এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২০ এএম
এ বছর ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’টির প্রতিপাদ্য, ‘জ্ঞানেই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি’।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ছিল ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’। দিবসটি গ্রন্থ ও গ্রন্থাগার সুহৃদদের জন্য উৎসবের দিন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘জ্ঞানেই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি’।
যেভাবে শুরু
২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর জারি করা এক পরিপত্রমূলে ৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে এই দিনটিকে ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন-সংক্রান্ত পরিপত্রের ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পাঠক তৈরির উৎস
পাঠক তৈরির মূল উৎস হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাÑ প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৩৩ হাজার ২, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২ হাজার ৪৫৫, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৬ হাজার ৪০৮, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১ হাজার ৪০৫ এবং কলেজ ৩ হাজার ৩১৯।
প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রাথমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমিক গ্রন্থাগার নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক, গ্রন্থাগারিকের পদ সৃষ্টি করা দরকার, সিলেবাস ও রুটিনে ‘তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এই নিবন্ধের আলোচ্য বিষয় নয়। তবে পাঠকের অবগতির জন্য বলছি, দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৮টি।
মাধ্যমিক স্কুল
এই স্তরে গ্রন্থাগারে কমপক্ষে ২ হাজার বই থাকা আবশ্যক। রুটিনে ‘তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা’ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, তা পরিপালন করা হয় না। ২০১০ সালে মাধ্যমিক স্কুল/দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী গ্রন্থাগারিকের পদ সৃষ্টি করা হয়। পদটি এমপিওভুক্ত। গ্রন্থাগারিকদের দাবির মুখে পদ পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সহকারী শিক্ষক-তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা’। কিন্তু অনেক বিদ্যালয়ে পদটি খালি পড়ে আছে। আবার কোনো কোনো স্কুল/মাদ্রাসায় গ্রন্থাগারিক থাকলেও তাদেরকে প্রক্সি ক্লাস বা অন্যান্য কাজে নিয়োজিত রাখা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর গ্রন্থাগার পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে না পাঠক বা বইপ্রেমী। মাধ্যমিক স্তরেও তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা কোর্স সিলেবাসভুক্ত করা দরকার।
কলেজ
কলেজ/সমমানের মাদ্রাসায় একাডেমিক লাইব্রেরি বাধ্যতামূলক। সেখানে গ্রন্থাগারিকের পদের নাম ‘প্রভাষক-তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা’। কলেজ স্তরে বিষয়টি সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। অনেক কলেজে গ্রন্থাগার আছে নামমাত্র। আবার যেসব কলেজে গ্রন্থাগার আছে, সেখানে বই ইস্যু করা হয় না, গ্রন্থাগারিক অলস সময় পার করেন কিংবা তাকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা হয়। ফলে গ্রন্থাগারের সঙ্গে শিক্ষার্থী-পাঠকের সংযোগ গড়ে ওঠে না। বইপড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের অনুরাগ জন্মায় না।
বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি
দেশে একটি গ্রন্থাগার আন্দোলন গড়ে তুলতে সমমনা গ্রন্থাগারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নিরলস কাজ করছে এই সংগঠন। গ্রন্থসুহৃদের নিজস্ব কিছু স্লোগান রয়েছে, যেমনÑ ‘দিনবদলের হাতিয়ার, হয়ে উঠুক গ্রন্থাগার’, ‘বই পড়ি, দেশ গড়ি’, ‘বই পাঠ মনের আঁধার দূর করে’ প্রভৃতি। সংগঠনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ক. স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ খ. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গ. সভা-সমিতি-সংগঠন (ক্লাব) ঘ. বাজার- বিপণি-শপিং মল ঙ. সেলুন চ. রিকশা-টেম্পো-বাসস্ট্যান্ড ও ছ. রেলস্টেশনে গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সর্বসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা।
বেরাইদ গণপাঠাগার
বেরাইদ গণপাঠাগার গ্রন্থসুহৃদ সমিতির সহযোগী প্রতিষ্ঠান (পাইলট প্রকল্প)। যার মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪২নং ওয়ার্ডকে (সাবেক বেরাইদ ইউনিয়ন) ‘গ্রন্থপল্লী’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া
সভাপতি
বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি ও বেরাইদ গণপাঠাগার, ঢাকা