× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্লেষণ

জুলাই জাতীয় সনদ ও আগামীর নির্বাচন

ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩৮ এএম

জুলাই জাতীয় সনদ ও আগামীর নির্বাচন

২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের কোটা-বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দ্রুতই রূপ নেয় স্বৈরশাসনবিরোধী গণআন্দোলনে। সরকার আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিকে ব্যবহার করে গুলি, টিয়ার গ্যাস ও নির্যাতন চালায়। তবুও শিক্ষার্থীরা মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে রাজপথে পর্বতের ন্যায় অটল থাকে, আর তাদের সঙ্গে যোগ দেন শ্রমিক, পেশাজীবীসহ লাখো মানুষ।

সরকারের দমন, পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মুখেও আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। সমন্বয়কারীরা পরিকল্পনা বদলে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির নামে গণভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেন। বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন যে, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তার নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। একটি মাহেন্দ্রক্ষণ। সেইদিন সকাল থেকেই কারফিউ অমান্য করে লাখো মানুষ রাজধানীতে জড়ো হয়। সেনাবাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের বদলে দেখা যায় নান্দনিক সুন্দর সৌহার্দ্যের দৃশ্য। জনতার বাঁধভাঙা ঢলে দখলে নেয় গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। অবশেষে জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের লজ্জাজনক পতন ঘটে, তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। 

৫ আগস্ট ২০২৪ অর্জিত হয় অগণিত তরুণের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে। এই দিনটি জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

আমার জীবনে এত আনন্দময়, উচ্ছ্বসিত মুহূর্ত আর কখনও আসেনি। সেদিন গোটা দেশ জেগেছিল এক অনন্য ঐক্যের বন্ধনে। এটি ছিল ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাংলাদেশের নবজাগরণের দিন। বৃদ্ধ-যুবক থেকে শুরু করে শিশুর মুখেও ফুটে উঠেছিল প্রাণঢালা হাসি, ছিল অপরিসীম আনন্দের জোয়ার।

এই দিনটি শুধু আনন্দের নয়, মুক্তিরও। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে, সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবশেষকে মুছে ফেলার সংকল্প নিয়েছিল জনগণ। সংস্কার ও পুনর্গঠনের সেই অঙ্গীকারে বিএনপি এগিয়ে আসে ‘৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব’ নিয়ে। দেশের আপামর জনগণ এই ৩১ দফা প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেছে।

সকল রাজনৈতিক দল দীর্ঘ সময় ধরে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আলোচনায় বসে। সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে সর্বজনীন ঐক্যের প্রতীক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরে বিএনপি সম্মতি জানায়।এই প্রক্রিয়ায় এনসিপি ছিল জুলাই সনদের অন্যতম প্রস্তাবক দল। অথচ বিস্ময়করভাবে, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এনসিপি উপস্থিত ছিল না। বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল সনদে স্বাক্ষর করে; এমনকি প্রথমে দ্বিধান্বিত জামায়াতে ইসলামীও শেষ পর্যন্ত সনদে স্বাক্ষর করে। কিন্তু এনসিপির অনুপস্থিতি জনমনে নানা শঙ্কা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, তারা কেন স্বাক্ষর করল না? এর পেছনে কি কোনো যৌক্তিক কারণ আছে, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে?

এদিকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামের একটি সংগঠন ঐতিহাসিক জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। অনেকেই ধারণা করছেন, এই অপতৎপরতার পেছনে পরাজিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগেরই হাত থাকতে পারে। ফলে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের ভেতরে বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগ ও দুর্ভাগ্যজনক।

আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে, জনগণের স্বপ্নপূরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উত্তরণের জন্য এই নির্বাচন সফল করতেই হবে। জনগণ এই দেশের মালিক। অতএব, কে ক্ষমতায় আসবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে এদেশের জনগণ। এই সত্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। তাই, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। তাই আসুন, জুলাই জাতীয় সনদকে একটি সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হলে ফেব্রুয়ারির বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনকে আলোর পথে নিয়ে যাই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা