× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ধূমপান রোধে নতুন অধ্যাদেশ

ছাইদানিগুলো ফুলদানি হয়ে যাক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম

ছাইদানিগুলো ফুলদানি হয়ে যাক

পাবলিক প্লেসের আওতা এবং পাবলিক প্লেসে ধূমপানের শাস্তি বাড়িয়ে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। এতে প্রকাশ্যে ধূমপান করার জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। আইনটি আরও শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এ অধ্যাদেশটি গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। প্রেস উইংয়ের বার্তায় জানানো হয়, নতুন অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে বিড়ি উৎপাদন-সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একটি সমন্বিত আইন কাঠামো গড়ে তোলা এবং ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

জানা গেছে, অধ্যাদেশে তামাকের প্যাকেজিংয়ে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং। তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সতর্ক বাণী মুদ্রণের বিধান সংযোজন করা হয়েছে। অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, শপিংমল, পরিবহন টার্মিনাল, পার্ক, মেলাÑ এমনকি ভবনের বারান্দা, প্রবেশপথ ও আশপাশের উন্মুক্ত স্থানও এর আওতায় পড়বে। এসব স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকছে। আগের আইনে পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য স্থান নির্ধারণের যে বিধান ছিল তা অধ্যাদেশে বাতিল করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওটিটি প্লাটফর্ম, সিনেমা, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে তামাক ও ই-সিগারেট ব্যবহারের দৃশ্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরের সময় পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও ই-সিগারেট বা ভ্যাপিংয়ের ওপর জরিমানা আরোপ এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়াসহ যাবতীয় যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও জনস্বার্থে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগ, অকালমৃত্যু এবং স্বাস্থ্যব্যয়ের ভয়াবহ চিত্র আমাদের সামনে স্পষ্ট। তারপরও আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সামাজিক উদাসীনতা ও তামাক কোম্পানির আগ্রাসী বিপণনের কারণে জনজীবনে ধূমপানের বিস্তার কমেনি। এই প্রেক্ষাপটে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে কঠোরভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

জানা প্রয়োজন, পাবলিক প্লেসে ধূমপান শুধু ধূমপায়ীর ক্ষতি করে না, বরং পাশের মানুষকেও ‘প্যাসিভ স্মোকিং’-এর শিকার করে। শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ এই ধোঁয়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পরোক্ষ ধূমপানের ফলে প্রতিবছর বিশ্বে লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, হাসপাতাল এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ কিংবা অফিসÑ সবখানেই ধূমপানের অবাধ উপস্থিতি এক ধরনের সামাজিক অপরাধে পরিণত হয়েছিল। আশা করা যায়, এবার নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার কার্যকর প্রয়োগ এই অনিয়ন্ত্রিত প্রবণতাকে লাগাম পরাতে পারবে।

ই-সিগারেট ও ভ্যাপিংকে অনেক সময় ‘কম ক্ষতিকর’ বলে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এগুলোও নিকোটিন আসক্তি তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে রঙিন বিজ্ঞাপন, ফ্লেভারের লোভ দেখিয়ে ভ্যাপিং জনপ্রিয় করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ই-সিগারেট ও ভ্যাপিংকে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

তবে আইন থাকলেই হবে না, তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ। অতীতে দেখা গেছে, অনেক ভালো আইন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। মোবাইল কোর্ট, নিয়মিত নজরদারি, স্পষ্ট সাইনবোর্ড, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় ছাড়া এই উদ্যোগ সফল হবে না। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ যেন স্বচ্ছভাবে জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তবে গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপানবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধূমপানকে ‘ব্যক্তিগত অধিকার’ নয়, বরং ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি’ হিসেবে দেখা হবে। পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে সচেতনতা, যাতে নতুন প্রজন্ম ধূমপান ও ভ্যাপিং থেকে দূরে থাকে।

আমরা মনে করি, পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও ই-সিগারেট ভ্যাপিং নিষিদ্ধ করা শুধু একটি আইনগত সিদ্ধান্ত নয়Ñ এটি একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। এখন প্রয়োজন জনসচেতনতা এবং এই আইনের কঠোর প্রয়োগ। আর এটা করা সম্ভব হলেÑ ধূমপানমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবে।

’সত্তর ও ’আশির দশকে খ্যাতনামা চিকিৎসক পরে যিনি শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক ও রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, অধ্যাপক ডাক্তার এ, কিউ, এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী টেলিভিশনে ‘স্বাস্থ্যবিষয়ক’ অনুষ্ঠানে একটি সুন্দর স্লোগান ব্যবহার করতেন। বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া তার সেই স্লোগান ছিল : ‘আমাদের প্রতিটি ছাইদানি হোক ফুলদানি।’ সেই স্লোগানকে মটো হিসেবে নিয়ে আসুন আমরা সকলেই প্রতিজ্ঞা করি আমাদের ছাইদানিগুলোকে ফুলদানিতে রূপান্তরিত করব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা