× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গ্যাস সংকট

প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪০ এএম

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৫ পিএম

প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে

বাজারে গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আর মিললেও এজন্য গুনতে হচ্ছে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। আবার সরবরাহ লাইনের গ্যাসেও চাপ নেই। ফলে সাধারণের নিত্যকার গেরস্থালি যে কতোটা সংকটে পড়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই চরম দুর্ভোগের চিত্রটিই উঠে এসেছে ‘গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত’ শিরোনামে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকট। আর এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিলিন্ডারপ্রতি দাম বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নগরজীবনে। বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা না জ্বলায় দুর্ভোগ বেড়েছে নগরবাসীর। প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুধু বাসাবাড়ি নয়, হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবাই এই সংকটের শিকার। এমনকি চলমান তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটে ভুগছে অটোগ্যাস স্টেশনগুলোও। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পেয়ে অনেক স্টেশন বন্ধের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি যেমন উদ্বেগের, তেমনি উৎকণ্ঠারও।

মানুষের এই দুর্ভোগের পেছনে দায়ী করা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের তৈরি করা কৃত্রিম সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তুরাগ নদের নিচে স্থাপিত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইনে দুর্ঘটনা। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদের নিচে স্থাপিত গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং সার্বিক সরবরাহ কম থাকায় ঢাকা মহানগরে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

প্রতিবছর শীতে জমে যাবার কারণে গ্যাসের চাপ কমে যায়, এটি নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু সেই চাপ কমতে কমতে নগরজুড়েই সরবরাহ শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়াবে, এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো, সে বিষয়টি অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমাদের প্রশ্ন যখন গ্যাসের সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপের সংকট, ঠিক সে সময়েই রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস, যা সিলিন্ডারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, সেখানেও কেন সংকট তৈরি হবে? গ্যাসের এই তীব্র সংকটে সিলিন্ডার সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হওয়াকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলার সুযোগ নেই এবং বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই।

গ্যাস সংকট দীর্ঘদিন থাকলে শিল্প উৎপাদন বিঘ্নিত হবে। আর শিল্প কারখানায় উৎপাদন কমলে বাজারে শুধু পণ্যের দামই বাড়বে না, রপ্তানি খাতেও ধস নামবে। আমরা জানি, গ্যাস সংকটের সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়, সহজও নয়। তারপরও শিল্প উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয়, সরকারকে সেদিকে নজর দিতে হবে। আবাসিকে গ্যাসের যে তীব্র সংকট সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন তরলীকৃত প্রাকৃতিক (এলএনজি) গ্যাস আমদানি বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে যাদের কারণে গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা তৈরি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, সকল দিক বিবেচনা করে সরকার বাস্তবসম্মত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বিদ্যমান সংকটের রাতারাতি সমাধান হবে না জেনেও আমরা মনে করি, এক্ষেত্রে শিল্প কারখানা টিকিয়ে রাখার দিকেই প্রথম নজর দেওয়া প্রয়োজন। গ্যাস সরবরাহে শিল্প কারখানাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে আমরা প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় বন্ধে সচেতনতার কথাও বলি। সকলেই জানি গ্যাস অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ এবং এর মজুদেরও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। মজুদ ফুরিয়ে গেলে বিকল্প জ্বালানির সংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সবাইকেই প্রচণ্ড সংকটে ভুগতে হবে। তাই প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। অনেক বাসাবাড়িতে এখনও গ্যাসের মিটার নেই। ফলে নির্ধারিত টাকায় অনির্ধারিত গ্যাসের ব্যবহারে অনেক ক্ষেত্রেই অপচয় হচ্ছে। অনেকেই কাপড় শুকানো, ঘর গরম করতে দিন-রাত চুলা জ্বালিয়ে রেখে গ্যাসের অপচয় করছেন। আবার শুধু একটি ম্যাচের কাঠি বাঁচাতেও অনেকে গ্যাসের চুলা বন্ধ করতে আগ্রহী হন না। কিন্তু আমাদের সবারই মনে রাখতে হবে, এই সামান্য কারণে গ্যাসের অপচয়ের প্রতিফলই আজকের সংকট। এজন্য প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে সকলকেই সচেতন হতে হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা