ইমেইল থেকে
সানি মহারথী
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩১ এএম
ময়মনসিংহ জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা ধোবাউড়ায় ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি মানুষের প্রগাঢ় আস্থা ও আগ্রহ প্রশ্নাতীত। প্রত্যেক অভিভাবকেরই একান্ত আকাঙ্ক্ষা তাদের সন্তান যেন দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করে সত্যিকারের মুমিন বান্দা হিসেবে গড়ে ওঠে। এই সরল বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আবাসিক মাদ্রাসা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব মাদ্রাসার বেশিরভাগেরই বাংলা বা ইংরেজি মাধ্যমের কোচিং সেন্টারগুলোর মতো নেই সরকারি অনুমোদন বা ন্যূনতম নজরদারি।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তানের দ্বীনি শিক্ষার লক্ষ্য পূরণে উদগ্রীব অভিভাবকেরা মাদ্রাসা নিজ এলাকা বা বাসস্থানের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত কি না বা এর আবাসিক ব্যবস্থা কেমন সেসবের খবর করেন না। এই সরল বিশ্বাসই কার্যত এসব প্রতিষ্ঠানকে মানহীনতা জিইয়ে রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে। দূরদূরান্তের শিক্ষার্থীরা আবাসিক ব্যবস্থায় থেকে পড়াশোনা করছে আর মাস শেষে অভিভাবকেরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑ এই অর্থের বিনিময়ে আসলে শিশুরা কী পাচ্ছে?
আবাসিক ব্যবস্থার খাবারের মানহীনতার পাশাপাশি এই অনুমোদনহীন মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পড়াশোনার মান কতটুকু নিশ্চিত তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় এখানে শিক্ষার মান যাচ্ছেতাই পর্যায়ের। আমরা আমাদের চারপাশে তাকালে দেখি প্রায়ই মাদ্রাসায় পড়া শিশুরা ঝরে যাচ্ছে। স্কুলের তুলনায় মাদ্রাসা থেকে ঝরে পড়া শিশুর আধিক্য অনেক বেশি ও উদ্বেগ পর্যায়ের। শুধুমাত্র থাকার জায়গা ও খাবারের যেনতেন ব্যবস্থা করে দ্বীনি শিক্ষার আগ্রহের সুযোগে এই আপাত মান শিক্ষার পরিবেশ চালিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্টের কোনো অধিকার কারও নেই।
গুরুতর এই সামাজিক সমস্যা সমাধানে দুটি পক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। প্রথমত, অভিভাবকগণকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষার আকাঙ্ক্ষা পূরণের আগে মাদ্রাসার অনুমোদন, শিক্ষকের যোগ্যতা এবং বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক পরিবেশ ও খাবারের মান যাচাই করা তাদের আবশ্যকীয় দায়িত্ব।
দ্বিতীয়ত, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উচিত ধোবাউড়াসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন মাদ্রাসাগুলোর আপাত মানের শিক্ষা প্রদানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোতেও খাবারের মান, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও কঠোর তদারকি করা।
শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরির লক্ষ্যে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ ব্যাপারে আমি দৃঢ়তার সহিত সামাজিক সচেতনতা কামনা করছি।
সানি মহারথী
ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ