× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

অনিশ্চয়তায় আগাম আলু চাষ

অলিউর রহমান ফিরোজ

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাজার অনিশ্চিত রেখেই দেশে আবার আগাম আলু চাষ শুরু হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা আগাম আলু চাষ করে মৌসুমের অনেক আগেই নতুন আলু নিয়ে বাজারে হাজির হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর পুরনো আলু নিয়েই কাঁদছে কৃষক। কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের এ বছর আলু নিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সে অবস্থায় কিছু কৃষক আগাম আলু চাষের জন্য মাঠ প্রস্তুত করছেন। আর এখানেই আশঙ্কাটা বিরাজ করছে। যেখানে পুরনো আলু বের করার জন্য হিমাগারগুলো সময়সীমা এখনই বেঁধে দিয়েছে সে অবস্থায় নতুন আলু যদি বাজারে চলে আসে তাহলে তারাও কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাবেন বলে মনে হয় না। 

অন্য বছর যেখানে একজন কৃষক আগাম জাতের আলু উত্তোলন করে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছিলেন। তার কারণ তখন পুরনো আলুই বিক্রি হচ্ছিল ৮০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু এ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখন খুচরা আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে। আর পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকা দরে। এদিকে হিমাগারে যে আলু আছে তা এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। তা বিক্রি করে পুঁজি পর্যন্ত উঠবে তো দূরের কথা হিমাগার খরচও পাওয়া যাবে না। ক্রেতাদের অভাবে আলু বের করে তা এখন ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই কৃষকের। একদিকে যেমন হিমাগার মালিকরা আলু নিয়ে বিপদে পড়েছেন অন্য দিকে বাজার বিপর্যয়ের শিকার হওয়ায় কৃষকের দুর্দশা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এখনও হিমাগারগুলোতে অর্ধেকের বেশি আলু মজুদ রয়েছে। সেখানে নতুন আলু বাজারে এলেও তাদের আশা-ভরসা মূলত নিরাশায় পরিণত হবে। 

সরকার কৃষকের আলুর মূল্যে হিমাগারের গেটে ২২ টাকা দর বেঁধে দিলেও তা কার্যকর হয়নি। আর ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু কেনার কথা ছিল তাও সরকার কেনেনি। কৃষকের দুর্দশায় রাষ্ট্রকে যেভাবে তাদের পাশে পাওয়ার কথা ছিল তার সিকি ভাগও তারা পায়নি। রপ্তানির জন্য দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এগিয়ে আসেনি। সরকার উদ্যোগ নিলে অনেক বন্ধুদেশে আলু ব্যাপক রপ্তানি করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সব আশা যেন এখন কৃষকের মরে গেছে। তাই এবার কৃষকের স্লোগান উঠেছে, ‘আর করব না আলু চাষ, দেখব তোরা কী খাস’ বিষয়টি হাস্যকর শোনা গেলেও আমাদের বাস্তবতায় কৃষকরা যদি এ বছর আলু চাষ থেকে বিরত থাকে তাহলে খাদ্য সংকট আরও বাড়বে। এক চালের বাজার কোনোকিছুতেই সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তার কারণ চাল পচনশীল নয়। তা কয়েক বছর রাখা যায়। তাতেই চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। তাহলে কৃষক যে স্বপ্ন নিয়ে আবারও আগাম আলু চাষ শুরু করেছেন তা পূরণ হওয়ার মতো নয়। একদিকে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে সার এবং কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে না। বেশি দামেই তাদের ক্রয় করতে হচ্ছে। কৃষকের শ্রমিক মজুরি বেশি, সার ও কীটনাশকের দামও কম নয়। তাহলে তারা এখন যাবে কোথায়? কৃষক শীতকালীন শাকসবজিতে মার খাচ্ছেন, পেঁয়াজ চাষ করে কৃষককে আত্মহত্যা করতে হচ্ছে, আলু চাষ করে কৃষকের চোখের পানি ঝরছে, ধান-চালে সিন্ডিকেট। এমন অনিশ্চয়তার বাজারে কৃষকের বেসামাল দশা হলে তা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর গিয়ে বর্তায়। এ পরস্থিতি উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র কি এভাবেই নিশ্চুপ থাকবে? নাকি তাদের পাশে দাঁড়াবে, সেটাই এখন কৃষক জানতে চায়।


  •  মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা