× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জবাবদিহিতার সংস্কৃতি

রাষ্ট্রে প্রকৃত সুশাসন নিশ্চিতে অপরিহার্য

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৩ এএম

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা। একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে কার্যকর ও গণমুখী হয়ে ওঠে যখন তার প্রশাসন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। এমন এক বাস্তবতায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার দেশে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম ছাড়া সভ্যতার চর্চা সম্ভব নয়। আর গণতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ অন্ধকারে থাকে। রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ড আয়নার মতো তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তথ্যমন্ত্রী ১৩ মার্চ, শুক্রবার বগুড়ায় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান ও সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। আমরা মনে করি, তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কথা সত্য যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতার সংস্কৃতি ছাড়া ভালো শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। জবাবদিহিতা বলতে মূলত বোঝায়, রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং প্রয়োজন হলে সেই কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দেবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তাই রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপ জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হওয়া উচিত। জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অতীতের সরকারগুলোর সময়ে এ ধরনের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা গত এক দশকে প্রশংসনীয় হলেও প্রশাসন ও বিভিন্ন খাতে জবাবদিহিতার ঘাটতি বিশেষভাবে সমালোচিত। দেখা গেছে, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি, কিংবা অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। এসব সমস্যা অনেক সময় সঠিক তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবেই সৃষ্টি হয়। তাই বর্তমান সরকার যদি সত্যিই জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে তা কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি ও ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা যেতে পারে। এতে জনগণ সহজেই জানতে পারবে কোন প্রকল্পে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং সেই প্রকল্প কতটুকু অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতে হবে। গণমাধ্যম অনেক সময় সমাজের আয়নার মতো কাজ করে এবং প্রশাসনের ত্রুটিবিচ্যুতি তুলে ধরে। তাই গণমাধ্যমকে সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হলে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। একইভাবে নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ সচেতন হলে এবং প্রশ্ন করার সংস্কৃতি তৈরি হলে জবাবদিহিতা স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী হবে।

আমরা মনে করি, তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে যে প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ দেওয়া গেলে দেশের প্রশাসন ও রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে উঠলে দুর্নীতি কমবে, সেবার মান বাড়বে এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। এটা মানতে হবে, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি এক দিনে গড়ে ওঠে না; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সরকারের সদিচ্ছা, প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা ও জনগণের সচেতন অংশগ্রহণÑ এই তিনের সমন্বয়েই দেশে একটি শক্তিশালী জবাবদিহিতামূলক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আর সেটা হলেই প্রকৃত অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা