× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএনপির ইশতেহার

সংস্কৃতিকর্মীদের প্রত্যাশা মুক্ত আকাশ

দীপান্ত রায়হান

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৬ এএম

সংস্কৃতিকর্মীদের প্রত্যাশা মুক্ত আকাশ

দেশের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক মহলে দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত বিতর্ক হলোÑ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কি আদতে সংস্কৃতিবান্ধব? এক্ষেত্রে অনেকে নেতিবাচক ইঙ্গিত করলেও প্রকৃত প্রস্তাবে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বর্ণালি অধ্যায়ের সূচনা বিএনপির শাসনামলেই। আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা কেবল একজন শাসক হিসেবে নয়, বরং একজন দূরদর্শী সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবেও। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে তিনি অনুধাবন করেছিলেন, একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে তার নিজস্ব জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ প্রয়োজন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা প্রবর্তন করেন, যা বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের সঙ্গে ভূখণ্ডগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। তার শাসনামলে সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায়Ñ চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, সাহিত্য ও চিত্রকলায় একধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বিপ্লব ঘটে। তিনিই প্রথম চলচ্চিত্রকে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেন। চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াতের মতে, ‘জিয়াউর রহমানের সময়েই বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড পুনর্গঠিত হয় এবং চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে সরকারি অনুদান প্রথা চালু করা হয়। ১৯৭৬ সালে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি এ খাতের কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানের দুয়ার খুলে দেন।’ কেবল পুরস্কার নয়, চলচ্চিত্র সংরক্ষণের জন্য ‘বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ’ এবং দক্ষ জনবল তৈরির জন্য ‘ফিল্ম ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা ছিল শহীদ জিয়ার সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল।

বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ ছিল এক বৈপ্লবিক উদ্যোগ। বিটিভিতে প্রচারিত এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গ্রামগঞ্জ থেকে উঠে আসা অসংখ্য প্রতিভা আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সংস্কৃতির এই বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে শৈল্পিক চেতনা পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব এককভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের। বিএনপির শাসনামলে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারের মতো সর্বোচ্চ পদকগুলো যখন প্রবর্তিত হয়, তখন দলীয় আনুগত্যের চেয়ে মেধা ও অবদানকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিএনপির শাসনামলে দেখা গেছে, ঘোর রাজনৈতিক বিরোধী বা ভিন্ন মতাদর্শের শিল্পী-সাহিত্যিকরাও তাদের অবদানের জন্য যথাযথভাবে সম্মানিত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় পদককে তখন ‘দলীয় পুরস্কার’ হিসেবে গণ্য হয়নি। 

বিপরীতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে আমরা দেখেছিÑ পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক সময় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও আনুগত্য বড় মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে পদকের গরিমা যেমন ক্ষুণ্ন হয়েছে, তেমনি শিল্পীদের মধ্যে একধরনের বিভাজন ও তোষামোদী সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে। 

সংস্কৃতিবান্ধব হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্তÑ শিল্পীর বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা। কোনো শিল্পী যখন তার তুলিতে বা কলমে সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংগতি তুলে ধরেন তখন রাষ্ট্রের কাজÑ তাকে নিরাপত্তা দেওয়া, তার কণ্ঠরোধ করা নয়। বিএনপির ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক নাটক বা সংবাদপত্রের কার্টুনে সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ ছিল। শিল্পীরা কোনো অদৃশ্য ভয়ে আতঙ্কিত ছিলেন না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আমরা দেখেছি ভিন্নমত প্রকাশের জন্য শিল্পীদের হয়রানি করা হয়েছে। নাটক-সিনেমার স্ক্রিপ্ট বদলে দেওয়া হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে কথা বলার জন্য আইনি খাঁচায় বন্দি করা হয়েছে। 

১৯৭৯ সালের পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে নববর্ষ উদযাপনে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি বিশ্বাস করতেনÑ গ্রামীণ লোকসংগীত, মেলা এবং উৎসবই হলো বাঙালির আসল পরিচয়। তার আমলেই জাতীয় লোকসংগীত উৎসব ও জাতীয় নাট্যোৎসবের মতো বড় মাপের আয়োজন শুরু হয়। তিনি জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর মাধ্যমে চিত্রশিল্পীদের উৎসাহিত করেছিলেন এবং রঙিন টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু করার মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বমানের করার পথে প্রথম কদম ফেলেছিলেন। এই যে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন, এটিই ছিল বিএনপির সাংস্কৃতিক দর্শনের মূল ভিত্তি।

বর্তমানে সংস্কৃতিতে বিরাজ করছে মবসন্ত্রাসের আতঙ্ক। সাংস্কৃতিকচর্চায় অনেকেই নিষ্ক্রিয়। এই অবস্থায় বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। বিএনপি ঘোষিত এই ইশতেহারে শিল্প ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে যে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে, তা অত্যন্ত আধুনিক ও সময়োপযোগী। ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয় বরং এটি জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার ঢাল। 

সংস্কৃতিকে আওয়ামী লীগ দেখেছে তাদের রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির সরঞ্জাম হিসেবে। তারা শিল্পীদের ‘সাংস্কৃতিক যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে, যা প্রকারান্তরে শিল্পীর সৃজনশীলতাকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অপরদিকে বিএনপি সংস্কৃতিকে দেখেছে একটি স্বাধীন ও মুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে। বিএনপির আমলগুলোতে সংস্কৃতিচর্চায় রাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল একজন ‘সহযোগীর’, ‘নিয়ন্ত্রকের’ নয়।

আজ যখন আমরা একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি তখন সেখানে সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম। বিএনপি যদি তাদের ঘোষিত ‘সংস্কৃতিবান্ধব’ নীতিগুলো কার্যকর করতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবেই নয়, বরং মানসিকভাবেও একটি উন্নত জাতিতে পরিণত হবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপি সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়নি, বরং একে ডানা মেলে ওড়ার অপার স্বাধীনতা দিয়েছিল। আগামীর বাংলাদেশে সেই মুক্ত আকাশের প্রত্যাশাই আজ প্রতিটি সংস্কৃতিকর্মীর।


দীপান্ত রায়হান

সদস্য সচিব, ষড়ঋতু উদযাপন জাতীয় পর্ষদ

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা