× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গণভোট

জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৪২ এএম

জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হোক

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি জুলাই জাতীয় সনদ। চূড়ান্ত হলে এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবেÑ এ নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল অনেকটাই প্রকাশ্যে। এমন বাস্তবতায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে একটা সুসংবাদ জানা গেল। বার্তাটি হলো জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো অভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি অর্জনের পথ আরেক ধাপ এগোল বলে আমরা মনে করি। তবে সনদে নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকবে কি না, তা নিয়ে মতভিন্নতা এখনও দূর হয়নি। মতদ্বৈধ কাটেনি গণভোট অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ নিয়েও। বিএনপি চাইছে, নোট অব ডিসেন্টসহ সনদের ওপর গণভোট হোক। দলটির নীতিনির্ধারকরা সুস্পষ্টতই বলছেন, জুলাই সনদ নোট অব ডিসেন্ট সমেত স্বাক্ষরিত হবে। এ-সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামায় রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করবে। তা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর ইশতেহারে থাকবে। জনগণ জানবে জুলাই সনদে কী আছে। যারা সরকার গঠন করবেন, তারা তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুসারে কাজ করবেন। তবে জামায়াতে ইসলামী ও নাগরিক পার্টিসহ কয়েকটি দল চাইছে গণভোটের আগেই নোট অব ডিসেন্টগুলো মীমাংসা করতে। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চায় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হোক। 

সব মিলিয়ে মত-দূরত্ব কিছুটা থাকলেও, গণভোটের ব্যাপারে যে কারও আপত্তি নেই সেটা স্পষ্ট। তবে আশার কথা, আগামীকাল বুধবার কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর চূড়ান্ত বৈঠকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসবে। ধারণা করা হচ্ছে, সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ অক্টোবরের মধ্যেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে দলগুলো। রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দেশের ২৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। 

৬ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘গণভোটে রাজি সব দল, তবে-’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য। প্রতিবেদন বলছে, জুলাই সনদে মোট ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবগুলো গণভোটে যাবে না। ব্যালটে উল্লেখ থাকবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’Ñ এই সিদ্ধান্তে জনগণ তাদের রায় দেবেন। বৈঠক শেষে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে রাজনৈতিক দলগুলো একটি জায়গায় আসার জন্য সচেষ্ট হয়েছে। ফলে গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান তৈরি হলো। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমরা ফাইনাল স্টেজে আছি। সনদে কী থাকবে তা জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকবে। এই ক্ষেত্রে জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনি ভিত্তির জন্য গণভোটের বিষয়ে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে দূরত্ব কমে এসেছে। তার দাবি, গণভোট নির্বাচনের আগে হোক। অন্যান্য রাজনৈতিক দলও জুলাই সনদ নিয়ে তাদের নিজ নিজ দলের মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

এ কথা সত্য যে, ২৪-এর জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘গণভোট’ শব্দটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, সংবিধান সংশোধন, কিংবা বড় কোনো নীতিগত প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়ার বিষয়টি গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। সহজ করে বললে, গণভোট মূলত একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি অংশ নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা হচ্ছে এই প্রক্রিয়া কার্যত কখনোই সর্বজনীনতা পায়নি। ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালের সামরিক শাসনামলে সময়ের প্রেক্ষাপটে গণভোট হয়েছিল, কিন্তু সেই ভোট কতটা জন-আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে ছিল, তা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন এটা সত্য। যদিও রাজনৈতিক দলগুলো একযোগে গণভোটের কথা বলছে, ঐকমত্যে পৌঁছার কথা বলা হচ্ছেÑ তারপরও প্রশ্ন জাগে এটি কি সত্যিকার অর্থে গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, নাকি কেবল রাজনৈতিক কৌশল?

মানতেই হবে, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট হলো রাজনৈতিক আস্থাহীনতা এবং অস্থিরতা। দলগুলো পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে, জাতীয় ইস্যুতেও ঐকমত্য গড়ে ওঠা কঠিন। এবার গণভোটের ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা দেখছেন কেউ কেউ। কারণ, গণভোট পরিচালনার জন্য স্বাধীন প্রশাসন, অবাধ প্রচার ও মতপ্রকাশের নিশ্চয়তা জরুরি, যা কার্যত এখনও অনুপস্থিত। গণভোট সফল করতে হলে প্রথম শর্ত হলো, বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থের বাইরে গিয়ে একটি নিরপেক্ষ ভোটব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়া। জনগণকে বোঝাতে হবে, স্পষ্ট করতে হবেÑ তাদের ভোটই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কিন্তু হতাশার চিত্র, অতীত নির্বাচনী ব্যবস্থা সেই সাক্ষ্য দেয় না।

এদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের মূলে যেহেতু জনগণ, তাই গণভোট সেই ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করতে পারে। সব রাজনৈতিক দল যেহেতু গণভোটে রাজিÑ এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক সংকেত। এই গণভোটের সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে আগামীর নতুন বাংলাদেশ। ভুলে গেলে চলবে না, জুলাই সনদ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই তা বাস্তবে রূপ পেতে পারে। জুলাই সনদ চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, জনগণের মাধ্যমেই এটিকে সুরক্ষিত করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেÑ জুলাই সনদকে একটি আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা