× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচন

রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিএনপির ভোটাধিকারের সংগ্রাম

একেএম আহসান হাবীব, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মী

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১৬ এএম

রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিএনপির ভোটাধিকারের সংগ্রাম

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা’। অথচ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের সেই জনগণের অধিকার, বিশেষ করে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত । ২০০৭ সালে ১/১১-পরবর্তী সেনা সমর্থিত সরকারের মাধ্যমে শুরু হয় এক বৃহৎ রাজনৈতিক অপকৌশলের। এর মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে থেকে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোকে ধ্বংস করা এবং একটি নিয়ন্ত্রিত, নির্দেশিত, পশ্চিম-অনুমোদিত তথাকথিত ‘স্ট্যাবল’ সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এই অপকৌশল সফল করতে তারা প্রথমেই সেসময়ের চার-দলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এই কৌশলে জনগণ সাড়া দেয়নি। যদিও পরে জানা যায় সেসময় ১/১১ সরকারের সঙ্গে আপস করে শেখ হাসিনা এবং তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। এর পর শুরু হয় আরও চতুর, সুপরিকল্পিত অপারেশন নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল একটি গণতন্ত্রহীনতার সবচেয়ে বড় মোড়। ১৫৪টি আসনে কোনো ভোটগ্রহণই হয়নি; সেখানে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের অধীনেই ভোট নিয়ন্ত্রণে রাখে। বস্তুত, বাংলাদেশ পতিত হয় এক গভীর অন্ধকারে ফাঁদে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। রাতের অন্ধকারে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়। শত শত বিরোধীদলীয় প্রার্থীকে প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয়নি। গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশন পরিণত হয় দলীয় কার্যালয়ের উপগ্রহে। বাংলাদেশ পরিণত হয় একটি নির্বাচিত একনায়কতন্ত্রে, যেখানে গণতন্ত্রের কঙ্কাল আছে কিন্তু প্রাণ নেই।

একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রতিরোধের জায়গা থেকে একমাত্র বিএনপিই এই নির্বাচনী কারসাজির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক, দৃঢ় ও আত্মত্যাগপূর্ণ লড়াই চালিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, বাড়িঘরে হামলা, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর ওপর দমননীতি সত্ত্বেও বিএনপি রাজনৈতিক কাঠামো ধরে রেখেছে। বিএনপির সঙ্গে এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কিছু রাজনৈতিক দল সমর্থন দিলেও অধিকাংশই ছিল প্রাত প্রদীপের অন্তরালে।

এই আন্দোলন করতে আপসহীন বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বন্দি জীবনযাপন করেছেন, ছেলেহারা হয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাসনে থেকেছেন। তবু রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আদর্শিক দিকনির্দেশনা ও সংগঠন পুনর্গঠনে নিরলস কাজ করে চলেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি কোনায়।

বিএনপি ৫ দফা, ১০ দফা, ১ দফা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করতে চেয়েছে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার পথে আসতে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলায় সমাবেশ, পদযাত্রা, মানববন্ধন, অনশন সবকিছুর মধ্য দিয়ে সংগঠিত গণআন্দোলনের ভিত গড়ে তোলে। যার অন্তিম পরিণতি ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট আন্দোলন। তিলে তিলে রক্ত, ঘাম, জেল-জুলুম নির্যাতনে গড়ে ওঠা এই সংগ্রামের যবনিকা হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনার দেশ ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যম।

ফ্যাসিস্ট মুক্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান শুধু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নন, বরং এক বিকল্প রাষ্ট্রচিন্তার ধারক। তার চিন্তা বাস্তববাদী এবং রূপান্তরকামী। ২০২৩ সালের ঘোষিত ৩১ দফা তিনি দিয়েছিলেন ফ্যাসিস্ট আমলে; যা বর্তমানে সর্বমহলে আলোচিত। কারণ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাই মৌলিক সংস্কার চায়। ফ্যাসিস্ট-পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনে ‘না’ বলা যেমন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি গণতন্ত্রায়নের পথনকশা ৩১ দফা তৈরির সাহসিকতার নিদর্শন। তিনি প্রমাণ করেছেন, নেতৃত্বের জন্য শুধু মাঠে শারীরিক উপস্থিতি নয়; আদর্শ, যুক্তি ও দূরদৃষ্টি-সম্পন্ন রাজনৈতিক প্রজ্ঞাও বড়। তার হাত ধরেই আজ বিএনপি একটি ধারণাগত ও আদর্শিক রূপান্তরের দিকে এগোচ্ছে। অতীত নির্ভরতা থেকে ভবিষ্যত-প্রবণতা, কৌশলী যুদ্ধ থেকে আদর্শিক সংগ্রাম, দলীয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের চেতনা বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি, অর্থনৈতিক ন্যায্যতা সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিনের ভোটবিহীন শাসনব্যবস্থা একটি দায়বদ্ধতাবিহীন, জবাবদিহিহীন, লুটপাট-নির্ভর রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করেছে। ভোটাধিকার শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি। এই ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা না গেলে প্রশাসন আরও দুর্বৃত্তায়িত হবে, বিচার বিভাগ আরও দলীয় হয়ে উঠবে, রাষ্ট্র আরও শোষণমুখী হয়ে উঠবে এবং জনগণ আরও ভীত, নিঃস্ব, অধিকারহীন হয়ে পড়বে।

বিএনপির এই সংগ্রাম নিছক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার লড়াই নয়। এটি হচ্ছে একটি জাতিকে তার মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার সংগ্রাম। এটি হচ্ছে সেই ইতিহাসের পুনরুজ্জীবন, কেবল আবেগ নয়, বরং একটি নাগরিক অধিকার। আজ বাংলাদেশে যে কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক, বিএনপি এবং তার নেতৃত্ব ভবিষ্যতের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।

যেদিন প্রথম সূর্যের আলো পড়বে মুক্ত ভোটের বাক্সে, সেদিন শুরু হবে নতুন বাংলাদেশ, যেখানে রাষ্ট্র হবে জনগণের, ক্ষমতা হবে সত্যের, আর নেতৃত্ব হবে ন্যায়ের। এই লড়াই যত দীর্ঘই হোক, জয় হবে জনগণের, বিজয় হবে ভোটের, আর রচনা হবে এক নতুন রাষ্ট্রচেতনা জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা