× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

আত্মোন্নয়নে বই পড়ার গুরুত্ব

মির্জা ফারিহা ইয়াসমিন (স্নেহা)

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪০ এএম

বই মানুষের জ্ঞানার্জন, মস্তিষ্কের ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তি এবং শব্দভান্ডার বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বই মানুষের জ্ঞানার্জন, মস্তিষ্কের ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তি এবং শব্দভান্ডার বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বই হলো সুস্থ বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। বর্তমান যুগের প্রযুক্তি-নির্ভর জীবনে একাগ্রতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে বইয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে না। বই পড়া কেবল একটি অভ্যাস নয়, এটি মনের সুস্থতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে যেমন শরীর সুস্থ থাকে, তেমনি নিয়মিত বই পড়া আমাদের মস্তিষ্ক সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে। এ সম্পর্কে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বই মানুষের মনের ক্ষুধা মেটায়, জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালায়’ নিয়মিত বই পড়লে জ্ঞান বৃদ্ধি পায় এবং পৃথিবীকে জানার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হয়।

বই মানুষের জ্ঞানার্জন, মস্তিষ্কের ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তি এবং শব্দভান্ডার বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এটি চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে, কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি করে। নিয়মিত বই পড়া মানসিক চাপ কমায়, একাগ্রতা বাড়ায় এবং মানুষের সৃজনশীলতা ও সহানুভূতিশীলতা তৈরি করতে সাহায্য করে।

বই পড়ার মাধ্যমে নতুন নতুন তথ্য ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা যায়, যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করে এবং স্মৃতিশক্তি সমৃদ্ধ করে। মানুষ তার প্রিয় বই পড়ার সময় বাস্তব জীবনের দুশ্চিন্তা থেকে বিরতি পায়, যা মানসিক চাপ কমিয়ে মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে নতুন নতুন শব্দ শেখা যায় এবং লেখার ও প্রকাশের ক্ষমতা উন্নত হয়।

বই মানুষের কল্পনার জগৎকে প্রসারিত করে, যার ফলে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া, অন্যের অভিজ্ঞতার কথা পড়ার মাধ্যমে মানুষের নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ও সহানুভূতি তৈরি হয়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে। 

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানুষ বইয়ের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার ওপরে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, যার ফলে সৃজনশীলতা কমে যাচ্ছে এবং মানসিক চাপ বা একঘেয়েমি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বই পড়ার অভাবে আলঝেইমার্স বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদে বই পড়ার অভ্যাস না থাকলে এটি মানুষের স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয় এবং বিশ্ব সম্পর্কে জানার পরিধি সীমাবদ্ধ করে দেয়। বই পড়ার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন জগৎ, সংস্কৃতি ও মানুষের সম্পর্কে জানা যায়।

বই মানুষের কল্পনার জগৎ বৃদ্ধিতে সহায়ক, যা না পড়লে সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতাও কমে যায়। তা ছাড়া নতুন নতুন বই না পড়লে শব্দভান্ডার বৃদ্ধি পায় না, যার ফলশ্রুতিতে লেখা ও কথা বলার দক্ষতা কমে যায়। তাই নিজেদের আত্মোন্নয়ন এবং মানসিক শান্তির জন্য নিয়মিত বই পড়া উচিত।

বই পড়া মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উপন্যাস, প্রবন্ধ, ইতিহাসবিষয়ক বই মানুষের চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করে এবং আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও বই পড়ার অভ্যাস করা প্রত্যেক মানুষের জন্য অপরিহার্য।


মির্জা ফারিহা ইয়াসমিন (স্নেহা)

মার্কেটিং বিভাগ, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা