× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জনপ্রত্যাশা

সংকট যত কঠিনই হোক, সরকার প্রস্তুত

আহম্মেদ ফেরদৌস

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬ ১০:৫০ এএম

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হবে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের প্রশাসনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হবে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের প্রশাসনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বরকত ও ইবাদতের মাস রমাদান। মুসলমানদের জন্য এই মাস আশীর্বাদস্বরূপ। এই মাসে সিয়াম সাধনায় মানুষের ত্যাগ, সহমর্মিতা, মানবতার ছোঁয়া বিস্তৃতি পায়। এ মাসে একটি ভালো কাজে আল্লাহ ৭০টি নেকি অর্থাৎ পুরস্কার দেন তার বান্দাদের। অনেকে বলেন, এই মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার দয়ার ভান্ডার উজাড় করে দেন। আমাদের শুধু সঠিক তরিকায় চাইতে জানতে হয়। আল্লাহর প্রতি আনুগত্য দেখানোর এমন সুযোগ আমরা যেন অবহেলায় না হারাই, সেজন্য এ মাসে নাগরিক হিসেবে কিছু দায়িত্বশীল আচরণ আমাদের করা উচিত।

যখন এ লেখাটি লিখছি তখন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ৩৫ বছর পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, পরবর্তীতে সেনাবাহিনী প্রধান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। 

রমাদান মাসে বাংলাদেশে অসাধু ব্যবসায়ীরা জনগণের পকেট কাটেন, অথচ ইউরোপ আমেরিকায় জনগণ পায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রিসমাস উপলক্ষে বিশাল ‘সেল’ বা মূল্যহ্রাস। বাংলাদেশে রমাদান মাসে খাদ্যদ্রব্য, পোশাক-আশাক, গহনাতে (ঈদ উপলক্ষে ক্রয়কৃত পণ্য) জনগণকে ‘কাইট্টা ছিইল্লা’ লবণ লাগিয়ে দেওয়া হয়, যা লুটেরা মাফিয়া মজুদকারীরা করেন। আমার মনে শঙ্কাÑ তারা কি প্রকৃত মুসলমান?

২০২৫ সালে বাংলাদেশের জনগণ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের নেতৃত্বে মাহে রমাদানে দুটি বিষয়ে স্বস্তি পেয়ে শোকরানা গুজার করেছিলÑ ১. দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে ছিল ও ২. সেহরি ও রমাদান মাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ।

বিএনপি সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশাটা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক, কারণ জনগণ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। ভালোবাসা যেমন দ্বিপাক্ষিক, তেমনি জনগণের অভিপ্রায় বনাম রাজনৈতিক সরকারের জনগণের আস্থার প্রতিদানটাও সমতার ভিত্তিতে হওয়া গণতন্ত্রের জন্য ভালো।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা সেহরি ও তারাবিতে কতটুকু সম্ভব?

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার কুইক রেন্টাল ও ক্যাপসিটি চার্জের নামে সংসদ থেকে আইন পাস করিয়ে বিদ্যুৎ সেক্টরে ভয়াবহ দুর্নীতি ও মহাসাগর চুরি করে দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলকে ধ্বংস করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে। খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। বিদ্যুৎ সেক্টরে দুর্নীতিতে ফ্যাসিস্ট সরকার এমন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে, যা করাপশান ইনডেক্সে শীর্ষস্থানীয় দেশের সরকারের পক্ষে ভাঙা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এমন অবস্থায় ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসেন ড. ইউনূসের সেনা-সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার, যার বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান পাকা আমলা বর্ষীয়ান মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তার প্রতি ইউনূস সরকারের আস্থা ছিল, তাই চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি প্রাক্তন বিদ্যুৎ সচিব ছিলেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে যার মাধ্যমে বহুল বিতর্কিত কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কেমন ছিল ইউনূস সরকারের আমলে বিদ্যুতের সার্বিক অবস্থা?

জনগণ মোটামুটি সন্তুষ্ট গত রমাদানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাওয়ায়। এ ক্ষেত্রে জনগণের সদয় অবগতির জন্য একটি তথ্য জানানো আবশ্যক। পল্লী বিদ্যুৎ ও আরইবি বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে মোট ৩.৬৪ কোটি গ্রাহককে (১ পরিবারের ৪ জন করে সদস্য হলে ৩.৬৪ x ৪ = ১৪.৫৬ কোটি জনগণ) বিদ্যুৎ সেবা দিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটির জন্য দোয়া করেছে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করার জন্য।

আমরা তাদের জন্য কি একটা জোরে করতালি দিয়ে উৎসাহিত করতে পারি? এতে তারা এ বছরও গতবারের মতন বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিতকল্পে নিরলস পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ হবে।

তবে এবারের রমাদানে গরম ও কৃষি সেচের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা গতবারের চেয়ে বেশি। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী পাওয়ার প্ল্যান্টসমূহ কি অতিরিক্ত চাহিদার বিদ্যুৎ দিতে পারছে? না পারলে কি বিএনপি সরকারকে আমাদের সমালোচনা করা ইনসাফ হবে?

নিত্যপণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্য সহনশীলতা

দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য মজুদের ওপর নির্ভর করবে সরকার কীভাবে জনগণকে রমাদানে স্বস্তি দেবে? সে ক্ষেত্রে খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশেষত প্রাক্তন বাণিজ্য উপদেষ্টার মতন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তবে এ রমাদানে জনগণ স্বস্তি পাবে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হবে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের প্রশাসনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা। কাজটা বলা যত সহজ, করা তার চেয়েও কঠিন। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস সংকট যত কঠিনই হোক, তারেক রহমান ও তার সরকারকে জনগণ এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।


আহম্মেদ ফেরদৌস

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও কলাম লেখক


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা