× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যবেক্ষণ

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রুলিং-পরবর্তী ট্যারিফ

নিরঞ্জন রায়

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৯ এএম

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রুলিং-পরবর্তী ট্যারিফ

ট্রাম্পের উত্তেজনা সৃষ্টির অন্যতম অর্থনৈতিক অস্ত্র, উচ্চ হারের শুল্ক বড় ধরনের ধাক্কা খেতে বসেছে সম্প্রতি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের এক রুলিংয়ের কারণে। গত সপ্তাহে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের উচ্চ হারের ট্যারিফকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে এক রুলিং ইস্যু করেছে, যেখানে ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাম্প উচ্চ হারে ট্যারিফ ঘোষণার পর যেমন বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল এবং ব্যাপক আলোচনা চলছিল, ঠিক তেমনি ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রুলিংয়ের পর শুরু হয়েছে আরেক ধরনের আলোচনা এবং উত্তেজনা। এখন দেখার বিষয় সুপ্রিম কোর্টর এই রুলিংয়ের কারণে ট্রাম্পের ঘোষিত উচ্চ হারে ট্যারিফের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়।

ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর গড়ে বিশ শতাংশের বেশি হারে ট্যারিফ ধার্য করেছেন এবং এই উচ্চ ট্যারিফের কারণে যে আমেরিকার জনগণ সরাসরি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আবার এই ট্যারিফের কারণেই আমেরিকার বাজারের ওপর যেসব দেশের রপ্তানি যথেষ্ট নির্ভরশীল, সেসব দেশও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আর আমেরিকার জনগণের সরাসরি ক্ষতির বিনিময়ে হলেও যে কিছু দেশকে সংকটে ফেলা গেছে, সেটাই ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ হারে ট্যারিফ আরোপের আসল উদ্দেশ্য বলে মনে হয় এবং সেই উদ্দেশ্য তারা কিছুটা হলেও অর্জন করতে পেরেছে। এই ধরনের কৌশল গ্রহণে আমেরিকা বেশ পারদর্শী এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করতে যেয়ে আমেরিকা এরকম সিদ্ধান্ত অনেক নিয়েছে। 

ট্যারিফের প্রত্যক্ষ ক্ষতি আমেরিকার জনগণের ওপর বর্তালেও এর পরোক্ষ লাভ যে একেবারে নেই তেমন নয়। এই উচ্চ হারে ট্যারিফ ধার্য করার কারণে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক শত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অতিরিক্ত আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এই রাজস্ব আবার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আমেরিকার ভোক্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে আমেরিকার সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় অসন্তোষের কারণ। অন্যদিকে ট্যারিফের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আমেরিকার বাজারে পণ্য বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে এবং এর ফলে আমেরিকায় আমদানির পরমাণ হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে আমেরিকার বাজারে রপ্তানি করা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমেরিকার অর্থনীতি কিছুটা লাভবান হয়েছে। আমেরিকার অর্থনীতির এই যে লাভ, সেটাও আমেরিকার ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিনিময়ে। কেননা ট্যারিফের প্রভাবে আমেরিকার অনেক ব্যবসায়ীয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। সুতরাং ট্রাম্প প্রশাসনের যে ট্যারিফ নীতি, তা আমেরিকার অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এ কারণেই বিষয়টি আমেরিকার আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

ট্রাম্প যেভাবে একতরফা উচ্চ হারে ট্যারিফ ধার্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা যে বৈধ নয়, সেই বিষয়টি নিয়ে আদালতে ব্যবসায়ীরা মামলা দায়ের করে, যা আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। অতি সম্প্রতি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতিকে অবৈধ উল্লেখ করে এক রুলিং ইস্যু করেছে। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে প্রধান বিচারপতিসহ ৬ জন বিচারপতি এই রুলিংয়ের পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন এবং বাকি তিন বিচারপতি ভিন্ন মত পোষণ করেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের রায়ে যে রুলিং ইস্যু করা হয়েছে, তাতে ট্রাম্পের ঘোষিত উচ্চ হারের ট্যারিফ অবৈধ হয়ে গেছে। এই রায় ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতি মন্তব্য করেছেন যে, বাণিজ্যনীতি প্রয়োগ করতে যেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতিরঞ্জিত করেছেন। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, এই রুলিং ইস্যু করা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি, জন রবার্টস মন্তব্য করেছেন ‘কংগ্রেস যদি মনেই করে যে ট্যারিফ আরোপের জন্য সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া প্রয়োজন, তাহলে সেটা স্পষ্ট করে জানাতে হবে’।

এই রুলিংয়ের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রচণ্ড রেগে যান এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য মতে, ট্রাম্প এক আক্রমণাত্মক সংবাদ সম্মেলন করে এই রায়ের প্রকাশ্য সমালোচনা করেন এবং বিচারপতিদের দোষারোপ করেন। তিনি বলেছেন, ‘মি এই রায়ে লজ্জিত, ভীষণভাবে লজ্জিত। বিচারপতিদের সাহস নাই দেশের জন্য ভালো কিছু করার’। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘এই রায় আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, যা একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে ফেলবে’। 

এই প্রসঙ্গে প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং রুলিংয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট বাণিজ্যযুদ্ধ, যা মূলত ট্রাম্পের ঘোষিত উচ্চ শুল্কের কারণে সৃষ্টি হয়েছে, সেটা বন্ধ হবে কি না। এটি একটি অনেক বড় প্রশ্ন, যার সরাসরি উত্তর আছে বলে মনে হয় না। কেননা ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের এই রুলিং ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। ফলে তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, তিনি তার উচ্চ ট্যারিফের মতো অর্থনৈতিক অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাবেন এবং আরও অধিক হারে ট্যারিফ ধার্য করবেন। তার কাছে সেই বিকল্প, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন আছে। এ কারণেই ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘বিচারপতিদের সিদ্ধান্ত সঠিক না। কিন্তু সমস্যা নাই। আমাদের হাতে আরও শক্তিশালী বিকল্প অস্ত্র আছে’। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উচ্চ ট্যারিফ অব্যাহত রাখব এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি ট্যারিফ আদায় করতে পারব’। ১৯৭৪ সালের যে বাণিজ্য আইন আছে তা প্রয়োগ করে আমেরিকার বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর ১৫% পর্যন্ত ট্যারিফ আরোপ করতে পারবেন। কিন্তু এখানে একটা সীমাবদ্ধতা আছে এবং তা হচ্ছে এই ট্যারিফের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৫০ দিন বা পাঁচ মাস। এই সময়ের মধ্যে বিচার-বিশ্লেষণ করে একেক দেশের ওপর একেক রকম ট্যারিফ আরোপের সুযোগও অবশ্য এই আইনেই আছে। 

পুরো বিষয়টি ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট, যা ব্যবহার করে ট্রাম্প তার উচ্চ হারের ট্যারিফ আরোপ করেছিলেন, তার মত সহজ নয়, বরং বেশ জটিল এবং ঝামেলাপূর্ণ। ফলে এরকম আইন প্রয়োগ করে উচ্চ ট্যারিফ আরোপে ট্রাম্প কতটা সফল হবেন, তা সময় বলতে পারবে। সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে কংগ্রেস থেকে উচ্চ হারে ট্যারিফ আরোপের অনুমোদন লাভ করা। কেননা বর্তমান কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু বিরাজমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়, বিশেষ করে আমেরিকার ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং জনগণের দুর্দশার কথ বিবেচনায় নিলে কংগ্রেসের অনুমোদন লাভের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। 

এখন দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের রুলিংয়ের কারণে ট্রাম্পের উচ্চ হারের ট্যারিফ নীতি অবৈধ ঘোষিত হয়েছে, তাই ট্যারিফ হিসেবে যে কয়েক শত বিলিয়ন ডলার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে, সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না। এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন হলেও বিষয়টি মোটেই পরিষ্কার নয়। তা ছাড়া এখানেও আছে অনেক জটিলতা এবং সমস্যা। যে পদ্ধতিতে এই ট্যারিফ আদায় করা হয়েছে, সেই পদ্ধতি যখন অবৈধ হয়ে যায়, তখন আদায়কৃত অর্থ অবৈধ হবে এটাই স্বাভাবিক। সেই হিসাবে এই ট্যারিফ যে সকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে, তাদেরকে ফেরত দেওয়ার কথা। আবার ব্যবসায়ীরা তো নিজে থেকে ট্যারিফ প্রদান করে না। তারা দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে ট্যারিফ যোগ করে ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করে সরকারকে প্রদান করে থাকে। সুতরাং সরকার ট্যারিফ হিসেবে যে অর্থ আদায় করেছে তা মূলত আমেরিকার ভোক্তারা প্রদান করেছে। 

ট্যারিফের অর্থ যদি ফেরত দিতেই হয়, তাহলে সেটা দিতে হবে ভোক্তাদের। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা যদি সরকারের কাছ থেকে ট্যারিফের অর্থ ফেরত পায়, তবে সেই অর্থ ব্যবসায়ীদেরকে তাদের ভোক্তাদের ফেরত দিতে হবে। কাজটা কি সহজ হবে? মোটেই না। এ কারণেই একজন বিচারক ট্যারিফ ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে অসম্মতি (নোট অব ডিসেন্ট) জানিয়ে উল্লেখ করেছেন যে আদায়কৃত ট্যারিফ ফেরত দিতে গেলে এক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে এবং আমেরিকার কোষাগার বা ট্রেজারির ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়বে। তা ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রুলিংয়ে ট্যারিফ ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে কোনোরকম নির্দেশনা নেই। ফলে বিষয়টি এখন নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত, যেখানে আমেরিকার শতাধিক কোম্পানি প্রদত্ত ট্যারিফ ফেরত চেয়ে মামলা দায়ের করে রেখেছে।

অনেকের ধারণা ট্রাম্পের আরোপিত উচ্চ হারের ট্যারিফ বাতিল করে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রুলিংয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট বাণিজ্যযুদ্ধের অবসান হতে পারে। কিন্তু বস্তবতা সে কথা বলে না। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ট্যারিফের চাপ অব্যাহত থাকবে এবং সেই সঙ্গে বিশ্ববাণিজ্যে উত্তেজনাও বজায় থাকবে। তবে প্রয়োগের ধরন ভিন্ন হতে পারে এবং সেই সঙ্গে জটিলতাও হতে পারে ভিন্ন মাত্রার। অবস্থা কিছুটা ঝড়ের গতিপথ সরে যাওয়া এবং তীব্রতার মাত্রা ওঠানামার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ রেখে যাওয়ার মতো। সুপ্রিম কোর্টের রুলিংয়ের কারণে ট্রাম্পের পূর্বের ঘোষিত উচ্চ হারের ট্যারিফ বাতিল, নতুন মাত্রার ট্যারিফ আরোপ, আদায়কৃত ট্যারিফ ফেরত দেওয়া হবে কি না এবং ফেরত দিলে কাদেরকে দেওয়া হবে, ব্যবসায়ী না ভোক্তাদের; এসব বিষয় নিয়ে মারাত্মক এক জটিলতা তৈরি হবে, যা সুরাহা করতে যথেষ্ট সময় লাগবে এবং এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবশিষ্ট মেয়াদকালে নাও হতে পারে। সুতরাং ট্রাম্পের উচ্চ হারে ট্যারিফ অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উত্তেজনাও বজায় থাকবে, হয়তো ভিন্ন মাত্রায় এবং ভিন্ন আঙ্গিকে। তাই বাংলাদেশেরও উচ্চ হারের ট্যারিফ মোকাবিলা করার জন্য নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প আপাতত আছে বলে মনে হয় না।


নিরঞ্জন রায়

সার্টিফায়েড অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং স্পেশালিস্ট ও ব্যাংকার. টরন্টো, কানাডা

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা