× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গণতন্ত্র নিষ্কণ্টক হোক

স্বাগত: জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৫ পিএম

গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সংসদের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অনেকাংশে নির্ভর করে একটি কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদের ওপর। তাই সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া যত বেশি স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হবে, ততই গণতন্ত্রের ভিত্তি হবে মজবুত। এ প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশাÑ একটি এমন সংসদ, যা সত্যিকার অর্থেই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে এবং গণতন্ত্রের পথ করবে নিষ্কণ্টক।

এ কথা সত্য যে, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং সেই প্রতিনিধিরাই সংসদে বসে দেশের আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে কাজ করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, এবার সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উত্থাপন করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির জারি করা সকল অধ্যাদেশ। সেই হিসাবে আজই সংসদে উত্থাপিত হবে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। সেগুলো ৩০ দিনের মধ্যেই আইনে পরিণত করতে হবে। জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা এসব অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করেÑ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে সেগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে। তাই রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা ব্যাপক কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছেন এই অধিবেশনের। এখন দেখার বিষয় সব অধ্যাদেশই আইনে পরিণত হয় কি না? 

নিয়মানুযায়ী অধ্যাদেশগুলো যে যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত, সেই মন্ত্রণালয়গুলো সংসদে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পেশ করার পর বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই হবে।এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থ ও আইনি যৌক্তিকতার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোনগুলো আইনে পরিণত হবে। আলোচিত যে অধ্যাদেশগুলো মানুষকে স্পর্শ করে, সেগুলোর ওপর বেশি আলোচনা ও যুক্তিতর্ক হবে। সংসদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন সাধারণত প্রতীকী হলেও এবার আইনগত দিক থেকে তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাদের মতে, অধ্যাদেশ ব্যবস্থাটি জরুরি পরিস্থিতির জন্য রাখা হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি আইন প্রণয়নের বিকল্প হতে পারে না। 

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এই ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের ৫৫৯ দিনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তখন সংসদ কার্যকর না থাকায় আইন প্রণয়নের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি। আরও উল্লেখ্য, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদ। অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তগুলোই পরবর্তীতে অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, কিছু নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন এবং জনসেবামূলক খাতে কিছু নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। নানা প্রতিকূলতা, আন্দোলন ও সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সংসদের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক। তাই সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকাটা জরুরি। 

ভুলে গেলে চলবে না, একটি কার্যকর সংসদের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী বিরোধী দল, গঠনমূলক বিতর্ক এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ। সংসদ যদি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং সেখানে মতের বহুমাত্রিকতা না থাকে, তাহলে গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা ব্যাহত হয়। তাই সংসদে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের স্বার্থে নীতি নির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্য তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে সংসদকে কার্যকর করতে হবে। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সক্ষমতা নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠান যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজেরও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণকে সচেতন করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আমরা মনে করি, গণতন্ত্র কেবল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বা তার সংসদে সীমাবদ্ধ নয়। সংসদ সঠিকভাবে পরিচালনা ও জনপ্রত্যাশা পূরণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিক হতে হবে। তবেই সংসদ হবে সত্যিকার অর্থে জনগণের সংসদ। স্বীকার করতেই হবে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থেই প্রয়োজন একটি শক্তিশালী, কার্যকর এবং জনগণের আস্থাভাজন সংসদ। আশা করি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করবে। বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনের শাসন এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান বজায় থাকলে গণতন্ত্রের পথ হবে আরও মসৃণ ও নিষ্কণ্টক। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা