× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এলডিসি উত্তরণ

প্রস্তুতি জোরদার করাই মূল লক্ষ্য হওয়া জরুরি

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৩ এএম

প্রস্তুতি জোরদার করাই মূল লক্ষ্য হওয়া জরুরি

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। জানা গেছে, সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীনে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে আন্তনিও ওকাম্পোর কাছে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠায়।

অবশ্য বাণিজ্যমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। চিঠিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময়কাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।

পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ সময় নির্ধারিত ছিল চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত উত্তরণের আগে তৃতীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়াও চলমান।

উল্লেখ্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ও কয়েকজন অর্থনীতিবিদের আহ্বানে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার নেপাল ও লাওসের মতো একই সময়ে উত্তরণে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছাতে জাতিসংঘে চিঠি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার চিঠিতে যুক্তি দিয়েছে, সময়সীমা বাড়ানো হলে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কারগুলো সংহত করা এবং স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির (এসটিএস) অধীন অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুযোগ পাওয়া যাবে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণে পাঁচ বছরের প্রস্তুতি সময়কাল একের পর এক দেশি ও আন্তর্জাতিক সংকটে ব্যাহত হয়েছে। বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও তার প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কড়াকড়ি, বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বিলম্ব, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এখনও নিষ্পত্তি না হওয়ার মতো বিষয়গুলো। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিগত মনোযোগ স্বল্পমেয়াদি এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময়কাল পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, নতুন সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে এলডিসি পেছানোর আবেদন করে ভালো করেছে। তার বক্তব্য, সিডিপি এটি মূল্যায়ন করলেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সেখানে প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট হবে।

ফলে ভারত, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো বন্ধুরাষ্ট্রের নিজেদের পক্ষে রাখতে এখনই সরকারকে কাজ শুরু করতে হবে।

বলা প্রয়োজন, এলডিসি উত্তরণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের বিষয়। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ পথচলায় দারিদ্র্য হ্রাস, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সূচকে অগ্রগতিÑ সব মিলিয়ে এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিন্তু উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে কিছু বিশেষ সুবিধা হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার-সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় অগ্রাধিকারÑ এসব সুবিধা ধীরে ধীরে কমে আসবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, যা দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এই খাতটি বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।

তবে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, ডলার সংকট, জ্বালানি ও কাঁচামালের উচ্চমূল্যÑ এসব কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প খাত চাপের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ওঠানামা অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে এলডিসি সুবিধা হারালে তা শিল্প ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারেÑ এমন আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। তাই এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবকে একতরফাভাবে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটিকে বাস্তবতার নিরিখে সময়োপযোগী কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।

অতিরিক্ত এই সময়কে কাজে লাগিয়ে সরকারকে বাণিজ্য বৈচিত্র্য বাড়ানো, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা মনে করি, শুধু সময় বাড়ালেই হবে না, প্রস্তুতি জোরদার করাই মূল লক্ষ্য হওয়া জরুরি।

কারণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সক্ষমতা অর্জন করেও যদি বার বার সময় প্রার্থনা করা হয়, তবে তা বিনিয়োগকারীদের মাঝে দ্বিধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ হতে হবে সুপরিকল্পিত ও বিশ্বাসযোগ্য। উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্ট করতে হবেÑ বাংলাদেশ পিছিয়ে যাচ্ছে না, বরং টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সময় চাইছে।

এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জাতিসংঘের কাছে সময় প্রার্থনার চিঠি তাই কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এটি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। অতিরিক্ত সময়কে সংস্কার, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতামূলক শক্তি অর্জনের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারলেই কেবল উত্তরণ হবে অর্থবহ ও টেকসই। অন্যথায় সময় বাড়ালেও চ্যালেঞ্জ থেকেই যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা