ইমেইল থেকে
অনিরুদ্ধ সূত্রধর
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:২৫ এএম
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:২৭ এএম
বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় আট লক্ষাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন (ইউজিসি, ২০২৪)। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাসের পরও চাকরি পান না। এর অন্যতম কারণ হলো, শিক্ষার সঙ্গে প্র্যাকটিক্যাল স্কিলের ঘাটতি। বর্তমানে শুধু ডিগ্রি থাকলেই চাকরি মেলে না; দরকার বিষয়ভিত্তিক হার্ড স্কিল ও সফট স্কিলের সমন্বয়। উদাহরণস্বরূপ, কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী যদি প্রোগ্রামিং বা ডেটা অ্যানালাইসিসে দক্ষ না হয় তবে চাকরির বাজারে টিকে থাকা কঠিন।
অন্যদিকে, বিজনেস, ইংরেজি বা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং বা পাবলিক স্পিকিং শেখা দরকার। বিডিজবস্-এর ২০২৩ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬৪ শতাংশ নিয়োগদাতা প্রার্থীর যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধান দক্ষতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। তাই সফট স্কিল, যেমনÑ কমিউনিকেশন, টাইম ম্যানেজমেন্ট, লিডারশিপ ও টিমওয়ার্কÑ সফল ক্যারিয়ারের জন্য অপরিহার্য।
পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর কার্যক্রম বা স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ দ্বিগুণ করে। বাস্তব অভিজ্ঞতা একজন প্রার্থীকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং নিয়োগদাতার কাছে মূল্যবান করে তোলে। এছাড়া ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা আজকের দিনে বিশেষ প্রয়োজনীয়, কারণ ফ্রিল্যান্সিং, সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন শিক্ষাদানের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ এখন বহুল বৃদ্ধি পেয়েছে। আইসিটি ডিভিশন-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন। সুতরাং, বিশ্ববিদ্যালয় পাস করার পর বেকার না থাকতে হলে হার্ড ও সফট স্কিল অর্জন, ইন্টার্নশিপ করা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রস্তুতিগুলো একজন শিক্ষার্থীকে আত্মনির্ভর, দক্ষ ও সফল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
অনিরুদ্ধ সূত্রধর
লালমাই সরকারি কলেজ, কুমিল্লা