× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিবেশ দূষণ

বিপর্যয় প্রতিরোধে চাই সক্ষমতা

মতি লাল দেব রায়

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪১ এএম

ঢাকা শহরসহ অন্যান্য শহরের বায়ুদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, কার্যত মানুষের বসবাসের অনুপযোগী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকা শহরসহ অন্যান্য শহরের বায়ুদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, কার্যত মানুষের বসবাসের অনুপযোগী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের ভিশন সম্পর্কে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই বন ও পরিবেশ। প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, গবেষণা, উদ্ভিদ জরিপ, বনজ সম্পদ উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জনগোষ্ঠীর বাস-উপযোগী টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণ। জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের মানুষকে অধিকতর সচেতন করা, দেশের বন সংরক্ষণ ও বনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা এবং বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা।

এটা মানতেই হবে, ঢাকা শহরসহ অন্যান্য শহরের বায়ুদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, কার্যত মানুষের বসবাসের অনুপযোগী। বাতাসে রয়েছে কার্বন ডাই-অক্সাইডের অতিমাত্রায় উপস্থিতি। বায়ুদূষণে ২০২৪ সালে দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর নগর হিসেবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ নগর ছিল ঢাকা। আগের বছর (২০২৩) এদেশ হিসেবে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল আর নগর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এবার বায়ুদূষণে শীর্ষ দেশটি হলো আফ্রিকার দেশ চাদ। 

আমাদের দেশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম কয়েকটি অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ রাবার উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম। বাংলাদেশ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ হচ্ছে দেশের বন সংরক্ষণ, বন সৃষ্টি, বনকে সুরক্ষা দেওয়া, পরিবেশ উন্নয়ন, নির্মল বায়ু নিশ্চিত করা, সামাজিক বনায়নে উৎসাহ দেওয়া, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া। এই প্রধান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বন মন্ত্রণালয়ের সৃষ্টি হয় কিন্তু দুঃখের বিষয় যেখানে একটি দেশে ভূমির ২৫% বনায়ন থাকার কথা কিন্তু আমাদের দেশে আছে মোট ৭% বনায়ন। জলবায়ু বিপর্যয় থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে বনায়ন সৃষ্টি আমাদের সবার দায়িত্ব। 

ঢাকার পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য এত গাছ কি ঢাকা শহরে আছে বা কয়েক বছরে এত গাছ সৃজন করা সম্ভব? পুরান পদ্ধতিতে কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ইটের ভাটা বন্ধ করে দেওয়া জরুরি, পলিথিন ইন্ডাস্ট্রিকে পলিথিন উৎপাদন ও বিতরণ করার জন্য জরিমানা করা হচ্ছে। তা যথেষ্ট নয়, এই ইন্ডাস্ট্রিগুলো বন্ধ করে দেওয়াই এই মুহূর্তে সমীচীন। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি তৈরির জন্য সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদেরকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর অবিলম্বে করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউট বনায়ন এবং তার দ্বারা উৎপাদিত পণ্যের ওপর গবেষণা করা এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউটকে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা চট্টগ্রামের ষোলশহরে অবস্থিত। এখানে কিছু প্রশাসনিক গবেষক কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ কার্যত নেই। 

বাংলাদেশ সচিবালয় বন মন্ত্রণালয়ের অফিস কোথায় তা দেশের ৯৮% মানুষ অবগত নয়। দেশের বনাঞ্চল অর্থাৎ সুন্দরবন অবস্থিত খুলনা জেলায়। সিলেট বিভাগের বনগুলো অবস্থিত হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলাতে এবং বাকি বনগুলো চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা জেলায় কিন্তু যে অফিসটি বন বিভাগ মনিটরিং করত সে অফিস ঢাকার মহাখালীতে ছিল। বাংলাদেশের বনাঞ্চলের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা, কাঠ সংগ্রহ ও নির্দিষ্ট স্থানে বনায়নের কাজ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৪৮ মোতাবেক এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন রাখা হয়। ১৯৬০-১৯৬১ সালে কাপ্তাইয়ের কাঠের লগ আহরণের মাধ্যমে বিএফআইডিসি যাত্রা শুরু করে। অন্যান্য কার্যক্রম ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রাবার বাগান তৈরি ও এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি রাবার গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র উৎপাদন ও বিক্রয় শুরু করে। বাংলাদেশ রাবার উন্নয়ন বোর্ড শুরুতে ১৯৬০-১৯৬১ সালের দিকে বন বিভাগ বাংলাদেশে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে রাবার চাষ শুরু করেছিল। ১৯৬২ সালে বিএফআইডিসির কাছে রাবার চাষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৬২ সাল থেকে ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটি রাবার চাষের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এর রাবার চাষের এলাকাকে ৩টি ভাগে ভাগ করে। এগুলো হলোÑ চট্টগ্রাম, সিলেট ও টাঙ্গাইল-শেরপুর জোন। ৩টি জোনে রাবার বাগানের সংখ্যা মোট ১৮টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জোনে ৯টি, সিলেট জোনে ৪টি এবং টাঙ্গাইল-শেরপুর জোনে মোট ৫টি রাবার বাগান রয়েছে। পরবর্তীকালে রাবার বোর্ড গঠিত হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট বন বিভাগের দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৫৮ একর বনভূমি অবৈধ দখলে রয়েছে। গত মে মাস পর্যন্ত ৩০ হাজার ১৬২ একর বনভূমির জবরদখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। জবরদখলকৃত বনভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য উচ্ছেদ প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। ৬১১টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশে মোট ৬ হাজার ৮৭৬টি ইটভাটা রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের কাজের সঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণ খুব কম। নতুন বন সৃজন করার সময় বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গাছের চাড়া লাগান হয়, কিন্তু জনগণের সম্পৃক্ততা এতে নেই। 

আমি মনে করি, পরিবেশ দূষণ আজ আর কোনো ভবিষ্যৎ শঙ্কা নয়Ñ এটি বর্তমানের এক ভয়াবহ বাস্তবতা। বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে মানবজীবন, জীববৈচিত্র্য ও সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগÑ সবই পরিবেশ দূষণের প্রত্যক্ষ ফল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন শক্ত, সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ।

আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেইÑ এটাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ, নদী দখল ও পাহাড় কাটা বন্ধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিতামূলক করতে না পারলে দূষণ রোধ সম্ভব নয়। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বৃক্ষনিধন ও জলাশয় ভরাট বন্ধ করতে হবে। 

তবে এ কথা মানতে হবে, পরিবেশ রক্ষা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের দায়িত্ব নয়Ñ এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের যৌথ দায়িত্ব। আজই যদি আমরা পরিবেশ দূষণ রোধে শক্ত অবস্থান না নেই, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাব একটি বিপর্যস্ত, বসবাসের অযোগ্য পৃথিবী। সময় এখনও আছেÑ এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।



মতি লাল দেব রায়

কলাম লেখক ও সমাজ সংগঠক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা