× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সম্মানী

আমার এ দেশ সব মানুষের

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬ ১৪:২০ পিএম

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের আওতায় দেশজুড়ে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, গির্জার যাজক ও পালকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্মানী পাবেন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের আওতায় দেশজুড়ে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, গির্জার যাজক ও পালকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্মানী পাবেন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ হাজার বছর ধরে এখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে জীবনযাপন করেছেন। এই সম্প্রীতি একদিনে গড়ে ওঠেনি। আমাদের কৃষ্টি ও কালচার, আমাদের দৈনন্দিন জীবন এবং সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির যে নজির গড়ে উঠেছে, তা ঈর্ষণীয়। তবে এই সম্প্রীতি বিভিন্ন সময়ে কিছু অশুভ শক্তি নষ্ট করতে চেয়েছে। তারা নানাভাবে দেশের ভেতরে থেকে এমনকি বাইরে থেকেও উস্কানি দিয়ে বৈরী পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে। যাতে করে অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে, পরস্পর পরস্পরকে শ্রদ্ধাপূর্ণ যে সম্পর্কের ধারক হিসেবে আমাদের সুনাম রয়েছে, তা নষ্ট হয়ে যায়। তবে আশার কথা সেই অশুভ শক্তি কখনোই তাদের ঘৃণিত কাজে সফল হতে পারেনি। এ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ তাদের সকল ষড়যন্ত্র নষ্ট করে দিয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখেছে। 

বর্তমান সরকারও সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার বন্ধনেই দেশের মানুষকে বেঁধে রাখতে চাইছে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র কারও ওপর কোনো ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। বরং সবাই নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্ম পালন করবে, রাষ্ট্র সেক্ষেত্রে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। আর এই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই সকল ধর্মের মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি। এক কাতারে রয়েছি। এটিই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ-বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদীÑ আমরা সবাই মিলেই ভালো থাকব।’

প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশজুড়ে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্মানী পাবেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারের এসব আর্থিক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।

ধর্মনিরপেক্ষতা নামে ধর্মহীনতা নয়, বরং রাষ্ট্র প্রত্যেকটি মানুষকে তার স্ব-স্ব ধর্ম পালনে যে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা একে সাধুবাদ জানাই। আমরা প্রত্যাশা করি, সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সব ধর্মের মানুষের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সফল হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসীÑ সকলে মিলেই আমরা ভালো থাকব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার এই যে উদ্যোগ, এ লক্ষ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সম্মানী প্রদান, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সমাজে বিভেদ-বিরোধ সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করারও ইঙ্গিতও স্পষ্ট। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র ও সরকারের এই যে উদ্যোগ এর মর্মার্থ দেশের প্রতিটি মানুষ আন্তরিকভাবে অনুধাবন করবেন এবং সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা বোধই আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ভিত্তি। যারা ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে, যারা নিজ মতের বাইরে অন্যকে মতপ্রকাশে বাধা প্রদান করে, তারা কখনোই সুনাগরিক হতে পারেন না। আমাদের সবারই মনে রাখতে হবেÑ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক এবং একসঙ্গে বসবাস করাই আমাদের ঐতিহ্য।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা