× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

মূল্যস্ফীতি কমাতে চাই শক্ত পদক্ষেপ

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩৩ পিএম

মূল্যস্ফীতি কমাতে চাই শক্ত পদক্ষেপ

অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। দেশে আবারও বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হার। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। একই ধারাবাহিকতায় গত ১০ মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

৮ মার্চ রবিবার, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির এই হালনাগাদ তথ্যগুলো প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবেই মূল্যস্ফীতিতে এ চাপ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দুই মাস থেকে বাড়তে শুরু করা মূল্যস্ফীতি এ নিয়ে টানা চার মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবশেষ মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘর অতিক্রম করেছিল গত বছরের মে মাসে। তখন মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। আরও স্পষ্ট করে বললে, টানা তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। 

বিবিএসের তথ্যে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা জানুয়ারি মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। অপরদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে ৯ দশমিক ০১ শতাংশ, যা আগের মাস জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। এদিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির হার এখনও মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির গড় সূচক ১২৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যে পণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ করতে হয়েছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই পণ্য কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ১০৯ টাকা ১৩ পয়সা। সংস্থাটি দেশের ৬৪ জেলার ১৫৪টি হাটবাজারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, মূল্যস্ফীতির এই চাপের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা অন্যতম কারণ। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করাও দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী। বিশেষ করেÑ চাল, ডাল, তেল, শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে সীমিত আয়ের মানুষকে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক পরিবারে খাদ্যাভ্যাস পর্যন্ত বদলে ফেলতে হচ্ছে। 

আসলে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। আয় একই থাকলেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের সঞ্চয় কমে যায়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। বাজার তদারকি জোরদার করে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফা রোধ করতে হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের সহায়তা বৃদ্ধি করা জরুরি। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণও গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য সরকার বৈশ্বিক কারণ দেখিয়ে থাকেন। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্যপণ্যের দাম কতটা বেড়েছে, আর দেশি বাজারে কতটা বাড়ানো হয়েছে, সেটা পরখ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমাদের বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও কথিত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যই দায়ী। সরকার সিন্ডিকেটের কথা স্বীকার করলেও তাদের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারা দুঃখজনক। 

আমরা মনে করি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা