× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিদ্যুৎ-জ্বালানি

দেশজ উৎসে উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৫ এএম

দেশজ উৎসে উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত হোক

দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত আজ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আমদানি-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে বার বার চাপের মুখে পড়ছে দেশের জাতীয় অর্থনীতি। বিশ্বের নানা অস্থিরতার প্রভাবে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের সকল শিল্প খাতসহ সাধারণ মানুষের জীবনে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশজ উৎসে বিদ্যুৎ-জ্বালানি উৎপাদন নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। এই বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অংশও। জানা গেছে, বিদ্যুৎ- জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় শিগগির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে দেশীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ভাবছি।

২৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ ‘বিদ্যুৎ-জ্বালানি উৎপাদনে দেশীয় উৎসে জোর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে অনুসন্ধান, নতুন কূপ খনন, পুরনো কূপের সংস্কার এবং উৎপাদন বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশে এখন বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এ বছর এই চাহিদা সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রাথমিক জ্বালানির সংস্থান করে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেছেন, নতুন সরকার সংকট মোকাবিলায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিহার করতে হবে। তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আমাদের যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দিয়ে কয়লা আনলে অনায়াসে আমাদের চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। তবে সরকার যদি পিএসসির আওতায় বিদেশি কোম্পানি দিয়ে গ্যাস উত্তোলনের পথে হাঁটে, তাহলে দেশীয় সম্পদ ব্যবহারের জনদাবি উপেক্ষিত হবে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসেই দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তারা আগামী ১০০ দিন ও ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনাও প্রকাশ করেন। পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের কথা তুলে ধরা হয়। প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনায় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে বলা হয়, দিনে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হবে। পরিত্যক্ত কূপগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। আর আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭টি কূপ খননের মাধ্যমে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথা ভাবা হচ্ছে। 

এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। একসময় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান ভিত্তি ছিল গ্যাস। কিন্তু পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ঘাটতি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে ধীরগতি এবং পরিকল্পনার অভাবে আমরা ক্রমশ আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা আমাদের অর্থনীতিকে নাজুক করে তুলছে। তাই দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসন্ধান জোরদার করা এবং নতুন সম্ভাবনাময় ব্লকগুলো দ্রুত ইজারা দিয়ে উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও আমাদের সম্ভাবনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও বায়োগ্যাসের মতো উৎসগুলোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ইতোমধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখন প্রয়োজন বৃহৎ পরিসরে সৌরপার্ক স্থাপন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বিনিয়োগ বাড়ানো। উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুশক্তির সম্ভাবনাও কম নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও গবেষণার মাধ্যমে এসব উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনাও বিবেচনায় আনা যেতে পারে। অতীতে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া গেলে দেশীয় উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

আমরা মনে করি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্রুত উৎপাদনের নামে উচ্চমূল্যের ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিবর্তে দেশীয় সম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এতে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, তেমনি কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নীতিগত ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে নীতির স্থিতিশীলতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

দেশজ উৎসে বিদ্যুৎ-জ্বালানি উৎপাদন শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং টেকসই উন্নয়নের পথও সুগম করবে। আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হোক আগামীর বাংলাদেশের অঙ্গীকার। আমরা চাই, দেশজ উৎসে বিদ্যুৎ-জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত হোক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা