× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রেক্ষাপট

বই পড়া শুরু হোক ঘর থেকে

মাহজাবিন আলমগীর

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৫৯ পিএম

বই পড়া শুরু হোক ঘর থেকে

বিগত শতাব্দী নব্বই দশক থেকেই টেলিভিশন আকাশ সংস্কৃতির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলশ্রুতি হিসেবে বইয়ের জগতের পাঠকের সংখ্যা ক্রমেই সংকুচিত হতে শুরু করে। এরপর এল স্মার্টফোনের যুগ। সুইচ টিপলেই আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো বিনোদনের যাবতীয় উপকরণ সামনে এসে হাজির। ইন্টারনেটের ইন্দ্রজালে মোহাছন্ন হয়ে পাঠকের বই পড়ার অভ্যেস যতটুকু অবশিষ্ট ছিল তাও সংকুচিত হতে হতে প্রায় তলানিতে নেমে এসেছে।


বই পড়বার প্রতি অনাগ্রহতা যে কেবল এ যুগের তরুণ প্রজন্মের তাই নয়, মধ্যবয়স্ক কিংবা প্রবীণ বয়সি পাঠকরাও আজকাল বই পড়তে আগ্রহী নন। এখন আর পথ চলতে ট্রেনে, বাসে বইয়ের পাতায় নিমগ্ন কোনো পাঠক একেবারেই চোখ পড়ে না। বরং সকলের দৃষ্টি নিমগ্ন থাকে ফোনের স্ক্রিনে। সংবাদপত্র হাতে পাঠক দুয়েকজন যাও পাওয়া যায়, বই হাতে পাঠক একেবারেই দৃশ্যমান নয়। শিশুবৃদ্ধনির্বিশেষে সকলেরই অবসর বিনোদনের একমাত্র কেন্দ্র যেন হয়ে উঠেছে দৃশ্যমাধ্যম। দৃশ্যমাধ্যম শরীর ও মনকে তাৎক্ষণিকভাবে চাঙ্গা করে ঠিকই কিন্তু তাতে মানসিক তুষ্টি কতখানি সে প্রশ্ন থেকেই যায়। বইয়ের মতন দৃশ্যমাধ্যম মানুষকে জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তোলে না। বর্তমান কালে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি যারা ঐতিহ্যগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে বইয়ের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে, তাদের সংখ্যা আর তেমন নেই বললেই চলে। তার প্রমাণ হলো লাইব্রেরিগুলোতে কেবল পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বইপত্র বিক্রি তেমন হয় না বইলেই চলে আর রয়েছে চাকরিপ্রত্যাশীদের সারি। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে চাকরি-সংক্রান্ত বইপত্র দেদারসে বিক্রি হয়।

শিশুদের ভেতর আজকাল স্মার্টফোনের যে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি তার পেছনেও অন্যতম কারণ শিশুরা পরিবারে বড়দের এখন আর বই পড়তে দেখে না, বরং স্মার্টফোনে নিমগ্ন থাকতে দেখে। যুগের প্রয়োজনে স্মার্টফোনের ব্যবহারকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় নাÑ এ কথা যেমন সত্য ঠিক তেমনি মানুষের মেধা ও মননশীলতার বিকাশে সৃষ্টিশীল কাজেও নিয়োজিত থাকা দরকার। শুদ্ধ জ্ঞানচর্চার জন্য বই পড়বার কোনো বিকল্প নেই। এখনকার অধিকাংশ অভিভাবকরা সন্তানরা পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেলেই যেন খুশি হন। পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের বাইরে শিক্ষার্থীরা কী শিখল, কতখানি শিখল তা নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের মাথাব্যথা নেই। অথচ পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই পড়া শুরু হওয়া উচিত ঘর থেকেÑঅভিভাবকদের উৎসাহে।

বইয়ের শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত। বই মানুষকে ভাবতে শেখায়। কল্পনার রঙিন সুতো হাতে ধরিয়ে দেয়, যার জাল নিজের ইচ্ছামতো বিস্তৃত করা যায়। পাঠকের রুচি আর মানসিকতার প্রসার ঘটায়। মস্তিষ্কে চিন্তাধারার বিন্যাস ঘটায়। বইয়ের কোনো বিকল্প নেই, হতে পারে না। নতুন প্রজন্মকে যদি বইমুখী করতে হয় তবে সে উদ্যোগ ঘর থেকেই প্রথমে শুরু করতে হবে। সন্তানের সামনে বইয়ের বৈচিত্র্যপূর্ণ সম্ভারে বদ্ধ দরজা খুলে দিয়ে তাকে তার পছন্দমতো জ্ঞানার্জনের সুযোগ দিতে হবে। ছোটবেলা থেকেই প্রতিটি ঘরে যদি শিশুকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে ও অনান্য বইপত্রের প্রতি আকৃষ্ট করা যায়, তাহলে বই পড়ার অভ্যাস তার শৈশব থেকেই গড়ে উঠবে। বইয়ের প্রতি অনুরাগ যেন শিশুর ঘর থেকেই জন্মলাভ করে সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া দরকার। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বিবাহবার্ষিকী কিংবা জন্মদিনে আমরা যদি বই উপহার হিসেবে দেই তাহলে তা যেমন স্মৃতি হিসেবে আজীবন থেকে যাবে, তেমনি বই পড়বার অভ্যাসও তৈরি হবে। উপহার হিসেবে বইয়ের কোনো তুলনা হয় না।

সামনে ফেব্রুয়ারি মাস। একুশে বইমেলায় পরিবারসহ ঘুরতে কমবেশি সবাই যাই। বেড়ানোর পাশাপাশি আমরা যদি প্রত্যেকে নিজেদের পছন্দমতো দুয়েকখানা বইও কিনি তাহলে বইব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, সর্বোপরি অভ্যাস এ সাড়া জাগবে। আর প্রত্যেকটি শিক্ষিত পরিবার অনান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মতো দুয়েক মাস অন্তর অন্তর পছন্দমাফিক কয়েকখানা বই কেনে তাহলে বড়দের অনুকরণে পরিবারের ছোটরাও বই পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

বই পড়াকে এভাবে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলা দরকার, যার শুরু করতে হবে নিজ নিজ ঘর থেকে। একমাত্র অন্তর থেকে উঠে আসা সত্যিকারের জ্ঞানতৃষ্ণা আর জিজ্ঞাসু মনই কেবল পারে বর্তমান কালের স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে আমাদেরকে বের করে বইয়ের প্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে। কেননা একটি জাতির সার্বিক উন্নয়নে পাঠ্যানুরাগী হওয়াটা অতীব জরুরি। দিন দিন বইপুস্তকের মূল্য যে হারে বৃদ্বি পাচ্ছে তাতে সকলের পক্ষে বই কেনা সম্ভব নয়। এজন্য সর্বোপরি দরকার প্রতিটি পাড়ায়, মহল্লায় নতুন নতুন পাঠাগার স্থাপন করা যেন ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলে বই পড়বার সুযোগ পায়। এভাবে বই পড়াকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে বইবিমুখতা থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। যার শুরুটা করতে হবে সর্বপ্রথম ঘর থেকে, তবে বইয়ের পাঠক তৈরির উদ্যোগ এখন জাতীয়ভাবে নেওয়াটা জরুরি হয়ে উঠছে।



মাহজাবিন আলমগীর

শিক্ষিকা ও কলাম লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা