ইমেইল থেকে
হুমাইরা সুলতানা মল্লিক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬ ১০:০৬ এএম
মনোবিজ্ঞান আমাদের শেখায় আচরণের পেছনে কারণ থাকে, আবেগের পেছনে ইতিহাস থাকে, আর প্রতিটি মানুষের ভেতরে থাকে এক অনন্য জগৎ।
আমরা এমন একসময়ে বাস করছি, যেখানে প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু মানুষ মানসিকভাবে ক্রমেই জটিল ও একাকী হয়ে পড়ছে। প্রতিযোগিতা সামাজিক চাপ, ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তা, পারিবারিক টানাপড়েন সব মিলিয়ে মানুষের ভেতরের অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। এই বাস্তবতায় মনোবিজ্ঞান আর বিলাসী কোনো বিষয় নয়, এটি সময়ের দাবি।
বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে সহজ করেছে সন্দেহ নেই। কিন্তু মানুষের মনের গভীরে যে প্রশ্ন, যে দ্বন্দ্ব, যে কষ্ট তার সমাধান কেবল প্রযুক্তি দিয়ে সম্ভব নয়। এখানেই মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব।
মনোবিজ্ঞান আমাদের শেখায় আচরণের পেছনে কারণ থাকে, আবেগের পেছনে ইতিহাস থাকে, আর প্রতিটি মানুষের ভেতরে থাকে এক অনন্য জগৎ।
দুঃখজনকভাবে এখনও অনেকেই মনে করেন, মনোবিজ্ঞান মানেই মুখ দেখে মনের কথা বলা। অথচ বাস্তবতা হলো, মনোবিজ্ঞান একটি গবেষণাভিত্তিক পরীক্ষণ-নির্ভর বিজ্ঞান। এটি পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একজন মনোবিজ্ঞানী অনুমান করেন নাÑ তিনি বিশ্লেষণ করেন।
বর্তমান সমাজে উদ্বেগ, হতাশা ও স্ট্রেস আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তরুণরা ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছে, কর্মজীবীরা মানসিক ক্লান্তিতে অবসন্ন। অথচ আমরা শারীরিক অসুস্থতাকে যতটা গুরুত্ব দেই, মানসিক সুস্থতাকে ততটা গুরুত্ব দেই না। এই মানসিকতা বদলাতে মনোবিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যারিয়ারের দিক থেকেও মনোবিজ্ঞান অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কাউন্সেলিং, ক্লিনিক্যাল সেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট মানবসম্পদ বিভাগ, সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবখানেই দক্ষ মনোবিজ্ঞানীর প্রয়োজন বাড়ছে। উন্নত বিশ্বে যেমন মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, আমাদের দেশেও সেই চর্চা ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস মনোবিজ্ঞান পড়া মানে কেবল একটি বিষয় অধ্যয়ন করা নয়; এটি মানুষকে নতুন করে বোঝার চেষ্টা। এটি আমাদের সহানুভূতিশীল করে যুক্তিবাদী করে এবং মানবিক করে তোলে। যে সমাজ মানুষকে বুঝতে শিখবে, সে সমাজই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোবে। তাই মানসিক সুস্থতা থেকে ক্যারিয়ার সম্ভাবনা সবখানেই মনোবিজ্ঞানের দিগন্ত আজ উন্মুক্ত। এখন প্রয়োজন সচেতনতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।
হুমাইরা সুলতানা মল্লিক
মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১ম বর্ষ, রাজশাহী কলেজ