ইমেইল থেকে
ফাহিমা তাসনিম
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৪৬ এএম
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী তাদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অনেক আশা, আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু ভর্তি হওয়ার কিছু দিন পরেই তাদের সম্মুখীন হতে হয় আবাসন সমস্যার। গ্রাম, মফস্বল থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীর নিজের জন্য তখন একটু থাকার জায়গার ব্যবস্থা করতে নানাবিধ সমস্যা ও চিন্তার সম্মুখীন হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের জন্য হল ১৪টি, সেখান মেয়েদের জন্য মাত্র ৫টি হল বরাদ্দ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মজীবীদের জন্য রয়েছে বহুতল বিভিন্ন ভবন। অথচ মেয়েদের জন্য নতুন হল স্থাপনের নেই কোনো উদ্যোগ। এর মধ্যে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব হলে তৃতীয় বর্ষের আগে সিট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যার কারণে বহু শিক্ষার্থী পলিটিক্যালভাবে থাকত হলের গণরুমে। ফ্যাসিবাদ সরকারের পতনের পর ছেলেদের আবাসন সংকটের অনেকটাই সমাধান হলেও মেয়েদের কোনো সমাধান এখন পর্যন্ত হয়নি। উপরন্তু হল থেকে পলিটিক্যালভাবে থাকা মেয়েদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জিনিসপত্র নিয়ে যেতে।
ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্লাস শুরুর তারিখও ঘোষণা দিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা ব্যতীত ক্লাসে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয় বললেই চলে। দূরদূরান্তের জেলা থেকে পড়তে আসা নারী শিক্ষার্থীদের এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে। অনেকেরই ঢাকায় কোনো আত্মীয়স্বজন নেই, অনেকের আবার বাসা ভাড়া করে থাকার মতো সামর্থ্য নেই। এতে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। এসব শিক্ষার্থী পলিটিক্যালভাবে থাকাকালীন বিভিন্ন মিটিং, মিছিলে যেতে হতো। গণরুমে থাকতে হতো গাদাগাদি করে। হল থেকে রাজনীতি বিলুপ্তির পরেও আবাসন সংকটের হয়নি সমাধান। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তির পরও তাই উদ্বিগ্নে দিন পার করতে হচ্ছে। অতএব, উক্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই। মেয়েদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা ব্যতীত ক্লাসে ফেরা প্রায় অসম্ভব। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলে বৈধ সিট তথা নিরাপত্তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে এবং অবশ্যই মেয়েদের জন্য হলের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।
ফাহিমা তাসনিম
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়