× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নারীর ক্ষমতায়ন: দেশের সার্বিক উন্নয়ন

নাছিমা বেগম

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬ ১১:১৭ এএম

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬ ১১:১৮ এএম

নাছিমা বেগম, সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সাবেক সিনিয়র সচিব। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নাছিমা বেগম, সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সাবেক সিনিয়র সচিব। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতায়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নারী পুরুষ দুজনেই মানুষ। নারী পুরুষের সম্মেলনে সৃষ্ট এই পৃথিবীতে দুজনেই অপরিহার্য। বাস্তবতা হলো, একজন আরেকজনের পরিপূরক হলেও উনিশ শতকের গোড়ার দিকে একজন নারী বাড়ির বাইরে পা রাখার কথা ভাবতেও পারত না। পড়াশোনা ছিল কল্পনার বাইরে! কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তাধারার বদল হচ্ছে, বদলে হচ্ছে সমাজব্যবস্থা। বর্তমানের নারীরা অবাধে পড়াশোনার পাশাপাশি নানা পেশায় কাজ করার সুযোগ যেমন পেয়েছে, তেমনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে সাফল্যও অর্জন করেছে। তবে নারীর এই অগ্রযাত্রা হঠাৎ করেই আসেনি। এর পেছনের ইতিহাস কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। নারীর অনেক শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে তা দিনে দিনে অর্জিত হয়।

নারীর অধিকারের যাত্রা শুরু হয় নারী শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্ক শহরে সুঁই তৈরির কারখানার নারী শ্রমিকরা বিপজ্জনক ও অমানবিক কর্মপরিবেশ, স্বল্পমজুরি ও দৈনিক ১২ ঘণ্টা শ্রমের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৮৬০ সালে নিউইয়র্ক শহরের সুঁই তৈরির কারখানার নারী শ্রমিকরা ইউনিয়ন গঠনের আইনগত অধিকার আদায়ে সক্ষম হন।

পরবর্তী পর্যায়ে ন্যায্য মজুরি আর আট ঘণ্টা শ্রমের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯০৮ সালের ৮ মার্চ আবারও নিউইয়র্ক শহরের রাজপথে সমবেত হয় পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের হাজার হাজার নারী শ্রমিক। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সমাজতান্ত্রিক নারীদের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে ১৭টি দেশের ১০০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় সভায় জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নারীনেত্রী ক্লারা জেৎকিন শ্রমজীবী নারীদের জন্য বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে সমবেত হওয়ার একটা খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। উপস্থিত সকলেই তার এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। এর ফলে একটি বিশেষ দিনে শ্রমিক নারীদের একত্র হয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। ক্লারা জেৎকিনের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ৮ মার্চকে নারীদের সম্মিলিত হওয়ার দিবস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

ব্রিটেনের নারীরা যখন ভোটাধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছিলেন তারা বেগুনি রঙকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। বেগুনি রঙ ন্যায়বিচার ও মর্যাদার প্রতীক। সেই থেকে বেগুনি রঙটি নারী দিবসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনকালে নারীদের প্রায় সকলেই বেগুনি রঙের শাড়ি বা পোশাক পরিধান করে।

বিংশ শতকে নারীর অধিকার মানবাধিকার হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত হলেও আমরা জানি যুগ যুগ ধরেই রাষ্ট্র, সমাজ এবং জনজীবনে সুবিধা ভোগের ক্ষেত্রে নারীবৈষম্যের শিকার হয়েছে। এ অবস্থার উত্তরণের জন্য নারীদের প্রতিনিয়তই করতে হয়েছে সংগ্রাম। এই সংগ্রামের ফসল হলো জাতিসংঘ কর্তৃক সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র-১৯৪৮। জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকারের মূল সুর হলো প্রতিটি মানুষের সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার জন্মগত অধিকার। ঘোষণাপত্র অনুসারে মানুষ হিসেবে নারীর এই প্রাপ্য অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১০ অনুচ্ছেদে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিধান হয়েছে। সংবিধানের ১৯, ২৭, ২৮ এবং ২৯ অনুচ্ছেদে নারীর অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। ৬৫(৩) অনুচ্ছেদে নারীর জন্য জাতীয় সংসদে আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং ৬৫(২) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত ৩০০ আসনে নারীর অংশগ্রহণে কোনো প্রতিবন্ধকতা রাখা হয়নি। সংবিধানের ৯ অনুচ্ছেদের অধীনে স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়নে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমতা ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের ২৮(৪) উপ-অনুচ্ছেদে বিশেষ বিধানও রাখা হয়েছে। নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারীর অগ্রগতির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধানে কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি।

সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্রে যে ৩০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এর প্রতিটিরই প্রতিফলন রয়েছে আমাদের সংবিধানে। জাতিসংঘ কর্তৃক নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ (সিডও) সনদ-১৯৭৯ গ্রহণের অনেক পূর্বেই বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সম-অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। সিডও সনদের ১৬টি অনুচ্ছেদে নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপে যেসব অনুশাসন দেওয়া হয়েছে, তার বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় প্রতিটি অনুশাসনই সংবিধানে বিদ্যমান।

নারীকে সুযোগ দেওয়া হলে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ক্রীড়া-সংস্কৃতি সকল ক্ষেত্রে সে তার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে। যার শত শত উদাহরণ বাংলাদেশে বিদ্যমান। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে। বাংলাদেশের এই সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নারীর সাফল্য, নারীর জীবন সংগ্রাম, নারীর উন্নয়ন গোটা জাতির সামনে তুলে ধরা এবং নারী সমাজের মধ্যে বিরাজমান সকল বিভ্রান্তি ও কুসংস্কার দূর করে কর্মমুখী নারীদেরকে আরও উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য সামনে নিয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় থেকে নানামুখী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

আজকে নারীরা তাদের পছন্দের পেশা বেছে নিয়ে স্ব-স্ব অঙ্গনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সমর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে, সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের নিয়োগ ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রশাসন, বিচার, পুলিশ, ব্যাংকিং ইত্যাদি সকল সেক্টরেই নারীর সাফল্য দৃশ্যমান।

পাশাপাশি আমি মনে করি, নারীরা আজ যেমন প্লেন চালায়, ট্রেন চালায়; তেমনি তারা চুল কাটে, মাংস কাটে। একজন নারী গরু-ছাগল জবাই করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন; এটা ভেবে আমার মনে হয়েছে এত অনেক বড় যোগ্যতা এবং অনেক সাহসের বিষয়। আমরা যারা বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিস করি তাদের চেয়ে কোনো অংশে কম নন। অর্থাৎ যে সকল নারী পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাপিত, কসাই, ধোপা, কামার, কুমার, জেলে, চাষি প্রভৃতি সকল পেশাতেই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকে সম্মান করতেই হবে। মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে সকল পেশাই সম্মানজনক। কোনো পেশাকে কম গুরুত্ব দেওয়া যাবে না বা খাটো করে দেখা যাবে না। একজন মানুষের কাজ বেছে নেওয়ার অধিকার একটি অন্যতম মানবাধিকার। সকল পেশায় নারীর অংশগ্রহণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে আরও সুসংহত করছে।

প্রবাসে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত নারীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের বিনিয়োগ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় হচ্ছে। সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে নারী কর্মীগণ তাদের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মোটাদাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২০ শতাংশে রয়েছে নারীর অবদান।

এনজিও সেক্টরে নারীদের বিশাল অবদান রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারীদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এনজিও যেমনÑ বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্র্যাক, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ইত্যাদি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে।

গার্মেন্টস শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাও বেড়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে অন্যতম নিয়ামক শক্তির ভূমিকায় রয়েছেন আমাদের নারীরা। এ শিল্পের মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশই নারী। এ শিল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ মহিলা শ্রমিক কর্মরত। যারা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে নারীদের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তথা সাংবাদিকতায়ও রয়েছে সরব পদচারণা। নারী তার মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও উপস্থাপনায় পারদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও নারীদের সাফল্য কম নয়। শুটিং, দাবা, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল ও ক্রিকেটে দেশের নারী ক্রীড়াবিদরা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ভারোত্তোলন থেকে শুরু করে এভারেস্ট বিজয় পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই আমাদের মেয়েরা জয় করছে। কাজেই স্পোর্টসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেয়েদের সকল ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হলে আমাদের মেয়েরা যে এগিয়ে যাবে তা আজ প্রমাণিত। দৃঢ় মনোবল নিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে সফল তালিকায় নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের অকুতোভয় নারী নিশাত মজুমদার এবং ওয়াসফিয়া নাজরীন।

ক্রীড়াঙ্গনে একের পর এক সাফল্য নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদরা। জাতীয় নারী ক্রিকেট দল জায়গা করে নিয়েছে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে। এ ছাড়া বাংলাদেশের দুরন্ত মেয়েরা ফুটবলেও সাফল্যের কাব্য রচনা করেছে। ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণেই মারিয়া মান্ডা-আঁখিদের ঘরের কোণে আটকে রাখা যায়নি। একে একে সব বাধা পেরিয়ে তারা ফুটবলার হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে কঠিন সব বাধা অতিক্রম করে উড়িয়েছে লাল-সবুজের পতাকা। ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের দুরন্ত মেয়েরা। এ জয়ের ফলে টুর্নামেন্টটির প্রথম আসরেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০২৬ সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা শিরোপা অর্জন করে।

আমাদের সমাজে যদি কেউ স্ত্রীর কথা শুনে তাকে স্ত্রৈণ বলে। বিষয়টি এমন যে স্ত্রীই শুধু স্বামীর কথা শুনবেন। স্ত্রীর যৌক্তিক কথা শুনলে ভালো ফল যে মেলে, তার বহু উদাহরণ রয়েছে। আমরা আবার অনেক সময় জেন্ডার সমতার কথা বলতে গিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করি। সবকিছুইতেই দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মাপতে বসে যাই। বিশেষ করে নারী-পুরুষের আহার, যেমনÑ মাছের মাথা কে খাবে? ইত্যাদি, ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে আমি মাঠ প্রশাসনে কাজ করার সময়ও বিভিন্ন সভা, সমাবেশে জেন্ডার সমতার নামে, কিছু কিছু কথার সঙ্গে একমত হতাম না। যেমন মা-সন্তানের ভালোবাসা, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা ভিন্ন ভিন্ন। মা হিসেবে সন্তানের প্রতি অপত্য ভালোবাসা এবং তাকে লালনপালনের বিষয়টি কর্তব্যের জায়গা থেকে একজন নারীর নিকট অনেক বড়। আমরা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরীজীবী হওয়ার কারণে আমাদের কর্মস্থলে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস। সেখানে অন্য কারও খবরদারি ছিল না। যে খাবারটি আমার ছেলেদের পছন্দ, সেটি তাদের না খাইয়ে কখনোই আমি মুখে তুলতে পারিনি।

স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, স্ত্রীর কাজের মূল্যায়ন সঠিকভাবে অনেকেই করতে পারেন না । এর জন্য অনেকের সংসার ঠুনকো হয়। ভেঙে যায়। নারীদের বিবাহ-বিচ্ছেদের পেছনে থাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন, অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক বা দ্বিতীয় বিয়ে, মতের বনিবনা না হওয়া, শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্ব, স্বামীর মাদকাসক্তি ইত্যাদি। আর পুরুষের ক্ষেত্রে রয়েছে পরকীয়া, সংসারে মানিয়ে না চলা, স্বামীর কথা না শোনা ইত্যাদি। তবে আমার কাছে মনে হয় বিচ্ছেদের বড় কারণ হলো নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরকে বিশ্বাসের ঘাটতি। পরস্পরের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ, আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব থেকে দাম্পত্য জীবনে চিড় ধরে বিচ্ছেদের রূপ নেয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতিতে সন্তানের মানসিক বিকাশে বিপর্যয় ঘটে, সন্তান বিপথে যায়, মাদকাসক্ত হয়। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যতদূর সম্ভব পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করা সমীচীন।

প্রতিবছর এই দিবস পালনের আলোচনায় উঠে আসে নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কতটা এগিয়েছে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে। তা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ঘটনাগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিহত করা এখন সময়ের দাবি। ঘরে-বাইরে, কর্মস্থলে, রেল-সড়ক-নৌ চলাচলের সকল পথে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।


নাছিমা বেগম

সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সাবেক সিনিয়র সচিব

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা