× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গুজব ও অপতথ্য

ডিজিটাল এই অপশক্তিকে রুখতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৯ এএম

 ইদানীং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই গুজব বা অপতথ্যের ব্যবহার ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে।

ইদানীং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই গুজব বা অপতথ্যের ব্যবহার ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে।

ডিজিটাল যুগে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম’ মানুষের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এতে খবর পাওয়া সহজ হয়েছে, মতপ্রকাশের সুযোগ বেড়েছে, সংযোগের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু এই সুযোগের আড়ালেই ভয়াবহ এক সংকট মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছেÑ গুজব ও অপতথ্যের লাগামহীন বিস্তার। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্লাটফর্মগুলো আজ আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

গুজব এই মুহূর্তে এক আতঙ্কের নাম। যার কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই এবং যা সত্য-মিথ্যা যাচাই ছাড়াই মুখে মুখে বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত অনুমান, ভুল বোঝাবুঝি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা থেকেই গুজবের জন্ম হয়। অন্যদিকে অপতথ্য হলো ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, যা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি ও প্রচার করা হয়। গুজব ও অপতথ্য উভয়ই সমাজে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, সহিংসতা ও ভুল সিদ্ধান্তের জন্ম দেয় এবং গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর গতি এখন এত দ্রুত বাড়ছে যে, সত্য যাচাই করার আগেই মিথ্যা তথ্য হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। একটি ভুয়া ছবি, বিকৃত ভিডিও কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শিরোনাম মুহূর্তের মধ্যেই জনমনে আতঙ্ক, ক্ষোভ বা ঘৃণার সৃষ্টি করছে। কখনও এসব গুজব সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উস্কে দিচ্ছে, কখনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করছে, আবার কখনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধ্বংস করছে। ২০ জানুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্যের ছড়াছড়ি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এ কথা সত্য, গুজব আর অপতথ্য যাচাই ও সম্পাদনাহীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগেও ছিল। তবে ইদানীং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই গুজব বা অপতথ্যের ব্যবহার ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে। ভুয়া খবর দিয়ে জনমত প্রভাবিত করা, প্রতিপক্ষকে হেয় করা কিংবা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়। এতে গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি —সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ যখন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়, তখন ভোটাধিকার ও নাগরিক দায়িত্ব অর্থহীন হয়ে পড়ে। এই গুজবের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না সরকার পক্ষের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত কেউই। গুজব নিয়ে এবার সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। টার্গেট করে এসব প্রার্থী নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন অপতথ্য, গুজব ও ডিপফেক স্ক্যান্ডাল ভিডিও। ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও ক্লিপস তাদের যেমন অস্বস্তিতে ফেলে দিচ্ছে তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এসব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। 

আশার কথা সরকার অনলাইনে গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া প্রচারণা মোকাবিলায় সারা দেশে সমন্বিত ও জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে। জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে একটি মিসইনফরমেশন প্রতিরোধ সেলও চালু করা হয়েছে। ওই সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল, বিটিআরসি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্ম একযোগে কাজ করছে। নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো গুজব ঠেকাতে কাজ করছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাইবার মনিটরিং টিম। দেশজুড়ে র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন এলাকাতে বিষয়গুলো মনিটরিং করছে সাইবার মনিটরিং সেল। পরিসংখ্যান বলছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০৯টি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই তথ্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, রাজনৈতিক ইস্যুই ছিল গত বছর ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রধান ক্ষেত্র। গত ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই ক্যাটাগরি হিসেবে একক মাসে ভুল তথ্য বেশি শনাক্ত হয়েছে ৪৪৬টি। সিআইডির সাইবার সেন্টার বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে কাজ করছে সংস্থাটির সদস্যরা। নির্বাচন ঘিরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি মনিটরিং ব্যবস্থা।

আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে একদিকে যেমন আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে, তেমনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন ক্ষুণ্ন না হয় সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল ও মিডিয়া সাক্ষরতা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, যাতে নাগরিকরা তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা অর্জন করতে পারে। সামাজিক মাধ্যমগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবেÑ ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আমাদের নাগরিকদের। আমরা শেয়ার করার আগে একবার থামা, উৎস যাচাই করা এবং সন্দেহজনক তথ্য এড়িয়ে চলার মতো দায়িত্বশীল হতে হবে। সত্যকে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে সামাজিক মাধ্যমের এই গুজব ও অপতথ্যের ছড়াছড়ি সমাজকে আরও বিভক্ত ও বিপর্যস্ত করে তুলবে। আসুন, আমরা গণতন্ত্র ও সমাজের জন্য হুমকি এই ডিজিটাল অপশক্তিকে প্রতিহত করি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা