× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

মোবাইল টাওয়ারের তেজস্ক্রিয়তা

রুশাইদ আহমেদ

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩৫ পিএম

মোবাইল টাওয়ারের তেজস্ক্রিয়তা

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত আবিষ্কারের নাম হলো মোবাইল ফোন কিংবা স্মার্টফোন। ২০২৫ সালের প্রারম্ভে প্রকাশিত প্রযুক্তি বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘কুলেস্ট গ্যাজেট’-এর প্রতিবেদন মোতাবেক বিশ্বের প্রায় ৭২০ কোটি মানুষ এখন এই ডিভাইসটি ব্যবহার করছে। এদের মধ্যে অনেক ব্যবহারকারীর আবার রয়েছে একাধিক ফোন। আপাতদৃষ্টিতে, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, স্থানকালভেদে সর্বত্র ফটো ও ভিডিওগ্রাফি করা, সুদৃঢ় কলিং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, দৈনন্দিন প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মতো অগণিত সুবিধা এই ডিভাইসটিকে করে তুলেছে আধুনিক মানুষের নিত্যকার সঙ্গী।

ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের মতে, বিশ্বে ২০২৮ সাল নাগাদ স্মার্টফোন উৎপাদন খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়াবে ২ দশমিক ৬ শতাংশে। যা ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের প্রতিযোগিতার হিড়িকে টিকে থাকতে পৃথিবীর টেক জায়ান্টদের ব্যাপক হারে উন্নত প্রযুক্তি সংবলিত স্মার্টফোন বাজারজাত অব্যাহত রাখার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে।

আর এখান থেকেই সূত্রপাত ঘটছে এক বিপত্তির। কেননা বিজ্ঞানের অন্যসব আবিষ্কারের মতো স্মার্টফোনেরও বেশকিছু অপকারী দিক আছে। ব্যবহারকারীদের ক্রমাগত অপব্যবহারের অবাধ সুযোগ এবং উৎপাদনকারীদের অযাচিত মুনাফাপ্রীতির কারণে এই হার এখন এমন এক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে, যা সরাসরি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানবদেহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মোবাইল নেটওয়ার্কের শক্তিশালী তড়িচ্চুম্বকীয় ক্ষেত্রের (ইএমএফ) উচ্চ তেজস্ক্রিয় তরঙ্গ বিকিরণ মাত্রা এবং পুরনো ফোনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব এই সংকটটির জন্য শাপে বর হয়ে উঠছে।

ইতঃপূর্বে বাংলাদেশ কিংবা উপমহাদেশীয় এলাকাগুলোতে পুরনো ফোনের ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু আলাপ শোনা গেলেও মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ইএমএফের উচ্চ তেজস্ক্রিয় তরঙ্গ বিকিরণের ক্ষতিকর মাত্রা নিয়ে কথা বলা হয়েছে খুব কম। বিষয়টি নিয়ে রয়েছে বিতর্কও।

২০২৪ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশে স্মার্টফোনের বাজারের আকার ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল আকারের বাজার থেকে দেশে প্রতিবছর গড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়। এতে করে বায়ুদূষণ, জীববৈচিত্র্য ও মানবস্বাস্থ্য ব্যাপক ঝুঁকিতে পড়ছে বলে দাবি করে সংস্থাটি।

২০১৮ সালে বিবিসি বাংলার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সারা দেশে মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান রবি, এয়ারটেল, টেলিটক, গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের আওতায় অন্তত ৪০ হাজার মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই সংখ্যা যে ২০২৫ সালের শেষে এসে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রকাশিত ‘ইফেক্টস অব নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন অব সেল টাওয়ার অ্যান্ড হাইভোল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইন অন প্ল্যান্টস, অ্যানিমেলস, হিউম্যান’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে দেশের সাতটি বিভাগে ৭৬টি মোবাইল টাওয়ার হতে ইউএমএফ তরঙ্গ বিকিরণের হার পর্যবেক্ষণ করে জানানো হয়, এর সবকটিতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অধিক মাত্রায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরিত হচ্ছে, যা মানবদেহ এবং পরিবেশের জন্য বড় আকারের সংকট তৈরি করতে পারে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালে প্রকাশিত ‘মোবাইল ফোন অ্যান্ড বেইজ স্টেশন রেডিয়েশন অ্যান্ড ইটস ইফেক্টস অন হিউম্যান হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ নামের আরেকটি গবেষণায় ভারতের যোগী ভেমানা বিশ্ববিদ্যালয়, এসভি বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতীয় কেমিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ও আনন্দপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছয়জন গবেষক মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারগুলো হতে ইএমএফের ক্ষতিকর তরঙ্গ বিকিরণের প্রভাবগুলো তুলে ধরেন বিস্তারিতভাবে।

এমতাবস্থায়, জীববৈচিত্র্য এবং দেশের জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নিয়মিত দেশের স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারগুলোতে অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ইএমএফ তরঙ্গ বিকিরিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে জনসাধারণকে সচেতন করে তোলা যেতে পারে। পাশাপাশি, অপ্রাপ্তবয়স্ক বিশেষ করে ১০ বছরের কম বয়স্ক শিশুদের প্রয়োজন ব্যতিরেকে ফোন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে মনে হলেও, সুন্দর বাসযোগ্য দেশ বিনির্মাণে এটিই আমাদের একমাত্র করণীয়।


রুশাইদ আহমেদ

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা