× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অর্থনীতি

বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ : একটি পর্যালোচনা

ড. মো. আইনুল ইসলাম, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১০ এএম

বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ : একটি পর্যালোচনা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দিগন্তে অস্থায়ী নয়, দীর্ঘস্থায়ী বিদেশি ঋণের এক কালোছায়া ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে, যার প্রমাণ সামষ্টিক অর্থনীতির নানাবিধ সংকটের মধ্যেই গুরুতর বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের চাপের মুখোমুখি হওয়া। অবস্থা এমন যে ঋণ করে ঋণ শোধ করতে হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বিদেশি ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা একেবারেই উদ্বেগজনক গতিতে এমন এক লাল অঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা নিছক আর্থিক ভঙ্গুরতা নয় বরং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অর্জনকে লন্ডভন্ড করে দিতে পারে। কারণ, স্বজন ও ধনিকশ্রেণি তুষ্টকারী বাংলাদেশের অর্থ ও নীতিব্যবস্থা অভূতপূর্ব একটি গণ-অভ্যুত্থানের পরও আগের মতোই আধিপত্য বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ১০৪.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের উল্লম্ফন বৃদ্ধি। এই উল্লম্ফন এখনও চলছে এবং ঋণ-জিডিপি অনুপাতকে ৩৭.৪১ শতাংশে পৌঁছে দিয়েছে এবং ঋণ-রপ্তানি অনুপাতকে ১৬২.৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। এভাবে দেশ আসলে ঋণফাঁদে আবদ্ধ হচ্ছে, যা একদিকে উন্নয়নের কাঠামোগত দুর্বলতাকে উন্মোচন করছে, অন্যদিকে পশ্চাদগামী করব্যবস্থা, সুবিধাভোগী পুঁজিবাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অর্থনৈতিক ভিত্তিকে ক্রমাগত ভঙ্গুর করছে।

বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বৃদ্ধির সংকটের তীব্রতা স্পষ্ট হয় ঋণ পরিষেবা বা ডেবট সার্ভিসিংয়ের দায় পর্যালোচনা করলে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বৈদেশিক ঋণ পরিষেবায় বাংলাদেশের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬৬৭.১১ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে মূলধন পরিশোধ ৪৮৮.৭৯ মিলিয়ন ডলার এবং সুদ প্রদানে ১৭৮.৩২ মিলিয়ন ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধিত ৫৮৯.২২ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় বিশাল বৃদ্ধি। এ প্রবণতা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষত যখন রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতায় ভুগছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতির ভয়াবহতা সরকারি মহল স্বীকার না করলেও বোঝা যায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নজিরবিহীন পদক্ষেপে। প্রথমবারের মতো আইএমএফ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ৮.৪৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করেছে এবং তা নিশ্চিত করতে ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। অথচ ২০২৩ সালে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার অনুমোদনের সময় এ ধরনের শর্ত ছিল না। সর্বশেষ ঋণ টেকসই বিশ্লেষণে বাংলাদেশকে পরপর দুই বছর ‘মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার পরই এই সীমা নির্ধারণ করা হয়। দেশের ঋণ-রপ্তানি অনুপাত ২০২৪ অর্থবছরে ১৬২.৭ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা আইএমএফের পূর্বাভাস দেওয়া ১১৬-১১৮ শতাংশের তুলনায় বহুগুণ বেশি। একই সঙ্গে ঋণ-আয় অনুপাত মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়ে সরকারের রাজস্ব আয় থেকে নতুন ঋণগ্রহণের ক্ষেত্র সংকুচিত করছে।

এই সংকটের মূল কারণ কেবল ঋণের পরিমাণ নয়, বরং রাজস্ব আহরণের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং গৃহীত ঋণ ব্যবহারের ধরন। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে মাত্র ৭.৪ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন পর্যায়ের। অর্থনীতি শাস্ত্রের দৃষ্টিতে এর অর্থ হচ্ছে, ধনিকশ্রেণির জন্য কর কাঠামো অনুকূল থাকলেও সাধারণ জনগণকে পরোক্ষ করের মাধ্যমে বাড়তি চাপ বহন করা। এর মধ্যে আবার বৈদেশিক ঋণে অর্থায়িত তথাকথিত মেগা প্রকল্পের তকমাধারী কর্মকাণ্ডের প্রধান সুবিধাভোগী ধনী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হলেও ঋণ পরিশোধের যাবতীয় ভার জনগণের, যা মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। এই ধারায় বাংলাদেশে ক্রোনি ক্যাপিটালিজম বা সুবিধাভোগী পুঁজিবাদের বিস্তার বৈদেশিক ঋণকে বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে তুলেছে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিদেশি ঋণ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। অনেক প্রকল্পকে মেগা প্রকল্প বলা হলেও বেশিরভাগই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা করেছে, প্রকৃত অর্থনৈতিক রির্টান কম এনেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ২০১০ সালে যেখানে সরকারি ও গ্যারান্টিযুক্ত বিদেশি ঋণ ছিল ২০.৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪ সালে তা তিনগুণ বেড়ে ৬৮.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালের শুরুতেই তা ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্প বাছাই অনেকাংশেই যথাযথ ব্যয়-সুফল বিশ্লেষণের পরিবর্তে ভাড়া ও মুনাফা অন্বেষণ ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ সৃষ্টি চিন্তায় পরিচালিত হয়েছে। পদ্মা সেতু, বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেলসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো দুর্নীতি, অতিরিক্ত ব্যয়, দুর্নীতিকামী ক্রয় প্রক্রিয়া ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে জর্জরিত, যা ঋণের পরিমাণ বাড়ালেও প্রকৃত উন্নয়ন প্রভাব সীমিত রেখেছে। ঋণ ব্যবহারে দুর্নীতি কেবল প্রকল্প বাছাইয়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ঋণচুক্তি, বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রতিটি ধাপেই অনিয়ম বিদ্যমান। দুর্নীতির চিন্তানির্ভর চুক্তি, ভুয়া প্রকল্প, কমিশনভিত্তিক কেলেঙ্কারি এবং আগ্রাসী অর্থ আত্মসাতের কারণে ঋণের বড় অংশ কখনও নির্ধারিত উদ্দেশ্যে পৌঁছে না, কিছু অংশ পৌঁছলেও প্রত্যাশিত সুফল দেয় না। ব্যবসায়ী-অধ্যুষিত সংসদীয় কমিটির সৎ নজরদারির অভাব, ঋণচুক্তিতে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং দুর্বল ও দুর্নীতিনির্ভর দমন ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক ঋণ জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পদ সঞ্চয়ের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। 

আঞ্চলিক তুলনায় বাংলাদেশের দুর্বলতা আরও প্রকট। ভারত (৭১১.৮ বিলিয়ন ডলার) ও ইন্দোনেশিয়ার (৪২৪.৮ বিলিয়ন ডলার) বিদেশি ঋণ তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও তাদের অর্থনীতি বৃহত্তর, রপ্তানি বহুমুখী ও কর-জিডিপি অনুপাত যথাক্রমে ১৭ শতাংশ ও ১১ শতাংশের ওপরে। অপরদিকে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশের ঋণ সংকট বাংলাদেশকেও সতর্কবার্তা দিচ্ছেÑ বিশেষত শ্রীলঙ্কার মতো ঋণ-রপ্তানি অমিল এখন বাংলাদেশের বাস্তব ঝুঁকি। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ঋণের ভারে থাকলেও দুটি দেশই যথাক্রমে বৈশ্বিক দরকষাকষির ক্ষমতা শিক্ষা ও সুনীতিতে বাংলদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। উপরন্তু ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। কারণ তখন আর সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যাবে না। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ অর্থবছরে মোট ঋণ দাঁড়াবে ২৩ লাখ কোটি টাকা, ২০২৭ সালে ২৬ লাখ কোটি এবং ২০২৮ সালে ২৮ লাখ কোটিতে পৌঁছবে। ঋণের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা (৩.৩৫ বিলিয়ন ডলার), এরপর নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। চীনা ঋণের সুদের হার তুলনামূলক বেশি এবং শর্তগুলো অস্পষ্ট, যা ঋণ-ফাঁদের ঝুঁকি ও ভূ-রাজনৈতিক নির্ভরশীলতা বাড়ায়। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে সরকারের সুদ পরিশোধ বেড়েছে ১০ শতাংশ, যার মধ্যে বৈদেশিক সুদ ২৩ শতাংশ এবং ট্রেজারি সিকিউরিটিজের সুদ ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণ-পরিষেবার বাড়তি এই খরচ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় সংকুচিত করছে। 

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রবণতা হচ্ছে, নতুন ঋণ নিয়ে পুরনো ঋণ শোধ করার প্রবণতা, যা একধরনের ‘ঋণপঞ্জি প্রক্রিয়া’ তৈরি করছে। ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে প্রাপ্ত ৭৫০.০৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ প্রায় সমানভাবে ৬৬৭.১১ মিলিয়ন ডলার ঋণ-পরিষেবায় ব্যয় হয়েছে। এই চক্র ঋণের অন্তর্নিহিত দেউলিয়াত্ব ঢেকে রাখছে, তবে ঋণ পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদ বেড়ে গেলে দুষ্টচক্রটি আরও ভয়াবহ হবে। কারণ, নতুন ঋণ নিয়ে পুরনো ঋণ শোধ করার প্রবণতা মূলত ‘ঋণ পুনঃঅর্থায়ন’ নামে পরিচিত, যেখানে অর্থনীতিতে কাজ করে একটি পঞ্জি-সদৃশ, অর্থাৎ ‘জনগণের নামে ধার করে নিজে ঘি খেয়ে জনগণকে অতলে ডুবিয়ে মারা’ প্রক্রিয়া। এটি প্রকাশ পায় তখন, যখন একটি দেশ বা প্রতিষ্ঠান পুরনো ঋণের মূলধন ও সুদ পরিশোধের জন্য নতুন ঋণগ্রহণ করে বাস্তব অর্থনৈতিক উৎপাদন বা রাজস্ব কিংবা আয় বৃদ্ধির পরিবর্তে। এই প্রবণতা কেইনসীয় অর্থনীতির দৃষ্টিকোণে টেকসই নয়, কারণ এটির মূল সমস্যা হচ্ছে, অপর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ এবং কাঠামোগত দুর্বলতা সমাধান না করে সাময়িক স্বস্তি প্রদান করে। এর পরিণতি মারাত্মক। প্রথমত, ঋণের বোঝা ক্রমাগত বাড়ে, যা ঋণ-জিডিপি এবং ঋণ-রপ্তানি অনুপাতকে অস্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, সুদের হার বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ অর্থনৈতিক সংকটকে ত্বরান্বিত করে। মুদ্রাস্ফীতি তত্ত্ব অনুসারে, এটি মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, যা জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায়। তৃতীয়ত, এটি বিনিয়োগ ও সামাজিক ব্যয় (শিক্ষা, স্বাস্থ্য) হ্রাস করে, যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাণিজ্যিক ঋণের উচ্চ খরচ এই প্রবণতাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। এই চক্র ভাঙতে রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যয় দক্ষতা এবং দুর্নীতি নির্মূলের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন হয়, যা বাংলাদেশে সুদূরপরাহত।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ ঝুঁকি আরও বাড়বে একাধিক কারণে। প্রধানত, সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, একমাত্র পোশাক রপ্তানির ওপর অতিনির্ভরতা, প্রবাসী আয়ের অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের ফলে। দীর্ঘদিনের আর্থিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, রাজনীতিবিদের শাসনব্যর্থতা, আমলাশ্রেণির ঔপনিবেশিক মানসিকতা ও স্বার্থপরতার কারণে সৃষ্ট অভিজাতশ্রেণির দখলদারত্ব ও লুটপাটের কারণে যে ঋণভার সৃষ্টি হয়েছে, তা এখন সামষ্টিক অর্থনীতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ফেলছে। এমন অবস্থায় অর্থনীতির গভীরে গেলে এবং নীতিনির্ধারকদের ধনীতুষ্টিকর প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে নির্দ্বিধায় বলা যায়, দেশ ইতোমধ্যেই লাল অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। কারণ, ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৪০ শতাংশ হওয়ার তত্ত্ব ধনিকশ্রেণির পৃষ্ঠপোষকতাকারী ও রক্ষক বিশ্বব্যাংক-আইএমএফেরই সৃষ্টি। এমন প্রেক্ষাপটে যে নীতিই গ্রহণ করা হোক না কেন, বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও সংস্কার বিপ্লবী না হওয়ায় নির্বাচিত সরকারকে মধ্যম-দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের দায়িত্ব নিতে হবে, যা সমস্যার টেকসই সমাধান নয়। এর মধ্যে আবার রাজনীতিবিদ-আমলা-ব্যসায়ীদের লুটপাট ও নিজেদের আখের গোছানো মানসিকতা অটুট থাকলে বাংলাদেশকে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে। কারণ, এর সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মন্দা ও দুর্বল কাঠামোসমৃদ্ধ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে। দেশের প্রতি ন্যূনতম ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থাকলে নীতিনির্ধারকদের আইএমএফ তো বটেই নিজেদেরই ডলার ও শক্তিশালী বিদেশি মুদ্রায় সুদাসল শোধকেন্দ্রিক ঋণগ্রহণের নির্দিষ্ট একটি সীমা নির্ধারণ করে, তা মেনে চলতে হবে। নজরদারির জন্যে ‘কোয়ার্টারলি ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস’ চালু করতে হবে। বেসরকারি খাত ও প্রকৃত সিভিল সোসাইটিসহ জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। এমনটি না-হলে ২০২৭-২৮ সালের পর বাংলাদেশকে অবধারিতভাবে ঋণের ‘লাল নালা’য় পড়ে হাবুডুবু খেতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা