীবী যদি কর্মজীবনের প্রথম দুই বছরের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা অবসর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরিয়ে রেখে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করে রাখতে পারেন, তাহলে তিনি অবসর জীবনের শুরুতে হাতে পাবেন তিন থেকে চার কোটি টাকা। এই পরিমাণ অর্থ হাতে পেলে কারও আর্থিক সংকট হওয়ার কথা নয়। আমি সাধারণের বোঝার জন্য কর্মজীবনের প্রথম দুই বছরে পাঁচ লাখ টাকা অবসর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরিয়ে রাখার কথা উল্লেখ করেছি। সঠিক পরিকল্পনা করে অবসর সুযোগ তৈরি করতে পারলে প্রথম দুয়েক বছরে পাঁচ লাখ টাকা সরিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে প্রতিবছরে সামান্য কিছু অর্থ বিশেষ ব্যবস্থায় একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সরিয়ে রাখতে পারলে, এর থেকেও অনেক বেশি অর্থ অবসর জীবনের শুরুতে পাওয়া সম্ভব। 

অবসর পরিকল্পনা হচ্ছে মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যার সিদ্ধান্ত নিতে হয় জীবনের শুরুতে। অথচ অবসর পরিকল্পনার ধারণাই আমাদের সমাজে নেই।

অধিকাংশ পেশাজীবী জীবনের শুরুতে যখন অধিক পরিশ্রম করার সুযোগ থাকে, তখন জীবনের সেরা উপার্জনটা করে, সেই উপার্জনের অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ায়ে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের মাধ্যমে শেষ করে ফেলে। নিজের জীবনে যে একটা সময় আছে, যখন নিয়মিত উপার্জন থাকবে না, সে কথাটা অধিকাংশ পেশাজীবী বেমালুম ভুলে যায়। আমাদের সমাজে এমন একসময় ছিল, যখন, মানুষ অবসর জীবনে পুরোটাই নির্ভর করত পরবর্তী প্রজন্ম বা ছেলেমেয়েদের ওপর। এখন আর সে সময় নেই। সমাজ কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এখন আমরা এমন এক সমাজব্যবস্থায় উপনীত হয়েছি, যেখানে নিজের অবসর পরিকল্পনা নিজেকে করতে হয়। 

আমাদের দেশের পেশাজীবীদের এখন অবসর পরিকল্পনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। অনেক পেশাজীবী যে বিষয়টি নিয়ে ভাবেন না এবং কিছু পদক্ষেপ নেন না, তেমন নয়। তবে তাদের অবসর পরিকল্পনার কাজটি মূলত কিছু সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। সত্যি বলতে কি, পেশাজীবীই হোক, আর সাধারণ কর্মজীবীই হোক না কেন, কেউ নিজের অবসর পরিকল্পনা নিজে করতে পারে না। এই ধরনের সেবা সাধারণত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাংক তো এখনও সেই মান্ধাতার আমলের সঞ্চয় সংগ্রহ এবং ঋণ প্রদানের মধ্যেই আটকে আছে। তারা যে ব্যাংকিং সেবার ক্ষেত্রে কিছু বৈচিত্র্য এনে এরকম অবসর পরিকল্পনার মতো সেবা প্রদান করবে, সেই প্রচেষ্টা একেবারেই নেই। আর এখন তো আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাত বেশ সমস্যার মধ্যে আছে। তবে যেহেতু অবসর সেবা মূলত সঞ্চয়ভিত্তিক, তাই এই ধরনের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনোরকম সমস্যা হওয়ার কথা নয়। 

এই সেবার জন্য ব্যাংকগুলো এমন একটি প্রডাক্ট তৈরি করবে, যার অধীনে পেশাজীবীদের উপার্জনের ওপর ভিত্তি করে প্রথম তিন বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা নেওয়া হবে, পরবর্তী তিন বছরে কিছু পরিমাণ জমা নেওয়া হবে এবং এভাবে চলতে থাকবে পনেরো বছর পর্যন্ত। অর্থের জমার পরিমাণ এমনভাবে নির্ণয় করা হবে যাতে প্রথম দিকে কষ্ট হলেও বেশি পরিমাণ অর্থ জমা দিতে পারে এবং সেই অর্থ চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেয়ে অবসর জীবনে পৌঁছার সময় ভালো একটি অঙ্কে উন্নীত হয়। এই অবসর পরিকল্পনায় জমা হওয়া সমস্ত অর্থ সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করা থাকবে। যেহেতু সরকারি নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে, তাই অবসর পরিকল্পনায় জমা করা অর্থ যত্রতত্র বা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা যবে না। শুধু ঝুঁকি নেই বা একেবারেই কম ঝুঁকি আছে, যেমন- নগদ জামানতের বিপরীতে ঋণ, সরকারি খাতে ঋণ, ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা যাবে। আর সরকারও ব্যাংক থেকে ঋণগ্রহণের ক্ষেত্রে এই খাতকে অগ্রাধিকার দেবে। এই শর্তগুলো কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে। বিষয়গুলো সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে গেলে যে মাত্রার আলোচনা প্রয়োজন, তার সুযোগ এখানে নেই। 

দেশে বিভিন্ন পেশার পরিধি যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, মানুষ যেভাবে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হচ্ছে এবং ভালো মানের উপার্জনও করছে, তাতে পেশাজীবীদের জীবন স্বাচ্ছন্দ্য করতে এবং তাদের সম্ভাব্য আর্থিক সংকট এড়াতে হলে যথাযথ অবসর সুযোগ সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এজন্য পেশাজীবীদের যেমন ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার বিষয়টি মাথায় রেখে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে, তেমনি সরকারকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে এবং সহযোগিতা দিতে হবে। আর ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে ব্যবসায়িক সুযোগ নিয়ে সেবা বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অবসর পরিকল্পনার সেবা প্রদানের জন্য। অনেকেই ভাবতে পারেন যে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রবর্তন করে এই সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। দেশের ডেমোগ্রাফি যে অবস্থানে আছে, তাতে সর্বজনীন পেনশন চালু করতে হবে। কিন্তু পেনশন এবং অবসর সুযোগ দুটো ভিন্ন বিষয়। একটি আরেকটির অংশ হতে পারে, কিন্তু এক বিষয় নয়। এই দুই বিষয়ের মধ্যকার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে গেলে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন, যার সুযোগ এখানে নেই, তাই অন্য কোনো পরিসরে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব। 


নিরঞ্জন রায়

সার্টিফায়েড অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং স্পেশালিস্ট ও ব্যাংকার, টরন্টো, কানাডা 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা