× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমলাতন্ত্র

ভোটের আগে নিরপেক্ষ প্রশাসন চাই

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪৬ পিএম

ভোটের আগে নিরপেক্ষ প্রশাসন চাই

সবকিছু ঠিকমতো চললে সরকার-ঘোষিত সময় ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুত এবং বদ্ধপরিকর। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে এখনও সবচেয়ে বড় ঘাটতি নির্বাচনব্যবস্থার ওপর দলগুলোর আস্থা। বলা বাহুল্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর দলনিরপেক্ষ, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রশাসন ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে ‘সবুজ সংকেত’ও দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্বের প্রথম মাসেই সরকার গঠন করে একটি প্রশাসনিক সংস্কার টাস্কফোর্স। টাস্কফোর্সের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিলÑ রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এর সমাধানে স্বচ্ছ নিয়োগ ও কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজও শুরু করে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরকারের উদ্যোগ অচিরেই মুখথুবড়ে পড়ে। দেখা যাচ্ছে, টাস্কফোর্সের সুপারিশগুলোর অগ্রগতি খুবই ধীর। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এই ক্ষেত্রে বড় বাধা। বলা হচ্ছে, এই পরিবর্তনের বিরোধিতায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতি আনুগত্য অন্যতম কারণ।  

সেসব কারণে নিরপেক্ষতা নয়, বরং দলীয় আনুগত্যই যেন ফ্যাসিস্ট শাসনামলের মতোই নিয়োগের প্রধান মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছেÑ এই অভিযোগ রাজনৈতিক দলগুলোর। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলো ততই দলীয়করণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিশেষত, দুটি বড় দলের পক্ষ থেকে এই উদ্বেগের কথা বলা হচ্ছে। তারা উভয়ই বলছে, সরকার গত এক বছরে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং মাঠ প্রশাসনে ‘বিশেষ রাজনৈতিক দল’-এর অনুগত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন করছে। 

তার মানে নির্দলীয় সরকারের সময়ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ জোরে শোরে উঠছে। আমরা অতীতেও দেখেছি, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব নিয়ে বিতর্ক ওঠে। এবারের পরিস্থিতিও যে তার ব্যতিক্রম নয় তা স্পষ্ট। সরকার ও নির্বাচন কমিশন বলছে, প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পেশাদারভাবে কাজ করছে। কিন্তু কার্যত মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যন্ত এক ধরনের রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

জানা গেছে, গত ১৪ মাসে প্রশাসনে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে। ৩২ জন নতুন ডিসি নিয়োগ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন এর আগে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পদে ছিলেন। ১৫টি মন্ত্রণালয়ে সচিব রদবদল ঘটেছে। জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ হয়েছে। ৫৩ জন অতিরিক্ত সচিবের পদোন্নতি ঘটেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পদে ৪১৮টি পদে বদলি বা পদায়ন ঘটেছে। যদিও এসব পদোন্নতি নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই অবস্থায় জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে? কারণ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বদলি, থানা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ জনগণের মধ্যেও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।

১৬ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘ভোটের আগে প্রশাসনে দলীয়করণ বিতর্ক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদন বলছে, নতুন জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগের পর দলীয়করণ-সংক্রান্ত এই বিতর্কে তীব্র হাওয়া লেগেছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তিনি ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের’ আদর্শে বিশ্বাসী কর্মকর্তা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গত এক বছরে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসনে ‘একটি বিশেষ দলের অনুগতদের’ পদায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে তাদের অনুগত উপদেষ্টাদের সমর্থন রয়েছে। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনের আগে প্রশাসনকে ‘নিরপেক্ষ’ করার দাবি উঠেছে। এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে প্রশাসনে নিরপেক্ষতার সংকট সৃষ্টি এবং নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আমরা মনে করি, প্রশাসনে দলীয়করণ মানে হলোÑ নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি কিংবা দায়িত্ব বণ্টনে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া। ইতোমধ্যে পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের কথাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যেমে এসেছে। ফলে যারা ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ, তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন; আর যারা নিরপেক্ষ বা ভিন্ন মতাবলম্বী তারা উপেক্ষিত থাকেন। এভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের পেশাদারত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রশাসন জনগণের নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতিয়ার হয়ে ওঠে। বিশেষত, নির্বাচনকালীন সময়ে এমন প্রভাব ভোটের মাঠে ভারসাম্য নষ্ট করে। যে কারণে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে কাজ করা। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পদায়ন বা বদলি হলে সেই মৌলিক চরিত্র নষ্ট হয়। এজন্য জরুরি হলো, নির্বাচনের আগে প্রশাসনে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব না রাখা, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের ওপর স্বচ্ছ নজরদারি চালানো এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা নিশ্চিত করা।

ভুলে গেলে চলবে না, ১৭ বছরের অপশাসনে গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গন বিধ্বস্ত। একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ আজ মুক্তির স্বপ্ন দেখছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে এখন প্রয়োজন একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রশাসন ও দলীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা। জনগণ চায় এমন এক ভোট যেখানে ভয় থাকবে না, প্রভাব থাকবে না, থাকবে শুধু জনগণের রায়। সেই সময়টিই এসেছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন দিগন্ত সূচনার। আমরা চাইÑ সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নাগরিক সমাজ একযোগে নিরপেক্ষ প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার দাবিকে জোরালো করবে। আর সেটাই হতে পারে সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি এবং গণতন্ত্র রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা