× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বেগম খালেদা জিয়া

অসামান্যার সামান্য স্মৃতি

তানজিনা নওশিন

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:২৫ পিএম

অসামান্যার সামান্য স্মৃতি

লেখার শুরুতেই স্পষ্ট করতে চাই, আমি নিজেকে মোটামুটি দল নিরপেক্ষ একজন মানুষ মনে করি। আমার পরিবারের অনেকেই রাজনৈতিক কোনো কোনো দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। কিন্তু সেটা কোনোভাবেই আমার নিজের রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের বহিঃপ্রকাশ নয়।

যাই হোক, যেটা বলতে চাচ্ছিলামÑ ১৯৮৯ বা ৯০-এর দিকের একটা ঘটনা, আজ কদিন ধরে বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমি তখন অনেক ছোটো। বয়স ৭ কি ৮। আমরা তখন যে বাড়িতে থাকতাম, তার ঠিক পাশেই সাদেক হোসেন খোকা চাচার বাড়ি। রামকৃষ্ণ মিশন রোড, গোপীবাগ। আমাদের দুই বাড়ির মাঝে এক বিশাল মাঠ ছিল। বিশাল মানে বিশাল, আমাদের বাড়িটা ছিল একতলা একটা বিল্ডিং সামনে ছোট্ট একটা বাগান। একটা ঘাটলা দেওয়া পুকুর আর হরিণের খাঁচা। লাল সিরামিক ইটের তৈরি বলে এলাকায় আমাদের এই বাড়িটা ‘লাল বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। সে সময় ঢাকা শহর এত ঘিঞ্জি ছিল না। 

যাহোক, কোনো এক রোজার দিনে ওই মাঠে খোকা চাচা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। প্রধান অতিথি বেগম খালেদা জিয়া। খোকা চাচার বাসা ওই মাঠ থেকে একটু দূরে হওয়ায় আমাদের লিভিং রুমে মহিলাদের নামাজের ব‍্যবস্থা করা হলো। সে সময়ে রাজনৈতিক প্রোগ্রামগুলো এতটা রাজকীয়ভাবে আয়োজন করা হতো নাÑ খুবই অর্গানিক আর সাদাসিধে আয়োজন।

ইফতার শেষে বেগম জিয়া দুই তিনজন মহিলাসহ আমাদের বাড়িতে নামাজ পড়লেন। আম্মা উনাদের জন‍্য চায়ের ব‍্যবস্থা করলেন। কেমন আছেন, আমি ভালো আছিÑ এমন দু-চারটে কথোপকথন শেষে ওনারা বিদায় নিলেন।

মজার ব‍্যাপার হলো, ইফতারের আগে মাঠে প্রস্তুতি শুরু হবেÑ বেগম জিয়া গাড়ি থেকে নেমে যখন পথ ধরে হেঁটে আসছিলেন; আমি খেয়াল করলাম উনার জন‍্য আয়োজকরা কোনো ফুলের ব‍্যবস্থা করেননি। আমার মাথায় ঠিক কি কাজ করল জানি না, আমি দৌড়ে আমাদের বাগান থেকে ২/৩ টা লাল গোলাপ ছিঁড়ে আনলাম। উনি স্টেজে ওঠার আগ মুহূর্তে আমি উনাকে ফুলগুলো দিলাম। উনি একহাতে ফুলগুলো নিয়ে আর এক হাত দিয়ে আলতো করে আমার গালে আদর করে দিলেন।

খুব মায়াবী একটা স্পর্শ।

আমার স্পষ্ট মনে আছে উনি মাড় দেওয়া একটা সাদা সুতি শাড়ি পড়েছিলেন, ছাইরঙা পাড়ের। মাঝে সিঁথি করে পিছনে হাতখোঁপা করা চুল। আমার ছোট্ট মনে এমন সুন্দর একটা মুখ আজীবনের জন‍্য আটকে গিয়েছিল। তারপরে আরও বেশ কয়েকবার তার কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ আমার এসেছিল বটে, তবে সবকিছু ছাপিয়ে আমার শিশুমনে তার যেই ইমেজটা তৈরি হয়েছিলÑ তা সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

আমরা এমন একটা দেশের নাগরিক, যে দেশে প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক নেতা-কর্মী কোনো না কোনোভাবে কনট্রভার্সিয়াল। বিভিন্ন ধরনের অন‍্যায়-অপরাধ, দুর্নীতি, অতি কথন ও অপকর্মের সঙ্গে তারা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে যুক্ত ছিলেন বা আছেন। কমপারেটিভ স্টাডি করলে বেগম জিয়া বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক নেতাদের মধ‍্যে ব‍্যতিক্রম।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া তার রাজনৈতিক ক‍্যারিয়ারে আমি অন্তত দৃশ‍্যমান বড় কোনো পলিটিক্যাল কনট্রভার্সি দেখি না। হ‍্যাঁ, এটা সত‍্য তার দলের অনেক নেতা-কর্মী বা সমর্থক কিংবা তার অনেক আত্মীয়স্বজন অনেক ধরনের অন‍্যায়-অপরাধ সংঘটন করেছিলেন অতীতে ও বর্তমানেও; দলের একজন টপমোস্ট লিডার হিসেবে সেসবের দায়িত্ব কমবেশি তার ওপরও বর্তায়। কিন্তু শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অপরাধের তুলনায় তা অত‍্যন্ত নগণ্য নিঃসন্দেহে।

সর্বোপরি, একজন মানুষের যে বিষয়টা অন‍্যের মধ্যে ইমেজ সৃষ্টি করতে প্রধানতমভাবে ভূমিকা রাখে, তা হলো তার ব‍্যক্তিত্ব তার কথা বলার ধরন, তার শব্দ চয়ন। বেগম জিয়ার স্ট্রং পারসোনালিটি, তার পরিমিতিবোধÑ মানুষ নিশ্চিতভাবে মনে রাখবে বহুদিন। তার আরেকটা বিষয় আমাকে খুবই মুগ্ধ করে যে, দেশের এবং তার চরম দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও উনি কখনও দেশ ছেড়ে যাননি, বিভিন্নভাবে তাকে প্রস্তাব দেওয়ার পরও।

অন দ‍্য আদার হ্যান্ড, শেখ হাসিনাকে আমরা বারবারই দেখেছি সমস্যা এলেই কোনোপ্রকার দেরি না করে নিজেকে সেইফ রাখার জন্য দ্বিতীয়বার না ভেবে দেশ ছাড়তে।

এই যে ডিফারেন্স বিটউইন পলিটিক্যাল স্ট্যান্ডÑ ইট অ্যাডেড অ্যা হিউজ ভ‍্যালু টু হার অ্যাজ অ্যা লিডার অব অ্যা কান্ট্রি। 

বেগম জিয়ার যে বয়স এবং শারীরিক অবস্থা তাতে হয়তো বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিকট ভবিষ্যতে তার পক্ষে রিমার্কেবল কোনো ধরনের ভূমিকা রাখা মোটামুটি প্রায় অসম্ভব; কিন্তু তার এবং তার পরিবারের ওপর দিয়ে বিগত সরকার ও ১/১১-এর সরকারের আমলে যে অবর্ণনীয় অত্যাচার ও নির্যাতন হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তার দল সরকার গঠন করেছে এবং উনার পরিবারের সদস্যরা দেশে ফিরে নিরাপদে উনার কাছাকাছি থাকছে; মৃত্যুর পূর্বে উনি সেটা দেখে যাওয়াটা অবশ্যই ডিজার্ভ করেন। আল্লাহ উনাকে সুস্থ করে দিন এবং উনার নেক হায়াত দিনÑ সেই দোয়াই করি মনে ও মননে।


তানজিনা নওশিন

কলাম লেখক, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা