বিশ্লেষণ
ড. মো. আইনুল ইসলাম
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩০ পিএম
শীতের জড়তা মুছে বসন্তের আগমন লগ্নে বাংলাদেশের ললাটে যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাগ্যলিপি দৃশ্যমান হচ্ছে, তা একাধারে কৌতূহল উদ্দীপক এবং চরম উদ্বেগজনক। প্রকৃতিতে যখন নতুন প্রাণের সঞ্চার হচ্ছে, ঠিক তখনই রাষ্ট্রের ললাটে চিন্তার ভাঁজ হয়ে ফুটে উঠছে ‘আয় কম ও ব্যয় বেশি’র এক রূঢ় বাস্তবতা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ বা সামাজিক চুক্তির যে সনাতন ধারণা, যেখানে নাগরিকরা কর প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এবং রাষ্ট্র বিনিময়ে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নাগরিক-রাষ্ট্রের কাঠামো বর্তমানে প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। আর এই অভাবনীয় চাপ নিয়েই বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন একটি সরকার সমাজ-অর্থনীতি ও রাষ্ট্রকে গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে, নাগরিকদেরও স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এমন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে রাজনৈতিক অর্থনীতি আপাত স্থিতিশীলতা দেখালেও সামষ্টিক ও সামগ্রিক অর্থনীতির পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, বাংলাদেশের বর্তমান সংকট ও সম্ভাবনা কেবল নীতি-নৈতিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা গভীরে প্রোথিত সমাজ-অর্থনীতির কাঠামোগত ব্যাধি এবং জনগণের প্রবল আকাঙ্ক্ষার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে, যা ভয়াবহ এক অর্থনৈতিক মন্দা ও সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই সংকটের ইঙ্গিত দেওয়ার কারণ হচ্ছে, সামষ্টিক অর্থনীতির নানা সূচক এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। যেমন সরকারের আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিধি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি ঋণের বকেয়া ২৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকায়। অর্থনীতির ভাষায়, এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘ফিসকাল ডেফিসিট’ বা রাজস্ব ঘাটতি। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ক্রমাগত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। কেবল সরকারি ঋণের বোঝাই নয়, বরং বেসরকারি খাতের খেলাপি ঋণ পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আজ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মোট জিডিপির ১২.৯২ শতাংশ যখন ঋণের স্থিতিতে পরিণত হয়েছে এবং সেই ঋণের সিংহভাগ (৬৮.৮৭ শতাংশ) সরাসরি ব্যাংকিং খাত থেকে নেওয়া, তখন বেসরকারি খাতের জন্য বিনিয়োগযোগ্য মূলধনের তীব্র সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিকে অর্থনীতিতে ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’ বলা হয়। এর অর্থ হচ্ছে, যখন সরকার ব্যাংক থেকে দেদারসে ঋণ নেয়, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো লাভজনক ও নিরাপদ মনে করে সরকারকেই টাকা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ফলে তরুণ উদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় মূলধন পান না। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর। এই প্রবণতার প্রবল উপস্থিতিই মূলত দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দা ও সংকটের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর বড় প্রমাণ হলোÑ ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ গত একদশকে জিডিপির সাড়ে ২২ শতাংশে এসে স্থবির হয়ে আছে।
রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যে বিশাল ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা নতুন সরকারের জন্য একটি হিমালয়সদৃশ চ্যালেঞ্জ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে শুল্ক-কর আদায়ের ঘাটতি যখন ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, তখন আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার শর্ত পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, যা কেবল কাগুজে প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এখানে অর্থনীতি শাস্ত্রের ‘র্যাশনাল চয়েস থিওরি’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই ২৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫৫ কোটি টাকায় বেশি ঋণের এক বিশাল পর্বত কাঁধে নিয়ে পথ চলতে শুরু করেছে। এই ঋণের প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান সুদ পরিশোধের চাপ ক্রমান্বয়ে অর্থনীতির শ্বাসরোধ করে দিচ্ছে। মুদ্রানীতিতে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ২০.৫ শতাংশ ধরা হলেও বাস্তবে তা ২৮.৯ শতাংশ। এর প্রবণতা দিয়ে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। কারণ, অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় সরাসরি বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে দিলেও সেই অনুপাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ছে না। উচ্চ নীতি সুদহার (১০ শতাংশ) এবং ব্যাংকঋণের ১৪-১৫ শতাংশ সুদ সত্ত্বেও মুদ্রাস্ফীতি লাগামহীন থাকার মূল কারণ হলো সরকারের ঋণ নিয়ে ঘি খেতে খেতে ঋণ-নির্ভরতায় ফেঁসে যাওয়া। ‘ডিপেন্ডেন্সি থিওরি’ বা নির্ভরশীলতা তত্ত্বের আলোকে দেখলে বোঝা যায়, রাষ্ট্র যখন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের চক্রে আটকা পড়ে, তখন তার সার্বভৌম নীতি প্রণয়নের ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পায়। উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যাংকের ঋণ নিয়ে বাজেট বাস্তবায়নের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আর্থিক খাতের এই সংকট কেবল একটি গাণিতিক হিসাব নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকটের প্রতিচ্ছবি, যেখানে একদিকে আইনের চোখে সব নাগরিক সমান বলা হলেও, বাস্তবে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাকে কিস্তির দায়ে জেলে যেতে হয়, আর শতকোটি টাকার ঋণখেলাপিরা দাপটের সঙ্গে সহজেই সংসদে গিয়ে বসেন। এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিকেই ধসিয়ে দিচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘সোশ্যাল স্ট্যাটিফিকেশন’ বা সামাজিক স্তরবিন্যাস বলা হয়, যেখানে অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাবে একদল মানুষ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যায়।
অর্থনীতির এই অরাজকতা বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ক্ষমতা আলাদা করার দাবি এখন আর কেবল আলোচনার বিষয় নয়, বরং সরকারের স্থায়িত্বের জন্য তা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ব্যাংক খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রানীতি প্রণয়নÑ এই দুই কাজ যখন একক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তখন সেখানে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়। বিগত ১৫ বছরে এই ব্যবস্থার কারণেই দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী তদারকি সংস্থা গঠন না করা পর্যন্ত খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের ব্যাংকের ওপর অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা অসম্ভব।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ‘আয় কম ও ব্যয় বেশি’ বা রাজস্ব ঘাটতির ট্র্যাজেডি আমরা শ্রীলঙ্কা ও গ্রিসের সাম্প্রতিক ইতিহাসে স্পষ্টভাবে দেখেছি। শ্রীলঙ্কার ‘সোভেরাইন ডেট ক্রাইসিস’ বা সার্বভৌম ঋণের সংকট মূলত আধুনিক মুদ্রানীতির ভুল প্রয়োগ এবং অনুৎপাদনশীল মেগা প্রজেক্টে ঋণের ওপর অতিনির্ভরতার ফসল। এটি অর্থনীতিবিদ মিল্টন ফ্রিডম্যানের ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ তত্ত্বের বাস্তব প্রতিফলন। ফ্রিডম্যানের মতে, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন ব্যয় মেটাতে যখন সরকার অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ বাড়ায়, তখন তা শেষপর্যন্ত জ্যামিতিক হারে মুদ্রাস্ফীতি ডেকে আনে। হিসাববিজ্ঞানের ‘ম্যাচিং প্রিন্সিপাল’ তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যয়কে অবশ্যই সেই সময়ের আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়; অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়ে। গ্রিসের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, উচ্চ ব্যয় ও স্বল্প কর আদায়ের ফলে দেশটি দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল, যা আরভিং ফিশারের ‘ডেট-ডিফ্লেশন’ তত্ত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়; সেখানে বলা হয়েছে, ঋণের বোঝা যখন আয়ের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়, তখন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সংকোচন দেখা দেয়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক এই বৈশ্বিক সংকটেরই এক প্রতিচ্ছবি, যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অর্থনীতি নিশ্চিতভাবে ‘ডেফিসিট ট্র্যাপ’ বা ঘাটতির ফাঁদে নিপতিত হবে। এই অবস্থায় ভবিষ্যৎ প্রক্ষেপণ ও ‘মিনস্কি মোমেন্ট’-এর আলোকে ভবিষ্যৎ সংকটের প্রক্ষেপণ করলে দেখা যায়, সামনের মাত্র ৫ মাসে নতুন সরকারকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে, যা ঐতিহাসিকভাবে একটি অসম্ভব লক্ষ্যমাত্রা। তুল্যবিচারে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও রাতারাতি এই হারে রাজস্ব বাড়ানো কঠিন। ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে প্রতি মাসে গড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকা আদায় করা বর্তমান ঘুণেধরা এনবিআরের পক্ষে তা এক কথায় কল্পনাতীত। এর মধ্যে আবার নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, যেমন ১ কোটি কর্মসংস্থান বা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে ব্যয়ের চাপ আরও বহুগুণ বাড়বে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। হাইম্যান মিনস্কির ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্ট্যাবিলিটি হাইপোথিসিস’ অনুযায়ী, দীর্ঘসময় ধরে অতিরিক্ত ঋণ এবং ফটকা বিনিয়োগ যখন স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়, তখন অর্থনীতি একটি ‘মিনস্কি মোমেন্ট’ বা আকস্মিক ধসের দিকে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্ভবত সেই বিন্দুর দিকেই এগোচ্ছে।
বাংলাদেশের এই সম্ভাব্য সংকট উত্তরণে আর্থিক খাতের ‘ইনফরমেশন অ্যাসিমেট্রি’ বা তথ্যের অসামঞ্জস্যতা দূর করা অপরিহার্য। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিটজের তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণগ্রহীতার প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন থাকে, তখন বাজারে ‘অ্যাডভার্স সিলেকশন’ বা ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন ঘটে। এর ফলে অযোগ্যরা ঋণ পায় এবং পুরো ব্যাংকিং খাত পঙ্গু হয়ে যায়। সমাধান হিসেবে হিসাববিজ্ঞানের ‘কনজারভেটিজম প্রিন্সিপাল’ কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে, যেখানে সম্ভাব্য রাজস্বকে বাড়িয়ে দেখানোর চেয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা দায়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে অমর্ত্য সেনের ‘ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ’ এবং ‘সোশ্যাল চয়েস থিওরি’র মিশেলে এমন একটি করব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে নাগরিকরা কর প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বচ্ছতা ও উন্নত সেবা নিশ্চিতভাবে পাবে। এ ছাড়া পল ক্রুগম্যানের ‘কারেন্সি ক্রাইসিস মডেল’ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় আমদানি-নির্ভর বিলাসী ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের আয়-ব্যয় সমীকরণকে একটি টেকসই সীমায় রাখতে হিসাববিজ্ঞান ও অর্থনীতিভিত্তিক ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি, যেখানে সরকারি ব্যয়, রাজস্ব আয়, ঋণের পরিবর্তন এবং অর্থ সরবরাহের দিকে সর্বদা দৃষ্টি রাখতে হবে। নতুন সরকারকে ঋণনির্ভর রাষ্ট্র পরিচালনা সংস্কৃতি থেকে বের হতে হলে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধে আইনি কঠোরতা এবং অযোগ্য-ব্যর্থ রাজস্ব প্রশাসন ও পরিকল্পনার আমূল সংস্কার করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে, তা পূরণ করতে হলে সরকারকে কেবল জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি নয়, বরং কঠোর অর্থনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে আর্থিক সংযম ও সুশাসনের পথে হাঁটতে হবে। এটিই হতে পারে নতুন সরকারের প্রকৃত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রক্ষাকবচ।
ড. মো. আইনুল ইসলাম
অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়