ইমেইল থেকে
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫৯ এএম
বর্তমানে বিশ্বে পর্যটকের সংখ্যা ১৪০ কোটির বেশি এবং ২০২৫ সালের মধ্যে তা ২০০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটন খাত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোটি কোটি মানুষকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করেছে। এশিয়ার দেশগুলো পর্যটনে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্ভাবনা : পাহাড় ও চা-বাগান: সাজেক, বান্দরবান-রাঙামাটি, জাফলং। নদী ও হাওর: তাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, কুশিয়ারা নদী। সমুদ্র সৈকত: কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, কুয়াকাটা, মহেশখালী, টেকনাফ। বন ও জীববৈচিত্র্য: সুন্দরবন, হিজল-তমাল বন, পাহাড়ি বনাঞ্চল। ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সংস্কৃতি: লালবাগ দুর্গ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, মসজিদ ও মন্দির।
সম্ভাবনাময় খাতসমূহ : নৌ পর্যটন: কাপ্তাই, রাঙামাটি, খুলনা ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে। আন্তর্জাতিক মানের নৌপরিষেবা এবং দক্ষ গাইডরা এই খাতকে সমৃদ্ধ করতে পারে। হাওর পর্যটন: শীতকালীন অতিথি পাখি ও বর্ষার ছোট দ্বীপ। বিশেষ রাস্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজন। স্পোর্টস ট্যুরিজম: নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, গ্রামীণ ক্রীড়া আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়। ইসলামিক পর্যটন: মসজিদ, ইজতেমা, ধর্মীয় স্থাপনা। সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক প্রচারণা এ খাতকে বিস্তৃত করতে পারে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন: সুন্দরবন, হাওর, নদী ও বনাঞ্চল সংরক্ষণ। দূষণমুক্ত ও টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করা জরুরি।
চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা: দুর্বল অবকাঠামো: রাস্তা, পরিবহন, হোটেল। পর্যটকের নিরাপত্তা ও সেবা পর্যাপ্ত নয়। দক্ষ মানবসম্পদের অভাব। সমন্বিত জাতীয় পর্যটন নীতি ও আন্তর্জাতিক প্রচারণা ঘাটতি।
এর জন্য দরকার: জাতীয় পর্যটন নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে অবকাঠামো উন্নয়ন। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, নৌবন্দর ও পরিবহন। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রশিক্ষণ। আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিশেষ মনোযোগ।
৫৬ হাজার বর্গমাইলের ক্ষুদ্র এই দেশে নদী, হাওর, পাহাড়, সমুদ্র সৈকত, বন, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির সংমিশ্রণ বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে সীমাহীন করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।